১২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিটিভির প্রধান প্রকৌশলী মুনীর আহমেদের বিরুদ্ধে ভুয়া বিলে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

প্রতিনিধির নাম:

 

রোস্তম মল্লিক

বাংলাদেশে টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান প্রকৌশলী মুনীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির উপকেন্দ্রের উন্নয়ন কাজ দেওয়া হয় পছন্দের ঠিকাদারকে। কিন্তু বাস্তবে কাজ না করেই ঠিকাদার ৪০ লাখ টাকার বিল তুলে নিয়ে গেছেন। এছাড়া পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অগ্রাহ্য করেন। সবকিছু ঠিক থাকার পরও ট্রান্সমিটার ক্রয়ে একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করেন তিনি। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে ১৬ মে বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিটিভির উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র ঘেঁটে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন দুদক টিমের সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিটিভির প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মুনীর আহমেদ বিটিভির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এমনকি বিটিভির বিভিন্ন উপকেন্দ্রের ছোট ছোট কাজ না করিয়েও ৪০ লাখ টাকা বিল তুলে নেওয়া হয়। এসব অনিয়মের বিষয় এখন তদন্ত করছে দুদক। দুদক টিম বিটিভির উন্নয়ন প্রকল্পের যাবতীয় দরপত্র ডকুমেন্ট ঘেঁটে অনিয়মের সত্যতা পায়।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের বড় বাজেটের দুটি প্রকল্পে মুনীর আহমেদ প্রকল্প পরিচালক হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া যে কোনো প্রকল্পের নথিতে প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে তার মতামতের গুরুত্ব থাকে। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ডিজিটাল টেরিস্ট্ররিয়াল সম্প্রচার প্রবর্তন প্রকল্পের এবং অটোমেশন প্রকল্পের মূল প্যাকেজের (সম্প্রচার যন্ত্রপাতি সরবরাহ) কাজ পায় বেলজিয়ামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৮০ কোটি টাকার ত্রুটিযুক্ত মালামাল বুঝে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিভির প্রধান প্রকৌশলী মুনীর আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম কিংবা র্দুর্নীতির ঘটনাই ঘটেনি। একটি চক্র হয়তো আমার পেছনে লেগেছে।

অংশীজন সভায় ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান’

নাট্যকার ও নাট্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে অংশীজন সভায় বক্তব্যের শেষে রাষ্ট্রীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ না বলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান প্রকৌশলী মুনীর আহমদ। পরে এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিটিভি কর্তৃপক্ষ। ১৫ অক্টোবর বিটিভির মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরে ওই শোকজ দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর নাট্যকার ও নাট্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিটিভির মহাপরিচালক উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আপনি (মুনীর আহমদ) সভায় বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে আপনি ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ না করে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ কথাটি উচ্চারণ করেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণের নির্দেশনা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনার আলোকে এ ধরনের আচরণ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর ২ (ঘ) (ই) অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। এই অসদাচরণের কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
জানা গেছে, মুনীর আহমদ বাংলাদেশ বেতারের একজন প্রকৌশলী। তাকে বিটিভিতে প্রকৌশলী হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাকে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয় বিটিভি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে মুনীর আহমদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিভিন্ন মাধ্যমে এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৩১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৩
৩৯৯ বার পড়া হয়েছে

বিটিভির প্রধান প্রকৌশলী মুনীর আহমেদের বিরুদ্ধে ভুয়া বিলে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

আপডেট সময় ০৭:৩১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৩

 

রোস্তম মল্লিক

বাংলাদেশে টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান প্রকৌশলী মুনীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির উপকেন্দ্রের উন্নয়ন কাজ দেওয়া হয় পছন্দের ঠিকাদারকে। কিন্তু বাস্তবে কাজ না করেই ঠিকাদার ৪০ লাখ টাকার বিল তুলে নিয়ে গেছেন। এছাড়া পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অগ্রাহ্য করেন। সবকিছু ঠিক থাকার পরও ট্রান্সমিটার ক্রয়ে একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করেন তিনি। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে ১৬ মে বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিটিভির উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র ঘেঁটে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন দুদক টিমের সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিটিভির প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মুনীর আহমেদ বিটিভির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এমনকি বিটিভির বিভিন্ন উপকেন্দ্রের ছোট ছোট কাজ না করিয়েও ৪০ লাখ টাকা বিল তুলে নেওয়া হয়। এসব অনিয়মের বিষয় এখন তদন্ত করছে দুদক। দুদক টিম বিটিভির উন্নয়ন প্রকল্পের যাবতীয় দরপত্র ডকুমেন্ট ঘেঁটে অনিয়মের সত্যতা পায়।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের বড় বাজেটের দুটি প্রকল্পে মুনীর আহমেদ প্রকল্প পরিচালক হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া যে কোনো প্রকল্পের নথিতে প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে তার মতামতের গুরুত্ব থাকে। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ডিজিটাল টেরিস্ট্ররিয়াল সম্প্রচার প্রবর্তন প্রকল্পের এবং অটোমেশন প্রকল্পের মূল প্যাকেজের (সম্প্রচার যন্ত্রপাতি সরবরাহ) কাজ পায় বেলজিয়ামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৮০ কোটি টাকার ত্রুটিযুক্ত মালামাল বুঝে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিভির প্রধান প্রকৌশলী মুনীর আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কোনো অনিয়ম কিংবা র্দুর্নীতির ঘটনাই ঘটেনি। একটি চক্র হয়তো আমার পেছনে লেগেছে।

অংশীজন সভায় ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান’

নাট্যকার ও নাট্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে অংশীজন সভায় বক্তব্যের শেষে রাষ্ট্রীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ না বলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান প্রকৌশলী মুনীর আহমদ। পরে এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিটিভি কর্তৃপক্ষ। ১৫ অক্টোবর বিটিভির মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরে ওই শোকজ দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর নাট্যকার ও নাট্যশিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিটিভির মহাপরিচালক উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আপনি (মুনীর আহমদ) সভায় বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে আপনি ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ না করে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ কথাটি উচ্চারণ করেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণের নির্দেশনা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনার আলোকে এ ধরনের আচরণ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর ২ (ঘ) (ই) অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। এই অসদাচরণের কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
জানা গেছে, মুনীর আহমদ বাংলাদেশ বেতারের একজন প্রকৌশলী। তাকে বিটিভিতে প্রকৌশলী হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। পরে তাকে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয় বিটিভি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে মুনীর আহমদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিভিন্ন মাধ্যমে এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি।