০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপদেষ্টাদের সম্পদবিবরণী প্রকাশ: শতকোটি টাকা বশিরের মাহফুজের ১২ লাখ

প্রতিনিধির নাম:
রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের পর নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম নেতা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সম্পদের পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার এ সম্পদ দেখানো হয়। এর আগে তার আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ছিল না। এবারই প্রথম তিনি আয়কর রিটার্ন জমা দেন। এছাড়া সাবেক তথ্য উপদেষ্টা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলমের মোট সম্পদ ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

এদিকে সরকারের শেষ সময়ে এভাবে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, স্বচ্ছতার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পালনের শুরুতেই সম্পদবিবরণী জমা দেওয়া উচিত ছিল। শেষ সময়ে এসে এভাবে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা প্রহসনের নামান্তর।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদ রয়েছে বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং আকিজ-বশির গ্রুপের কর্ণধার শেখ বশিরউদ্দীনের। তার সম্পদের পরিমাণ ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সম্পদের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। প্রায় ৫৫ কোটি টাকার (৪৬ লাখ ইউএস ডলার) সম্পদ রয়েছে তার। তবে এ সম্পদের বেশির ভাগই রয়েছে বিদেশে। এরপর সম্পদশালী উপদেষ্টাদের তালিকায় আছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তার মোট সম্পদ প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

আলোচিত উপদেষ্টাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের সম্পদের পরিমাণ বেশ কম। মাত্র ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে তার স্ত্রী শীলা আহমেদ কোটিপতি। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া পররাষ্ট্র, শিক্ষা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকারী উপদেষ্টার স্ত্রীরাও স্বামীর চেয়ে বেশ ধনী। দায়িত্ব পাওয়ার পর সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ বেড়েছে। বর্তমান তার সম্পদ প্রায় ৩ কোটি টাকা। আগে ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রীর সম্পদও বেড়েছে। কিছুটা সম্পদ বেড়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে (অব.) জাহাঙ্গীর আলমেরও।

বিবরণীতে গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান সম্পদ দেখিয়েছেন ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ সম্পদের একটি বড় অংশ হচ্ছে স্থাবর সম্পদ। এক বছর আগে যার মূল্য ছিল ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে এ বছর আয়কর রিটার্নে সেই সম্পদের মূল্য দেখানো হয় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আদিলুর রহমানের স্ত্রী সায়রা রহমান স্বামীর চেয়ে ধনী। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিক। সায়রা রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি। বিবরণীতে দেখা যায়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি। তবে তার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদ আগের চেয়ে কমেছে। বিগত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। বর্তমানে তার আছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা। এছাড়া পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের স্ত্রী জাহান আরা সিদ্দিকেরও সম্পদ কিছুটা কমেছে। বর্তমানে তার সম্পদ ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অন্য উপদেষ্টাদের মধ্যে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সম্পদও কমেছে। আগে তার সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ বছর সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ও তার স্ত্রীর সম্পদ কমেছে। নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সম্পদ কিছুটা বাড়লেও কমেছে তার স্ত্রীর সম্পদ। এছাড়া সম্পদ কমেছে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের স্বামী কে আসাদুজ্জামানেরও।

উপদেষ্টাদের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন জ্বালানি ও রেলওয়ে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় তার সম্পদ ছিল ৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। তবে বর্তমানে কিছুটা বেড়ে তার সম্পদ ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা হয়েছে। এ সময় তার স্ত্রী দিলরুবা কবিরের সম্পদ বেড়েছে ১০ লাখ টাকা।

দায়িত্ব পালনকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের সম্পদ প্রায় ২৫ লাখ টাকা বেড়েছে। উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। তবে প্রকাশিত বিবরণীতে তার বিদেশি সম্পদের কোনো তথ্য নেই। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ তার স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরীর চেয়ে ধনী। তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১১ কোটি টাকা। এছাড়া ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সম্পদ এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সম্পদ ১ কোটি টাকা। তবে তার স্বামী বিশিষ্ট কলামিস্ট ও চিন্তক ফরহাদ মজহারের সম্পদ ১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

সরকার যে হিসাব বিবরণী প্রকাশ করেছে সেখানে সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নাম দেখা যায়নি। এছাড়া প্রকাশিত সম্পদবিবরণীতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সম্পদের উল্লেখ নেই। দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেননি। তিনি বিদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ গত বছরের ১৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পদমর্যাদার বিশেষ সহকারী হিসাবে যোগদান করায় তার সম্পদবিবরণীও প্রকাশ করা হয়নি।

ফেসবুকে সম্পদবিবরণী প্রেস সচিবের : নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক অবস্থার বিবরণ তুলে ধরে স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার শাহীনবাগে একটি ও দনিয়ায় বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ও তার স্ত্রী দুজনেই ময়মনসিংহে একটি করে অ্যাপার্টমেন্টের মালিক। ব্যাংকে আছে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। যা তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি থেকে গ্র্যাচুইটি হিসাবে পেয়েছেন। এছাড়া মাগুরায় ৪০ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:২৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
২৩ বার পড়া হয়েছে

উপদেষ্টাদের সম্পদবিবরণী প্রকাশ: শতকোটি টাকা বশিরের মাহফুজের ১২ লাখ

আপডেট সময় ০৯:২৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের পর নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অন্যতম নেতা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সম্পদের পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার এ সম্পদ দেখানো হয়। এর আগে তার আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ছিল না। এবারই প্রথম তিনি আয়কর রিটার্ন জমা দেন। এছাড়া সাবেক তথ্য উপদেষ্টা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলমের মোট সম্পদ ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

এদিকে সরকারের শেষ সময়ে এভাবে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, স্বচ্ছতার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পালনের শুরুতেই সম্পদবিবরণী জমা দেওয়া উচিত ছিল। শেষ সময়ে এসে এভাবে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা প্রহসনের নামান্তর।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদ রয়েছে বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং আকিজ-বশির গ্রুপের কর্ণধার শেখ বশিরউদ্দীনের। তার সম্পদের পরিমাণ ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সম্পদের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। প্রায় ৫৫ কোটি টাকার (৪৬ লাখ ইউএস ডলার) সম্পদ রয়েছে তার। তবে এ সম্পদের বেশির ভাগই রয়েছে বিদেশে। এরপর সম্পদশালী উপদেষ্টাদের তালিকায় আছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তার মোট সম্পদ প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

আলোচিত উপদেষ্টাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের সম্পদের পরিমাণ বেশ কম। মাত্র ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে তার স্ত্রী শীলা আহমেদ কোটিপতি। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া পররাষ্ট্র, শিক্ষা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকারী উপদেষ্টার স্ত্রীরাও স্বামীর চেয়ে বেশ ধনী। দায়িত্ব পাওয়ার পর সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ বেড়েছে। বর্তমান তার সম্পদ প্রায় ৩ কোটি টাকা। আগে ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রীর সম্পদও বেড়েছে। কিছুটা সম্পদ বেড়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে (অব.) জাহাঙ্গীর আলমেরও।

বিবরণীতে গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান সম্পদ দেখিয়েছেন ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ সম্পদের একটি বড় অংশ হচ্ছে স্থাবর সম্পদ। এক বছর আগে যার মূল্য ছিল ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে এ বছর আয়কর রিটার্নে সেই সম্পদের মূল্য দেখানো হয় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আদিলুর রহমানের স্ত্রী সায়রা রহমান স্বামীর চেয়ে ধনী। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিক। সায়রা রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি। বিবরণীতে দেখা যায়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি। তবে তার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদ আগের চেয়ে কমেছে। বিগত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। বর্তমানে তার আছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা। এছাড়া পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের স্ত্রী জাহান আরা সিদ্দিকেরও সম্পদ কিছুটা কমেছে। বর্তমানে তার সম্পদ ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অন্য উপদেষ্টাদের মধ্যে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সম্পদও কমেছে। আগে তার সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ বছর সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ও তার স্ত্রীর সম্পদ কমেছে। নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সম্পদ কিছুটা বাড়লেও কমেছে তার স্ত্রীর সম্পদ। এছাড়া সম্পদ কমেছে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের স্বামী কে আসাদুজ্জামানেরও।

উপদেষ্টাদের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন জ্বালানি ও রেলওয়ে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় তার সম্পদ ছিল ৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। তবে বর্তমানে কিছুটা বেড়ে তার সম্পদ ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা হয়েছে। এ সময় তার স্ত্রী দিলরুবা কবিরের সম্পদ বেড়েছে ১০ লাখ টাকা।

দায়িত্ব পালনকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের সম্পদ প্রায় ২৫ লাখ টাকা বেড়েছে। উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। তবে প্রকাশিত বিবরণীতে তার বিদেশি সম্পদের কোনো তথ্য নেই। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ তার স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরীর চেয়ে ধনী। তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১১ কোটি টাকা। এছাড়া ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সম্পদ এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সম্পদ ১ কোটি টাকা। তবে তার স্বামী বিশিষ্ট কলামিস্ট ও চিন্তক ফরহাদ মজহারের সম্পদ ১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

সরকার যে হিসাব বিবরণী প্রকাশ করেছে সেখানে সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নাম দেখা যায়নি। এছাড়া প্রকাশিত সম্পদবিবরণীতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সম্পদের উল্লেখ নেই। দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেননি। তিনি বিদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ গত বছরের ১৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পদমর্যাদার বিশেষ সহকারী হিসাবে যোগদান করায় তার সম্পদবিবরণীও প্রকাশ করা হয়নি।

ফেসবুকে সম্পদবিবরণী প্রেস সচিবের : নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক অবস্থার বিবরণ তুলে ধরে স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার শাহীনবাগে একটি ও দনিয়ায় বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ও তার স্ত্রী দুজনেই ময়মনসিংহে একটি করে অ্যাপার্টমেন্টের মালিক। ব্যাংকে আছে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা। যা তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি থেকে গ্র্যাচুইটি হিসাবে পেয়েছেন। এছাড়া মাগুরায় ৪০ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে।