০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত: ঠিকানা জালিয়াতি করে ১৯ বছর সরকারী চাকুরী করছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পদে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিন্টু খান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলী পূরণ না করে ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন মিন্টু খান।
ঢাকা জেলার বাসিন্দা না হয়েও নিয়েছেন ঢাকা জেলার ঠিকানায় চাকরি। ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর করা অভিযোগ পত্রে অভিযোগকারী মহসিন সিরাজ উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর দুনীতি দমন কমিশন ও একই বছরের ২৪ নভেম্বর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু খানের ভূয়া ঠিকানা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেআইনি ভাবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুষ্ঠ তদন্তের দাবি করেন।
মিন্টু খান ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম চাকরিতে যোগদান করেন। কিন্তু তার উল্লেখিত ঠিকানায় তার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয় সম্প্রসারণ-৪ বিভাগ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করে। এর আগে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর মিন্টু খানসহ ৩ জনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান সংলক্রান্ত অভিযোগের বিষয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর তথ্য চাই দুনীতি দমন কমিশন। সে সময় বিষয় টি মহাপরিচালকের দপ্তর হয়ে অতিরিক্ত পরিচালক পরে তা উপ-পরিচালক (লিসাসা) দপ্তরে এসে তদন্তের গতি হারিয়ে ফেলে। এখন পযন্ত সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
২০১৯ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে তথ্য গোপন করে ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ৩ ব্যক্তি বহাল তবিয়তে আছেন মর্মে মো: নাজিম উদ্দীনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এম শাখাওয়াত হোসেন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। এই তিন জনের একজন হলেন মিন্টু খান। বাকি দুইজন এখন অবসরে আছেন বলে জানা যায়। লিগ্যাল নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় তাদের যাবতীয় রেকর্ড পাত্রাদির সত্যায়িত কপি প্রদানের জন্য বলা হলেও তারা সেই সকল সত্যায়িত ফটোকপি কতৃপক্ষের নিকট জমা দেননি বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু খান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও করা হয়েছিল যার কোন সত্যতা নেই । এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে করা হয়েছে। খামারবাড়িতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে কে বা কাহারা এগুলো করছে।
২০১৯ ও ২০২২ সালের কৃষি মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে লিগ্যাল ও সাপোর্ট সার্ভিসেস উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত চলমান কোন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না তবে যদি কেউ ঠিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৩১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩
৪৭৯ বার পড়া হয়েছে

চার বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত: ঠিকানা জালিয়াতি করে ১৯ বছর সরকারী চাকুরী করছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা!

আপডেট সময় ০৭:৩১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩

রোস্তম মল্লিক
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পদে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিন্টু খান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলী পূরণ না করে ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন মিন্টু খান।
ঢাকা জেলার বাসিন্দা না হয়েও নিয়েছেন ঢাকা জেলার ঠিকানায় চাকরি। ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর করা অভিযোগ পত্রে অভিযোগকারী মহসিন সিরাজ উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর দুনীতি দমন কমিশন ও একই বছরের ২৪ নভেম্বর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু খানের ভূয়া ঠিকানা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বেআইনি ভাবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুষ্ঠ তদন্তের দাবি করেন।
মিন্টু খান ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম চাকরিতে যোগদান করেন। কিন্তু তার উল্লেখিত ঠিকানায় তার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয় সম্প্রসারণ-৪ বিভাগ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করে। এর আগে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর মিন্টু খানসহ ৩ জনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান সংলক্রান্ত অভিযোগের বিষয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর তথ্য চাই দুনীতি দমন কমিশন। সে সময় বিষয় টি মহাপরিচালকের দপ্তর হয়ে অতিরিক্ত পরিচালক পরে তা উপ-পরিচালক (লিসাসা) দপ্তরে এসে তদন্তের গতি হারিয়ে ফেলে। এখন পযন্ত সেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
২০১৯ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে তথ্য গোপন করে ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ৩ ব্যক্তি বহাল তবিয়তে আছেন মর্মে মো: নাজিম উদ্দীনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এম শাখাওয়াত হোসেন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। এই তিন জনের একজন হলেন মিন্টু খান। বাকি দুইজন এখন অবসরে আছেন বলে জানা যায়। লিগ্যাল নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় তাদের যাবতীয় রেকর্ড পাত্রাদির সত্যায়িত কপি প্রদানের জন্য বলা হলেও তারা সেই সকল সত্যায়িত ফটোকপি কতৃপক্ষের নিকট জমা দেননি বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু খান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও করা হয়েছিল যার কোন সত্যতা নেই । এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে করা হয়েছে। খামারবাড়িতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে কে বা কাহারা এগুলো করছে।
২০১৯ ও ২০২২ সালের কৃষি মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে লিগ্যাল ও সাপোর্ট সার্ভিসেস উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, তদন্ত চলমান কোন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না তবে যদি কেউ ঠিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।