একজন মানবতার ফেরিওয়ালা ও জুলাই গনঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহনকারী যোদ্ধা মেজর জেনারেল (অবঃ) প্রফেসর ডা. আজিজুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বর্তমান চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) প্রফেসর ডা. আজিজুল ইসলাম গত জুলাই/আগষ্ট ২০২৪ ছাত্র জনতার আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। নিয়মিত আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতৃস্থানীয় ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ রাখেন। তিনি মেডিসিন ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হওয়ায় জুলাই/আগষ্ট আন্দোলনে আহতদের দেখা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল, সোহরাওয়়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালে যান। আহতদের সুচিকিৎসার জন্য পরিচালকদের অনুরোধ করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের সাথেও কথা বলেন, যা টিভিতেও প্রচারিত হয়। তিনি আহতদের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল টিমকে অর্থ সহযোগিতাও করেন। মেজর জেনারেল (অবঃ) প্রফেসর ডা. আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিএমএইচ, ঢাকা ক্যান্সার সেন্টার বাংলাদেশের একটি আদর্শ ও সয়ংসম্পূর্ন ক্যান্সার সেন্টার যার সমকক্ষ একটি ক্যান্সার সেন্টারও বাংলাদেশে নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আর্ত মানবতার সেবাই নিয়োজিত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এটি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহায়কি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। বন্যা, সাইক্লোন, ঘুর্ণিঝড়সহ যেকোন দুর্যোগে সবার আগে সরকারের সাথে মিলেমিশে কাজ করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জাতীয় সদর দপ্তরে সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ১৪ তলা ফাউন্ডেশনের ১০ তলা বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে প্রথম তলার ছাদ ঢালায়ের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১ বছরের মধ্যে ১০ তলা ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে সকলে আশা করছি।
খুলনা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য জমি নিয়ে ঝামেলা ছিল। সেই জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের পথে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ লালদিয়ার চরে অবস্থিত চট্টগ্রামের বেস ডিপোতে ১২,৯০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ওয়ার হাউজ নির্মাণ কাজ চলমান। যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ শেষ হবে বলে আশা করছি। স্বাস্থ্য বিভাগের আন্ডারে ৫৬ টি মাতৃসদন সেন্টারে সেবার মান উন্নতিকরণের ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। ০৫ টা মাতৃসদনের মেরামত কাজ চলমান। হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, চট্টগ্রামের জেমিকন হাসপাতাল, বরিশাল রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল সহ ব্লাড সেন্টারের সেবার মান উন্নতি করা হয়েছে। রোগী বৃদ্ধির জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ, রক্ত ডোনেশন, ব্লাড সেন্টারের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ, পরিবারের সাথে যোগাযোগ করায়ে দেওয়াসহ অন্যান্য কাজ আমি সহ কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং যুব স্বেচ্ছাসেবকরা করেছেন। আহতদের জন্য ঔষধ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। ২০২৪ এ জুলাই আহত ছাত্রদের সুচিকিৎসা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঐ প্রোজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের সকল হাসপাতালে জুলাই শহীদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসার দার খোলা আছে।
তিনি আরো বলেন, যে সকল সংস্কার এবং উন্নয়নমুলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে তাতে আগামী ৫/৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে আমুল পরিবর্তন আসবে। এখানে একটা সিন্ডিকেট ছিল। আমি সিন্ডিকেট অকার্যকর করতে স্বক্ষম হয়েছি। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।
মানবতার সেবাই নিয়োজিত সংস্থার লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হয়েছে। সোসাইটির ইমেজ/আস্থা দেশি ও বিদেশী পার্টনারদের কাছে অনেক বৃদ্ধি পেয়ে়ছে। তিনি বলেন, আমি আশা করি সময় পেলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটমুক্ত ক্লিন ইমেজের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গড়ে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।











