মুখ্য ভুমিকায় ডা: বয়জার রহমান: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ১১৫ ড্রাইভার নিয়োগে ৩ কোটি টাকার বাণিজ্য!
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন” প্রকল্পে ১১৫ জন ড্রাইভার নিয়োগে ৩ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গুরুতর অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এতে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানাগেছে, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে’ ১১৫ জন ড্রাইভার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর ১২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা।
সূত্র বলছে, নিয়োগ কমিটির সভাপতি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বয়জার রহমান আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তার পছন্দের লোকদের নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি বিএনপি নেতাদের সমন্বয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
যদিও প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগের মূল নিয়ন্ত্রণ থাকে প্রশাসন শাখার হাতে। যেটির নেতৃত্বে রয়েছেন ডা. বয়জার রহমান। প্রকল্প কর্মকর্তারা এখানে তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয়। অফিস সহায়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে জানা গেছে।
আরও জানা যায়, ডা. বয়জার রহমান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজস্ব পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ১১৫টি পদের নিয়োগে ১০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ লেনদেনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক সরদার, রনজিৎ কুমার ও অফিস সহায়ক আব্দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছেন। মাথাপিছু ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অধিদপ্তরে গুঞ্জন চলছে।
ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা হয় সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে। নিয়োগ বোডেঅর অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে সভাপতির কাছ থেকেই। তাদের কার্যক্রম ছিল অনেকটাই প্রভাবহীন।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক পরীক্ষার্থী ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এতে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের। মোট ১৩০০ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও ৩৫১ জনের নাম প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়, যার মধ্য থেকে গত ০৫/০৫/২০২৫ তারিখে ১১৫ জন চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ কমিটিতে আরও ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিন, বিআরটিএ’র পরিদর্শক মুহাম্মদ অহিদুর রহমান, বিএলআরআই’র পিএসও ড. মো. শাহীন আলম, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস এবং অধিদপ্তরের পিইসি শাখার চীফ ডা. মো. হাবিবুর রহমান।
এই বিষয়ে পরিচালক প্রশাসন ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডা. বয়জার রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনেও তিনি সাড়া দেন নি।
এ বিষয়ে কয়েকজন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সমন্বয়কদের সাথে কথা বললে তারা জানান, বর্তমান সরকার আমলে সরকারী কোন নিয়োগে ঘুস গ্রহন আমরা মেনে নেবো না। এ বিষয়ে আমরা উপদেষ্টা মহোদয়ের সাথে কথা বলবো। পরিচালক প্রশাসন ডা: বয়জার রহমানকেও জবাবদিহি করতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা দুদক চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানান।
















