০১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তদন্ত কমিটি গঠন: বিআইডব্লিউটিএতে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে নৌকা বাইচের নামে কোটি টাকা লোপাটের চেষ্টা!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

বিআইডব্লিউটিএ’তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে নৌকা বাইচের নাম প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃতপক্ষে এই অনুষ্ঠানটি করতে ৮/১০ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়নি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার জন্য বিআইডব্লিউটিএর বড় বড় ঠিকাদার ও বড় বড় শিপিং কোম্পানীর কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা চাঁদাবাজী করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএর মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, শুধু স্টেজ নির্মানের জন্য ব্যয় দেখিয়েছে প্রায় ২০ লাখ, যা সত্যিই অবাস্তব। দাওয়াত কার্ড, নৌকা বাইচে অংশগ্রহণকারী দলের জার্সি, নৌকা বাইচ পরিচালনাকারী ভলেন্টিয়ার ও বিচারকদের জার্সি, নৌকার সম্মানী ও আপ্যায়ন, ১০ সিএফটি রেফ্রিজারেটর, নৌকা বাইচ সহযোগিতা ও বিচারকমন্ডলীর জন্য ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫,৭৭,০০০/-টাকা। এ ভাবে প্রায় ১ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে এই অনুষ্ঠানকে মুখ্য করে। এ বিষয়টিও তদন্তের দাবী তুলেছেন বিআইডব্লিউটিএর দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। আর এ ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন দুইজন বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা। তারা হলেন, বন্দর ও পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন এবং নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. শাজাহান।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দপ্তর আদেশ জারি করেছে। দপ্তর আদেশ নং-৩০৫৩/২০২৩। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর পেশ করার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে সংস্থাটির ক্রয় ও সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে, অন্য দুই সদস্য হলেন সংস্থাটির প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম শাহেদ রেজা এবং প্রকৌশল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমানকে।

দপ্তর আদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে গত ২৮/০৯/২০২৩ তারিখে তুরাগ নদীতে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচে একাধিক বাইচের নৌকা ডুবে যাওয়া, এর কারণ এবং এ প্রেক্ষিতে নৌকা বাইচের আকর্ষণীয়তা ম্লান হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের ত্রুটি-বিচ্যুতি উদঘাটন, বাইচের সময় বাইচের নৌকা ডুবে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সুপারিশ প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ সুত্রে জানা যায়, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে ঢাকা নদী বন্দরাধীন বসিলার তুরাগ নদীতে নৌকা বাইচ ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করে বিআইডব্লিউটিএ। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। উক্ত অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য একাধিক কমিটি গঠন করে বিআইডব্লিউটিএর প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হলেও তিনজন কর্মকর্তা মিলে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে কমিটির কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন। এত বড় অনুষ্ঠানে কর্মচারীদের কোন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করায় রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। বিআইডব্লিউটিএ সিবিএ’র সভাপতি আবুল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো: ছারোয়ার হোসাইনকে রাখা হয়েছে আমন্ত্রিত ভিআইপি অতিথিদের অভ্যর্থনা, তদারকি ও আপ্যায়ন কমিটিতে। আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো করেছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার, বন্দর ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন এবং নৌ সওপ বিভাগের পরিচালক মো: শাজাহান। এরমধ্যে এ কে এম আরিফ উদ্দিন ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শামুজ্জোহা হল ছাত্রদলের সম্পাদক এবং মো: শাজাহান ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা। বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এ সকল কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করায় বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে।

 

এ দিকে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অব্যবস্থাপনাকে ইচ্ছাকৃত বলে দাবী করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা বলেন, নৌকা বাইচের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে নৌকা, বাংলাদেশ রোয়িং ফেডারেশনের মাধ্যমে যে কয়টি নৌকা ভাড়া করা হয়েছে তা যে কোন বাইচের জন্য অনুপযোগী। নৌকা বাইচ শুরুর আগেই বাইচের জন্য ভাড়া করে আনা দুটি নৌকা ডুবে যায়। এটা দেখে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী চরম অসস্তোষ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে মোস্তফা কামাল রেগে গিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন।

এ দিকে তদন্ত কমিটি নিয়েও শুরু হয়েছে নানা ধরনের সমালোচনা। তদন্ত কমিটির তিনজনই এ কে এম আরিফ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠজন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক রফিকুল ইসলাম এবং এ কে এম আরিফ উদ্দিন পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রফিকুল ইসলামের বাড়ী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, এস এম শাহেদ রেজা’র বাড়ী কুষ্টিয়া এবং সাজেদুর রহমানের বাড়ী পাবনা। পক্ষান্তরে এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বাড়ী পাবনায়। মূলত: এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে বাঁচাতেই তার এলাকার এবং তার ঘনিষ্টজনদের নিয়েই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কে এম আরিফ উদ্দিন একের পর এক অন্যায় করলেও অদৃশ্য কারনে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিআইডব্লিউটিএ।

বিআইডব্লিউটিএ’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, একেএম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সীমা নাই। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলমান রয়েছে। অপরদিকে মো: শাজাহানের চাকরীও বেশিদিন নাই। তাই তারা নিজেদের আখের গোছাতে লুটপাটে ব্যস্ত। এ কে এম আরিফ উদ্দিন জনসংযোগ কর্মকর্তা থাকাকালেই তিনি নানা ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। সংস্থার বিভিন্ন কাজ করে সংস্থা থেকে নিজে বিল নিলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাদের পাওনা পরিশোধ করেননি। উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও রয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উচ্ছেদ করেননি আবার শুধুমাত্র আওয়ামী লগি নেতার স্থাপনা হবার কারনে চালিয়েছেন ভাংচুর।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) কাজী ওয়াকিল নওয়াজ বলেন, তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে । তদন্ত রিপোর্ট দেখে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামালকে ফোন করলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩
২৫৫ বার পড়া হয়েছে

তদন্ত কমিটি গঠন: বিআইডব্লিউটিএতে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে নৌকা বাইচের নামে কোটি টাকা লোপাটের চেষ্টা!

আপডেট সময় ০৫:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩

রোস্তম মল্লিক

বিআইডব্লিউটিএ’তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে নৌকা বাইচের নাম প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃতপক্ষে এই অনুষ্ঠানটি করতে ৮/১০ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়নি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার জন্য বিআইডব্লিউটিএর বড় বড় ঠিকাদার ও বড় বড় শিপিং কোম্পানীর কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা চাঁদাবাজী করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএর মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, শুধু স্টেজ নির্মানের জন্য ব্যয় দেখিয়েছে প্রায় ২০ লাখ, যা সত্যিই অবাস্তব। দাওয়াত কার্ড, নৌকা বাইচে অংশগ্রহণকারী দলের জার্সি, নৌকা বাইচ পরিচালনাকারী ভলেন্টিয়ার ও বিচারকদের জার্সি, নৌকার সম্মানী ও আপ্যায়ন, ১০ সিএফটি রেফ্রিজারেটর, নৌকা বাইচ সহযোগিতা ও বিচারকমন্ডলীর জন্য ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫,৭৭,০০০/-টাকা। এ ভাবে প্রায় ১ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে এই অনুষ্ঠানকে মুখ্য করে। এ বিষয়টিও তদন্তের দাবী তুলেছেন বিআইডব্লিউটিএর দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। আর এ ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন দুইজন বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা। তারা হলেন, বন্দর ও পরিবহন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন এবং নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. শাজাহান।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দপ্তর আদেশ জারি করেছে। দপ্তর আদেশ নং-৩০৫৩/২০২৩। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বরাবর পেশ করার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে সংস্থাটির ক্রয় ও সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে, অন্য দুই সদস্য হলেন সংস্থাটির প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম শাহেদ রেজা এবং প্রকৌশল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমানকে।

দপ্তর আদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে গত ২৮/০৯/২০২৩ তারিখে তুরাগ নদীতে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচে একাধিক বাইচের নৌকা ডুবে যাওয়া, এর কারণ এবং এ প্রেক্ষিতে নৌকা বাইচের আকর্ষণীয়তা ম্লান হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের ত্রুটি-বিচ্যুতি উদঘাটন, বাইচের সময় বাইচের নৌকা ডুবে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সুপারিশ প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ সুত্রে জানা যায়, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে ঢাকা নদী বন্দরাধীন বসিলার তুরাগ নদীতে নৌকা বাইচ ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করে বিআইডব্লিউটিএ। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। উক্ত অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য একাধিক কমিটি গঠন করে বিআইডব্লিউটিএর প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হলেও তিনজন কর্মকর্তা মিলে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে কমিটির কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন। এত বড় অনুষ্ঠানে কর্মচারীদের কোন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করায় রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। বিআইডব্লিউটিএ সিবিএ’র সভাপতি আবুল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো: ছারোয়ার হোসাইনকে রাখা হয়েছে আমন্ত্রিত ভিআইপি অতিথিদের অভ্যর্থনা, তদারকি ও আপ্যায়ন কমিটিতে। আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো করেছেন সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদার, বন্দর ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন এবং নৌ সওপ বিভাগের পরিচালক মো: শাজাহান। এরমধ্যে এ কে এম আরিফ উদ্দিন ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শামুজ্জোহা হল ছাত্রদলের সম্পাদক এবং মো: শাজাহান ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা। বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এ সকল কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করায় বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে।

 

এ দিকে পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অব্যবস্থাপনাকে ইচ্ছাকৃত বলে দাবী করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা বলেন, নৌকা বাইচের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে নৌকা, বাংলাদেশ রোয়িং ফেডারেশনের মাধ্যমে যে কয়টি নৌকা ভাড়া করা হয়েছে তা যে কোন বাইচের জন্য অনুপযোগী। নৌকা বাইচ শুরুর আগেই বাইচের জন্য ভাড়া করে আনা দুটি নৌকা ডুবে যায়। এটা দেখে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী চরম অসস্তোষ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে মোস্তফা কামাল রেগে গিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন।

এ দিকে তদন্ত কমিটি নিয়েও শুরু হয়েছে নানা ধরনের সমালোচনা। তদন্ত কমিটির তিনজনই এ কে এম আরিফ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠজন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক রফিকুল ইসলাম এবং এ কে এম আরিফ উদ্দিন পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রফিকুল ইসলামের বাড়ী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, এস এম শাহেদ রেজা’র বাড়ী কুষ্টিয়া এবং সাজেদুর রহমানের বাড়ী পাবনা। পক্ষান্তরে এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বাড়ী পাবনায়। মূলত: এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে বাঁচাতেই তার এলাকার এবং তার ঘনিষ্টজনদের নিয়েই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কে এম আরিফ উদ্দিন একের পর এক অন্যায় করলেও অদৃশ্য কারনে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিআইডব্লিউটিএ।

বিআইডব্লিউটিএ’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, একেএম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সীমা নাই। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলমান রয়েছে। অপরদিকে মো: শাজাহানের চাকরীও বেশিদিন নাই। তাই তারা নিজেদের আখের গোছাতে লুটপাটে ব্যস্ত। এ কে এম আরিফ উদ্দিন জনসংযোগ কর্মকর্তা থাকাকালেই তিনি নানা ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। সংস্থার বিভিন্ন কাজ করে সংস্থা থেকে নিজে বিল নিলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাদের পাওনা পরিশোধ করেননি। উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও রয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উচ্ছেদ করেননি আবার শুধুমাত্র আওয়ামী লগি নেতার স্থাপনা হবার কারনে চালিয়েছেন ভাংচুর।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) কাজী ওয়াকিল নওয়াজ বলেন, তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে । তদন্ত রিপোর্ট দেখে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামালকে ফোন করলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।