০৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ কামনা: বিআইডব্লিউটিএ’তে এক বছর ঝুলে আছে ৭৩ কর্মচারির নিয়োগ!

প্রতিনিধির নাম:

 

রোস্তম মল্লিক

নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও বিআইডব্লিউটিএ’তে প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ৭৩ কর্মচারির নিয়োগ । এ বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তা গ্রাহ্য করা হচ্ছে না। ফলে জনবল সংকটে সংস্থাটির কার্যক্রম গতি হারাচ্ছে। বিগত ২০২২ সালের ২৯ মার্চ ২৪ ক্যাটাগরির ৩৬৩ টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিআইডব্লিউটিএ। ইতোমধ্যে ২০ ক্যাটাগরিতে ২৮০ জনের নিয়োগ প্রদান করলেও ঝুলে রয়েছে ৭৩ টি পদের নিয়োগ। ২টি ক্যাটাগরির ৭ টি পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় নিয়োগ দিতে পারেনি সংস্থাটি। আরেকটি ক্যাটাগরিতে ৩ টি পদের পরীক্ষা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। বাকী ১ ক্যাটাগরির ৭৩টি লস্কর পদের বিপরীতে ৩২৭৩টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে বৈধ আবেদন ৩২৬৩টি। প্রতি পদের বিপরীতে প্রায় ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ২০২২ সালের ১৪ অক্টোবর শাহজানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং মতিঝিল কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ে লস্কর পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩০৩ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়। ২৩ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও অদ্যবধি তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেনি বিআইডব্লিউটিএ। ফলে একদিকে যেমন ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে অন্যদিকে সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। অথচ এরপরে অনুষ্ঠিত হওয়া অন্যান্য পদের বিপরীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে ভয়ংকর সব তথ্য। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন উর্ধতন অসাধু কর্মকর্তা রয়েছেন এর নেপথ্যে। তাদের কিছু পছন্দের প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে পাস করনো হয়েছিল কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার সময় বোর্ডের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ায় তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় অর্ধশত (৪৮ জন)। এরপর থেকেই নিয়োগ বাতিল করার জন্য উঠেপড়ে লাগে অসাধু চক্রটি। তারা এই নিয়োগ বাতিল করে আপাতত: আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে শূণ্য পদ পূরণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এটা বাস্তবায়ন করা গেলে তাদের পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ দিতে পারবে। এতে পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেওয়া যাবে, সেই সাথে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে পারবে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে চক্রটি। জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ যদি সরকার গঠন করতে না পারে তাহলে তাদের জন্য সোনায় সোহাগা হবে বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন কর্মকর্তা।
সরকারের পক্ষ থেকে শূণ্য পদ পূরণের জন্য বারবার তাগিদ দিলেও বিষয়টি আমলে নিচ্ছেননা প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তা। তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে খোদ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ১৭ জুলাই মন্ত্রী সভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরীতে শূণ্য পদে দ্রত নিয়োগ দিতে সচিবদের কঠোর নির্দেশনা দেন। সরকারের কোন দপ্তর, সংস্থায় যেন শূণ্য পদ না থাকে সেজন্য দ্রত ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি। এ নির্দেশের পরে গত ২৪ জুলাই সোমবার সচিব সভায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরীতে ৪ লাখের বেশি শূণ্যপদ রয়েছে। এসব পদে দ্রত নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে চাকরী দেওয়ার আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সরকারের নির্দেশনা না মানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন কর্মকর্তা। ১৯ তম গ্রেডের এ চাকরীর জন্য বহু বেকার ছেলে তাকিয়ে রয়েছেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়া কি কারনে বন্ধ এবং কবে নাগাদ এটার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির আহবায়ক এবং বিআইডব্লিউটিএ’র সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে লস্কর পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চেয়ে লিখিত পত্র দিয়েছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান। এর জবাব তিনি দিয়েছেন। এরপরও কেন নিয়োগ হচ্ছে না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
বিআইডব্লিউটিএর বর্তমান চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, বিআইডব্লিউটিএতে তাঁর যোগদানের আগেই লস্কর পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর জানতে পেরেছেন, নিয়োগ কমিটির তৎকালীন আহ্বায়ক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল দিয়ে যাননি। এ অবস্থায় ফলাফল পাঠানোসহ কীভাবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা যায়, সে বিষয়ে জানতে চেয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেনকে দুই দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম চিঠির জবাবে দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় চিঠি পাঠানো হলে তার জবাব এখনও পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:৩১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৩
২৩৭ বার পড়া হয়েছে

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ কামনা: বিআইডব্লিউটিএ’তে এক বছর ঝুলে আছে ৭৩ কর্মচারির নিয়োগ!

আপডেট সময় ০৪:৩১:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৩

 

রোস্তম মল্লিক

নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেও বিআইডব্লিউটিএ’তে প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ৭৩ কর্মচারির নিয়োগ । এ বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তা গ্রাহ্য করা হচ্ছে না। ফলে জনবল সংকটে সংস্থাটির কার্যক্রম গতি হারাচ্ছে। বিগত ২০২২ সালের ২৯ মার্চ ২৪ ক্যাটাগরির ৩৬৩ টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিআইডব্লিউটিএ। ইতোমধ্যে ২০ ক্যাটাগরিতে ২৮০ জনের নিয়োগ প্রদান করলেও ঝুলে রয়েছে ৭৩ টি পদের নিয়োগ। ২টি ক্যাটাগরির ৭ টি পদে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় নিয়োগ দিতে পারেনি সংস্থাটি। আরেকটি ক্যাটাগরিতে ৩ টি পদের পরীক্ষা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। বাকী ১ ক্যাটাগরির ৭৩টি লস্কর পদের বিপরীতে ৩২৭৩টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে বৈধ আবেদন ৩২৬৩টি। প্রতি পদের বিপরীতে প্রায় ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ২০২২ সালের ১৪ অক্টোবর শাহজানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং মতিঝিল কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ে লস্কর পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩০৩ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়। ২৩ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও অদ্যবধি তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেনি বিআইডব্লিউটিএ। ফলে একদিকে যেমন ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে অন্যদিকে সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। অথচ এরপরে অনুষ্ঠিত হওয়া অন্যান্য পদের বিপরীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে ভয়ংকর সব তথ্য। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন উর্ধতন অসাধু কর্মকর্তা রয়েছেন এর নেপথ্যে। তাদের কিছু পছন্দের প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে পাস করনো হয়েছিল কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার সময় বোর্ডের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ায় তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় অর্ধশত (৪৮ জন)। এরপর থেকেই নিয়োগ বাতিল করার জন্য উঠেপড়ে লাগে অসাধু চক্রটি। তারা এই নিয়োগ বাতিল করে আপাতত: আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে শূণ্য পদ পূরণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এটা বাস্তবায়ন করা গেলে তাদের পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ দিতে পারবে। এতে পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেওয়া যাবে, সেই সাথে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে পারবে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে চক্রটি। জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ যদি সরকার গঠন করতে না পারে তাহলে তাদের জন্য সোনায় সোহাগা হবে বলে মন্তব্য করেন কয়েকজন কর্মকর্তা।
সরকারের পক্ষ থেকে শূণ্য পদ পূরণের জন্য বারবার তাগিদ দিলেও বিষয়টি আমলে নিচ্ছেননা প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তা। তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে খোদ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ১৭ জুলাই মন্ত্রী সভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরীতে শূণ্য পদে দ্রত নিয়োগ দিতে সচিবদের কঠোর নির্দেশনা দেন। সরকারের কোন দপ্তর, সংস্থায় যেন শূণ্য পদ না থাকে সেজন্য দ্রত ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি। এ নির্দেশের পরে গত ২৪ জুলাই সোমবার সচিব সভায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরীতে ৪ লাখের বেশি শূণ্যপদ রয়েছে। এসব পদে দ্রত নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে চাকরী দেওয়ার আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সরকারের নির্দেশনা না মানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন কর্মকর্তা। ১৯ তম গ্রেডের এ চাকরীর জন্য বহু বেকার ছেলে তাকিয়ে রয়েছেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়া কি কারনে বন্ধ এবং কবে নাগাদ এটার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির আহবায়ক এবং বিআইডব্লিউটিএ’র সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে লস্কর পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে তাঁর মতামত জানতে চেয়ে লিখিত পত্র দিয়েছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান। এর জবাব তিনি দিয়েছেন। এরপরও কেন নিয়োগ হচ্ছে না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
বিআইডব্লিউটিএর বর্তমান চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, বিআইডব্লিউটিএতে তাঁর যোগদানের আগেই লস্কর পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর জানতে পেরেছেন, নিয়োগ কমিটির তৎকালীন আহ্বায়ক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল দিয়ে যাননি। এ অবস্থায় ফলাফল পাঠানোসহ কীভাবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা যায়, সে বিষয়ে জানতে চেয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেনকে দুই দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম চিঠির জবাবে দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় চিঠি পাঠানো হলে তার জবাব এখনও পাওয়া যায়নি।