ডিজি হওয়ার দৌড় প্রতিযোগিতা চলছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরেঃ সকল পর্যায়ের কর্মকতা- কর্মচারীরা বর্তমান ডিজির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ চান
- বিশেষ প্রতিবেদক
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক ডা: মোহাম্মদ রেয়াজুল হকের সরকারী চাকুরীর মোয়াদ আগামী ৩০/১২/২৪ ইং তারিখে শেষ হবে। এর মধো শুরু হয়েছে ডিজির পদ পেতে দৌড় প্রতিযোগিতা ।
গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী ১ নং এ আছেন ড. জাকির হোসেন। ড. জাকির বর্তমানে ভিটিআই ময়মনসিংহ এ পরিচালক হিসাবে কর্মরত আছেন। ড. জাকির হোসেনের পিতা ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের
বিএনপিপন্থী শিক্ষক এবং ড. জাকির বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় বিগত স্বৈরাচারী সরকার তাকে কোন সময় ভাল অবস্থানে পোস্টিং দেয়নি। ড. জাকিরের চাকুরীর মেয়াদ আছে মাত্র ২ মাস।
সকলের ধারনা ছিল বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পরে তার ভাল পোস্টিং হবে কিন্তু তা হয়নি। পরের অবস্থানে আছে পরিচালক ডা: আবু সুফিয়ান । তিনি পরিচালক ( বাজেট )হিসাবে কর্মরত
থাকাকালীন সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রহমান তাকে বরিশালে বদলী করেন। ছাত্র জীবনে শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তিনি আওয়ামী সরকারের ১৬ বছরই ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ডিজি পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য তদবির করে চলেছেন।
ডিজি পদের জন্য আরেকজন প্রতিযোগীতায় রয়েছেন ডা: বয়েজার রহমান । তিনি গ্রেডেশনে ২২ নং এ থাকলেও ৫ই আগস্ট এর পর পরই পরিচালক প্রশাসনের পদটি দখল করে নেন। তিনি বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত। কিন্তু তিনি কোন সময় প্রশাসনিক কোন গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব। পালন করে নি।
অধিদপ্তরের সকলেই একমত যে ডিজি পদের জন্য যারা চেস্টায় রয়েছেন তাদের কেউই বর্তমান পরিস্তিতিতে অধিদপ্তরের কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতে সক্ষমতা বা সে অভিজ্ঞতা নেই।
এ ধরনের একটা শুন্যতা যাতে না আসে সে জন্য অধিদপ্তরের সকল পর্যায়ের কর্মকতারা সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সাথে দেখা করে তাদের মতামত জানিয়ে বর্তমান ডিজিকে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার পক্ষে তাদের মতামত দিয়ে এসেছেন।
প্রসংগত উল্লেখ্য যে , অধিদপ্তরের বর্তমান ডিজি ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক ছাত্র জীবন হতে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত । তিনি ১৯৮৮-৮৯ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালযের শামসুল হক হলের ছাত্র দলের সাধারন সম্পাদক ছিলেন এবং ১৯৯০ সালে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্র দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ডা. রেয়াজুল তিনি ১৯৮৭ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রথম শ্রেনীতে ডিভিএম ডিগ্রী পাশ করেন এবং ১৯৮৯ সালে এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন।
মেধাবী এ কর্মকতা চাকুরী জীবন শুরু করেন কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালে যোগদানের মাধ্যমে। কিন্তু বিএনপিপন্থী হওয়ায় তিনি বেশী দিন ঢাকায় চাকুরী করতে পারেন নি। তাকে বদলী করা হয় চট্রগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায়।
তিনি যেখানেই চাকুরী করেছেন সেখানে সাফল্যের ছাপ রেখেছেন। তিনি সার্বক্ষনিক খামারীদের সাথে সম্পর্ক রেখে তাদের উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২১ সালে ডিম, মুরগী, গরুর মাংসের মুল্য লাগামহীন এবং নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়ায় তৎকালীন মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম তাকে দীর্ঘ দিন পরে ঢাকায় পরিচালক উৎপাদন হিসাবে বদলী করে আনেন এবং তাকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব প্রদান করেন।
ডাঃ মোহাম্মদ রেয়াজুল হক দায়িত্ব বুঝে নিয়েই ঝাপিয়ে পড়েন বাজার তদারকিকে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের। তিনি রমজান মাসে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত রাস্তায় থেকে ন্যয্য মূল্যে ডিম, দুধ, গরু ও খাসীর মাংস ট্রাকের মাধ্যমে রাস্তায় বিক্রি করা শুরু করেন এবং খুব অল্প সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রনে সক্ষম হন।
তিনি সরকারী দায়িত্ব পালনে সক্ষমতার স্বাক্খর রাখায় তাকে পরিচালক প্রশাসনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তিনি পরিচালক প্রশাসনের দায়িত্ব নেয়ার পর পরই বিএনপি পন্থী অনেক কর্মকতাকে তাদের কাংখিত দপ্তরে বদলী, বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করেছেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারীতে ডিজির পদটি শুন্য হওয়ায় অনেকেই চেষ্টা করেছিলেন দায়িত্ব নেয়ার । কিন্তু আওয়ামীপন্থী উপযুক্ত কর্মকতা না থাকায় কর্মকতা কর্মচারীদের দাবীর মুখে উপযুক্ত ও যোগ্য কর্মকতা হিসাবে ডাঃ মোহাম্মদ রেয়াজুল হককে ডিজির চলতি দায়িত্ব প্রদান করে।
ডিজির দায়িত্ব পাওয়ার সাথে সাথে তিনি একাধিকবার বঞ্চিত বিএনপি / জামাতপন্থী কর্মকতাদের পদোন্নতি প্রদানের চেষ্টা করেন এবং সক্ষম হন। এদের মধো প্রমাণ পরিচালক প্রশাসন ডা: বয়েজার রহমান, পরিচালক বাজেট ডা: মো: সাইফুজ্জামান , পরিচালক , বিসিএস লাইভসটক একাডেমী , ডা: হুমায়ন কবির, পরিচালক ডা: জাকির হোসেন, পরিচালক, সিভিএইচ ডা: আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিচালক এলআরআই ড. মোস্তফা কামাল সহ অনেকেই।
এছাড়া তিনি জেলা/ উপজেলা পর্যায়ের শতাধিক বিএনপি/ জামাতপন্থী সাবেক ছাত্র নেতাদের পদোন্নতি প্রদানে অগ্রনী ভুমিকা রেখেছেন।
বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, তিনি বিগত জুলাই/ আগষ্ট ছাত্র আন্দোলনে অনেক আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করেছেন এবং আন্দোলনকে বেগবান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন যা অধিদপ্তরের বিএনপিপন্থী সকল কর্মকতারা এবং কৃষিবিদরা অবহিত আছেন।
যার ফলশ্রুতিতে ৫ই আগষ্ট ঢাকার সকল সরকারী দপ্তর আক্রান্ত হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কোন গোলযোগ হয়নি এবং ডিজিকে নিয়ে কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। কারণ তিনি বিগত ০৪/০৮/২৪ ইং তারিখের কথিত শান্তি মিছিলে সরকারের নির্দেশে উপস্তিত থাকলেও তার অধীনে কোন কর্মকতাকে উক্ত সমাবেশে যেতে বাধ্য বা নির্দেশ প্রদান করেন নি।
বর্তমানে যারা ডিজি পদের দাবীদার তাদেরও কথা বর্তমান ডিজির মেয়াদ বাড়ালে তাদের কোন আপত্তি নেই । উপরন্তু তারা তার অধীনে থেকে আরোও কাজ শিখতে চায়।
উল্লেখ্য তিনি বিএনপিপন্থী কর্মকতা বিষয়টি সরকারের গোয়েনদা সংস্থার রিপোটে উঠে আসলেও শুধু মাত্র তার যোগ্যতা ও সক্ষমতার কারণে তাকে গ্রেড -১ পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল।
অধিদপ্তরের সকল কর্মকতা -কর্মচারীদের দাবী বর্তমান ডিজিকে ন্যুনতম আরও ১ বছর চাকুরীতে বহাল রাখা হউক।












