০১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তদন্ত কমিটির ওপর উচ্চ চাপ: নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে ৮ কোটি টাকার অবৈধ ‘পানামা সিডিসি’ বাণিজ্য!

প্রতিনিধির নাম:

 

বিশেষ প্রতিবেদক

সরকারি গেজেটেকে তোয়াক্কা না করেই নৌপরিবহন অধিদপ্তরে অবৈধভাবে পানামা সিডিসি (নাবিকের সনদ) বিক্রি করে লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মাসে গত কয়েক মাসে ৮ কোটি টাকা অবৈধ আয় করছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রথম দফায় ৮৮ টি ভুয়া পানামা সিডিসিধারীকে বাংলাদেশি সিডিসি প্রদানের সুপারিশ করে জন প্রতি ৮ লক্ষ টাকা করে ৩ কোটি ৫২ লক্ষ এবং পরের দফায় ১১২ জনকে সুপারিশ করে ৪ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই ২০০ জনকে সিডিসি প্রদানের কমিটিতে ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিনের সাথে ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার আবুল বাশার। যাকে ৮ কোটি টাকা থেকে মাত্র ৩৫ লক্ষ প্রদান করেন বলে বাশার তার নিকটজনদের কাছে অভিযোগ করেছেন।
পানামা সিডিসিধারীদের বাংলাদেশি সিডিসি প্রদানের দালাল হিসেবে কাজ করছেন জনৈক মাইনুদ্দিন, তোফায়েল, সিফেয়ারার ইউয়িনের আরিফ, ফিসারিজ এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশনের রাশেদি, ওসেন মেরিন একাডেমির মারুফ, এভারকিয়ারের আব্বাস প্রমুখ।
সুত্র মতে এইসব দালালের মাধ্যমে মোট ৪০০ জন পানামা সিডিসিধারীদের বাংলাদেশি সিডিসি প্রদানের জন্য জনপ্রতি ৪ লাখ করে সর্বমোট ১৬ কোটি টাকার চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শাহাদাত মিডিয়াম্যান ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। সকল আলোচনা ও টাকার লেনদেন শাহাদাতের মালিকানাধীন মতিঝিলের হোটেল আল রাব্বিতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় ২০০ সিডিসি’র সুপারিশ হওয়ার পর বাকি ২০০ জনের সিডিসি প্রদানের জন্য মহাপরিচালক মহোদয় কমিটি পরিবর্তন করে কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন ক্যাপ্টেন সাইদ আহমেদ কে দিয়ে কমিটি গঠন করলেও ক্যাপ্টেন গিয়াস উপর থেকে ফোন করিয়ে অবশিষ্ট ২০০ জনকে সিডিসি প্রদানের প্রশিক্ষণের সুপারিশ প্রদানের জন্য প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করছেন বলে ক্যাপ্টেন সাইদ আহমেদ মহাপরিচালকসহ তার সহকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছেন।

আরো জানাগেছে, প্রথম সুপারিশকৃত ২০০ জনের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য এনএমআই মাদারীপুর এর প্রিন্সিপালকে জনপ্রতি ১ লক্ষ টাকা প্রদানের জন্য প্রলোভন দেখালেও সে এই অবৈধ কাজ করতে অস্বীকার করলেও এনএমআই চট্টগ্রাম এর অর্থলোভী প্রিন্সিপাল আতাউর রহমান রাজি হয়ে যান।

এই সকল পানামা সিডিসিধারীদের অধিকাংশ সিডিসি ঢাকা আরামবাগের একটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো এবং শতভাগের অভিজ্ঞতার সিল ও পাসপোর্টের বহিঃগমন ও আগমন সিল ভুয়া বলে সšেদহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি নাবিক হিসেবে সিডিসি ন্যূনতম এস এস সি পাস করে সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে শারীরিক অন্যান্য যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তর অনুমোদিত নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৬ মাস মেয়াদি আবাসিক রেজিমেন্টাল প্রশিক্ষণ সহ সমুদ্রবিদ্যা ও ইংরেজিতে পড়াশুনা করতে হয়। তবে এসব ভুয়া পানামা সিডিসিধারীগণ অধিকাংশ অশিক্ষিত ও অযোগ্য হলেও এদের একমাত্র যোগ্যতা হচ্ছে হলো টাকা। গেজেট নং ১৮,০১৯.০১৮.০০.০০.০০৭.২০১০-১৯২ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর,ঢাকা,বাংলাদেশ থেকে গেজেট এর তথ্যগুলো পাওয়াগেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ জানান, এ বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:১০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩
২৯৭ বার পড়া হয়েছে

তদন্ত কমিটির ওপর উচ্চ চাপ: নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে ৮ কোটি টাকার অবৈধ ‘পানামা সিডিসি’ বাণিজ্য!

আপডেট সময় ০১:১০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩

 

বিশেষ প্রতিবেদক

সরকারি গেজেটেকে তোয়াক্কা না করেই নৌপরিবহন অধিদপ্তরে অবৈধভাবে পানামা সিডিসি (নাবিকের সনদ) বিক্রি করে লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মাসে গত কয়েক মাসে ৮ কোটি টাকা অবৈধ আয় করছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রথম দফায় ৮৮ টি ভুয়া পানামা সিডিসিধারীকে বাংলাদেশি সিডিসি প্রদানের সুপারিশ করে জন প্রতি ৮ লক্ষ টাকা করে ৩ কোটি ৫২ লক্ষ এবং পরের দফায় ১১২ জনকে সুপারিশ করে ৪ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই ২০০ জনকে সিডিসি প্রদানের কমিটিতে ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিনের সাথে ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার আবুল বাশার। যাকে ৮ কোটি টাকা থেকে মাত্র ৩৫ লক্ষ প্রদান করেন বলে বাশার তার নিকটজনদের কাছে অভিযোগ করেছেন।
পানামা সিডিসিধারীদের বাংলাদেশি সিডিসি প্রদানের দালাল হিসেবে কাজ করছেন জনৈক মাইনুদ্দিন, তোফায়েল, সিফেয়ারার ইউয়িনের আরিফ, ফিসারিজ এক্স ক্যাডেট এসোসিয়েশনের রাশেদি, ওসেন মেরিন একাডেমির মারুফ, এভারকিয়ারের আব্বাস প্রমুখ।
সুত্র মতে এইসব দালালের মাধ্যমে মোট ৪০০ জন পানামা সিডিসিধারীদের বাংলাদেশি সিডিসি প্রদানের জন্য জনপ্রতি ৪ লাখ করে সর্বমোট ১৬ কোটি টাকার চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শাহাদাত মিডিয়াম্যান ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন। সকল আলোচনা ও টাকার লেনদেন শাহাদাতের মালিকানাধীন মতিঝিলের হোটেল আল রাব্বিতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দফায় ২০০ সিডিসি’র সুপারিশ হওয়ার পর বাকি ২০০ জনের সিডিসি প্রদানের জন্য মহাপরিচালক মহোদয় কমিটি পরিবর্তন করে কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন ক্যাপ্টেন সাইদ আহমেদ কে দিয়ে কমিটি গঠন করলেও ক্যাপ্টেন গিয়াস উপর থেকে ফোন করিয়ে অবশিষ্ট ২০০ জনকে সিডিসি প্রদানের প্রশিক্ষণের সুপারিশ প্রদানের জন্য প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করছেন বলে ক্যাপ্টেন সাইদ আহমেদ মহাপরিচালকসহ তার সহকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছেন।

আরো জানাগেছে, প্রথম সুপারিশকৃত ২০০ জনের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য এনএমআই মাদারীপুর এর প্রিন্সিপালকে জনপ্রতি ১ লক্ষ টাকা প্রদানের জন্য প্রলোভন দেখালেও সে এই অবৈধ কাজ করতে অস্বীকার করলেও এনএমআই চট্টগ্রাম এর অর্থলোভী প্রিন্সিপাল আতাউর রহমান রাজি হয়ে যান।

এই সকল পানামা সিডিসিধারীদের অধিকাংশ সিডিসি ঢাকা আরামবাগের একটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো এবং শতভাগের অভিজ্ঞতার সিল ও পাসপোর্টের বহিঃগমন ও আগমন সিল ভুয়া বলে সšেদহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি নাবিক হিসেবে সিডিসি ন্যূনতম এস এস সি পাস করে সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে শারীরিক অন্যান্য যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তর অনুমোদিত নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৬ মাস মেয়াদি আবাসিক রেজিমেন্টাল প্রশিক্ষণ সহ সমুদ্রবিদ্যা ও ইংরেজিতে পড়াশুনা করতে হয়। তবে এসব ভুয়া পানামা সিডিসিধারীগণ অধিকাংশ অশিক্ষিত ও অযোগ্য হলেও এদের একমাত্র যোগ্যতা হচ্ছে হলো টাকা। গেজেট নং ১৮,০১৯.০১৮.০০.০০.০০৭.২০১০-১৯২ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর,ঢাকা,বাংলাদেশ থেকে গেজেট এর তথ্যগুলো পাওয়াগেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ জানান, এ বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।