য়োগ দিয়েছেন তার আত্মীয়স্বজনদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম না মেনে গত তিন বছরে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পদে প্রায় দুই হাজার জনকে অ্যাডহক (চুক্তিভিত্তিক) ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন। শেষ সময়ে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য তিনি উঠেপড়ে লেগেছেন।অভিযোগ রয়েছে, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্য করেন। সিন্ডিকেটে রয়েছেন কয়েক জন চিকিৎসক ও প্রশাসনের কর্মকর্তা। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শতকোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন বলে চিকিৎসকদের একাংশ অভিযোগ করেছেন।
চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্য শুরু করেন তিনি। উনি কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা করতেন না—এমন অভিযোগ তাদের।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও স্বাচিপ নেতৃবৃন্দ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিয়োগ-পদোন্নতির বিষয়ে আপত্তি জানাতে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান সরকারের আমলে কোনো উপাচার্যের মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এরূপ পদোন্নতি ও নিয়োগবাণিজ্যের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিএনপির সময় এক ভিসির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছিল।
নতুন ভিসি নিয়োগ হওয়ায় বর্তমান ভিসির এখন রুটিন কাজ করার কথা। কিন্ত শারফুদ্দিন আহমেদ বিদায়ের আগে দুর্নীতির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বড় বাণিজ্যে নামেন। এর আগে ভিসির দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক ডা. কাদরি, অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান। তারা সুনামের সঙ্গেই তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ভিসি থাকাকালে বিএসএমএমইউর বেশির ভাগ উন্নয়ন হয়েছে। এরপর আসেন অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়াও সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখে কাজ করে গেছেন।
কিন্তু বর্তমান ভিসির আমলে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্নচিত্র। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবার মুখে মুখে তার দুর্নীতির কাহিনি।
এক হাজার বেডের সাব স্পেশালাইজড হাসপাতালটি তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে পারেননি। তার সময়ে ডাক্তারদের মধ্যে গ্রুপিং, দলাদলি ভয়াবহ রূপ নেয়। চিকিৎসকরা দায়িত্বপালনের চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন দলাদলিতে। চিকিৎসাসেবার মান তলানিতে ঠেকেছে। সম্প্রতি মারা যাওয়া আপিল বিভাগের এক বিচারকের পরিবার হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পরিবারের দাবি চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমান ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। তার আত্মীয়স্বজন অনেকে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া প্রতি নিয়োগে ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে বাণিজ্য করেছেন। সর্বশেষ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন সময়ে অ্যাডহকভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তিদের স্থায়ীকরণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অর্থ দুর্নীতির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম না মেনে গত তিন বছরে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পদে প্রায় ২ হাজার জনকে এডহক (চুক্তিভিত্তিক) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া এসব ব্যক্তির চাকরি স্থায়ীকরণ করতে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ আবার নিয়ম ভাঙছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতারা এ অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ীকরণ কমিটির মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে স্থায়ীকরণের জন্য ভাইভা নিতে যাচ্ছিলেন বর্তমান উপাচার্য, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এর আগে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিএসএমএমইউয়ের বর্তমান ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ-পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ মাহবুব-উল-আলম হানিফ।
এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. হাফিজুর রহমানকে কয়েক দফা ফোন করেও পাওয়া যায়নি।












