৯০০‘র স্থলে মাত্র ১৯৯ পদের প্রস্তাব: অদক্ষ,অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কবলে বিসিক!
বিশেষ প্রতিবেদক
বিসিকের প্রশাসন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার অদক্ষতা, অযোগ্যতা,আন্তরিকতার অভাব, সরকারী দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং উদাসীনতা প্রদর্শন, এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে ক্ষতিগ্রস্থকরণ প্রভৃতি বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এবং অসংখ্যবার গণমাধ্যমে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিসিকের জনবল বিষয়ে সংসদীয় কাজে ব্যবহারের জন্য প্রণীত এবং প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রেরণ এবং দাপ্তরিক কাযর্ সম্পাদনের ক্ষেত্রে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত ভাবে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করণ নিয়মে পরিণত হয়েছে বিসিকের প্রশাসন বিভাগের দুজন কর্মকর্তার বে-আইনী কার্যক্রমে। এ দুজন কর্মকর্তা হচ্ছেন কর্মী ব্যবস্থাপনা শাখা প্রধান- মোঃ নাজমূল হোসেন, অপরজন কর্মী ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান।
প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বিধান হচ্ছে-সরকারী নিয়মাচার। প্রশাসনিক কাজ সম্পাদনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বা পর্যায়ে রয়েছে সরকারী বিধান। উক্ত দুজন কর্মকর্তা সরকারী নিয়মনীতির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে তাদের খেয়াল খুশী মত কাজ করে যাচ্ছেন। বিস্তর অনিয়মকারী কর্মকর্তাদের নেই কোন জবাবদিহীতা। তাদের প্রতি সদয় তাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ। যার ফলে সুশাসন এবং আইনের শাসনের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে বিসিকের কর্মকান্ডে। তাদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং উদাসীনতা পরিচয় মেলে না এ রকম ঘটনা খুঁজে বের করা কঠিন। সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত মোঃ নাজমুল হোসেন এবং মোঃ আরিফ হোসেন অদক্ষ, অযোগ্য, সরকারী কাজে অবহেলা এবং উদাসীনতা প্রদর্শনকারী। এ দু‘জন প্রশাসন বিভাগে স্বপদে বহাল থাকার বিষয়টি সত্যিকার অর্থে রহস্যজনক ব্যপারই বটে।
গত ২৭ মে ২০২৪ তারিখে জনবল নিয়োগ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর এবং মিথ্যা তথ্য সম্বলিত প্রস্তাব শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের বিষয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের হাতে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে। তথ্যমতে শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত বিসিকে ৩য়-১৬ গ্রেডে জনবল নিয়োগের ছাড়পত্র প্রস্তাবটি বিভ্রান্তিকর, অসংগতিপূর্ণ, অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিধিবহির্ভুত প্রস্তাব। প্রেরিত প্রস্তাবে অস্ংগতির বিষয়গুলো হচ্ছে- ১২ মার্চ ২০২৪ তারিখের প্রেরিত পত্রের মাধ্যমে ১৯২টি পদের ছাড়পত্র প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছিল। ২৭ মে ২০২৪ তারিখের প্রেরিত পত্রের মাধ্যমে ১৯৯টি পদের ছাড়পত্র প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। পদ ভিত্তিক জনবলের সংখ্যায় তারতম্য ঘটানো হয়েছে, যা সরকারী কাজে অবহেলা প্রদর্শন, উদাসীনতা প্রদর্শন, খামখেয়ালীপূর্ণ এবং সরকারের বিদ্যমান নির্দেশনার অবমাননা। বিসিকের বর্তমান শুন্যপদ এবং নিয়োগের ছাড়পত্র প্রস্তাবটিতে বৈষম্যমূলক আচরণের চিত্র সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। কর্মকর্তা কর্মচারী মিলে প্রায় ৯০০ পদ শুণ্য থাকা অবস্থায় ১৯৯ জনের নিয়োগ ছাড়পত্র প্রস্তাব যৌক্তিক বিবেচিত হতে পারেনা।
মোঃ নাজমুল হোসেন এবং মোঃ আরিফ হোসেন এ দুজন কর্মকর্তার অদক্ষতার, অযোগ্যতার, সরকারী দায়িতে অবহেলা ও উদাসীনতা প্রদর্শনের এখানেই শেষ নয়। ০৬ জুন ২০২৪ তারিখে বিসিক স্মারক নং-১০০২১ এর মাধ্যমে ০১-০৭-২০২৪ হতে ৩০-০৬-২০২৫ সময়ের মধ্যে আবসর উত্তর ছুঁটিতে গমনকারীদের চূড়ান্ত তালিকায় একই ব্যক্তি মোঃ নুরুল আমিন, ক্যাশিয়ার, হিসাব ও অর্থ বিভাগ, সংযুক্ত উচ্চমান সহকারী, দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিভাগ, বিসিক, ঢাকাকে ৩০ নং ক্রমিকে একবার এবং ৩৩ নং ক্রমিকে আরেকবার মোঃ নুরুল আমিন, ক্যাশিয়ার, হিসাব ও অর্থ বিভাগ, সংযুক্ত প্রযুক্তি বিভাগ,বিসিক, ঢাকা মর্মে তালিকাভুক্ত করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে নাম, জন্ম তারিখ, মূল বেতন এবং অবসর উত্তর ছুঁটিতে গমনের তারিখ এক এবং অভিন্ন দেখানো হয়েছে। শুধুমাত্র সংযুক্ত দেখানো হয়েছে দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিভাগ,বিসিক, ঢাকা একবার, আরেকবার দেখানো হয়েছে সংযুক্ত প্রযুক্তি বিভাগ, বিসিক, ঢাকা। অদক্ষ, অযোগ্য, সরকারী দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও উদাসীনতা প্রদর্শনের আর কোন প্রমাণের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। এ বিষয়ে সরকারের আর্থিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।
একই ব্যক্তিকে দু‘বার আবসরউত্তর ছুটির প্রস্তাব উপস্থাপক মোঃ আরিফ হোসেন এবং মাধ্যম মোঃ নাজমুল হোসেন, আর প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছেন পিআরএলএ যাওয়ার আগে বেপরোয়া মনোভাব পোষণকারী, বৈষম্যমূলক আচরণকারী বিসিক চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার ভৌমিক। বিধিবহির্ভুত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ এবং অদক্ষতা, অযোগ্যতা, সরকারী দায়িত্বে অবহেলা এবং উদাসীনতা প্রদর্শন বিষয়টি সুস্পষ্ট সরকারী চাকুরী শৃংখলা বিধির লংঘন। কঠোর নজরদারী এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব শিল্পমন্ত্রণালয়ের এবং সরকারের বলে বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন।












