চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ঘুস নেওয়া হয়েছে ২২ লক্ষ টাকা: ১৫ দিনের স্থলে ২০০ দিন পর দেওয়া হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন!
খুলনা ব্যুরো:
খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও ভুক্তিতে অনিয়মের বিষয়ে একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরোজমিনে তদন্ত করে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য খুলনা অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর শেখ হারুন অর রশিদকে আহবায়ক করে মহাপরিচালক,মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের দপ্তর হতে বিগত ০২/১/২৪ ইং তারিখে ৩৭.০২.০০০০.১০৫.২৭.০৫৬.২৩.১ সংখ্যক পত্রে ৩ সদস্য বিশিষ্ঠ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অপর ২ জন সদস্য হলেন, উপপরিচালক (কলেজ),মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চল, খুলনা এবং সহকারী পরিচালক (কলেজ), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চল, খুলনা।
উক্ত কমিটি বিগত ২৩/১/২৪ইং তারিখে গাভা আইডিয়াল কলেজ,সাতক্ষীরা এবং বিগত ২৪/১/২৪ ইং তারিখে আলিপুর আদর্শ মহিলা কলেজ, সাতক্ষীরা ও বল্লী আইডিয়াল সেকেন্ডারী গার্লস স্কুল, সাতক্ষীরা ও অপর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরোজমিনে পরিদর্শন করে। অভিযোগ গুলির মধ্যে অন্যতম ছিল, আলিপুর আদর্শ মহিলা কলেজের কোন প্রকার অবকাঠামে না থাকা,মাত্র ৮ জন ছাত্রী (কাম্য সংখ্যক ছাত্রী না থাকা) ও চাহিদা মোতাবেক জমি না থাকা এবং অপর গুলির কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী না থাকা, পরীক্ষার রেজাল্ট সন্তোষজনক না হওয়া এবং চাহিদা মোতাবেক জমি ও স্থাপনা না থাকা।
জানামতে পরিদর্শন টিম সরোজমিনে পরিদর্শনকালে অভিযোগ গুলির সত্যতা পায়। কিন্তু দূ:খ জনক হলেও সত্য দীর্ঘ ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করার নির্দেশনা থাকলেও দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস (২০০ দিন) পর একটি অসত্য প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
একাধিক সুত্র হতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কমিটি আলিপুর আর্দশ মহিলা কলেজের নিকট হতে ১০ লক্ষ টাকা, ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান হতে ৪ লক্ষ করে টাকা হারে মোট ২২ লক্ষ টাকা ঘুস নিয়ে প্রতিবেদন প্রদান তৈরি করে জমা দিয়েছে। কেন না- সরোজমিনে প্রাপ্ত তথ্যাদি মোতাবেক প্রতিবেদন জমা দেয়া হলে উক্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের এমপিও বাতিল হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহবায়ক প্রফেসর হারুন অর রশিদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রতিবেদন প্রদানে বিলম্বিত হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতি কেন চেপে যাওয়া হয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে বলেন,তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলোর সত্যতা পায়নি।
তবে তার এই কথার সাথে একমত পোষণ করেন নি। এলাকাবাসী ও অভিযোগকারীরা। তারা জানান যেহেতু সত্য প্রতিবেদন দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিও বাতিল হয়ে যাবে সেহেতু তারা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে তঞ্চকতামূলক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তারা বিষয়টি অন্য কোন সংস্থা দ্বারা তদন্তের দাবী জানিয়েছেন।
















