০৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে বিধিভঙ্গ করে ২০৫ জনবল নিয়োগ: আউটসোর্সিংয়ের জনবল নিয়োগ দিলেন মহাপরিচালক!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

সরকারী বিধি ভংগের প্রতিযোগিতা চলছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে। আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি ভংগ করে নিজের অফিস আদেশে জনবল নিয়োগ দিচ্ছেন মহাপরিচালক নিজেই। এ ক্ষেত্রে সেবাদানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ক্ষুন্ন হলেও সেটি দেখার যেন কেউ নেই। মহাপরিচালকের ইচ্ছানুয়ায়ী জনবল নিয়োগ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে সেবাদানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে যে জনপ্রতি ৩ লাখ টাকা হারে ঘুস নিয়ে মহাপরিচালক অনভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ দিয়ে অফিস আদেশ জারি করছেন। আর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেটি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
সুত্রমতে,প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধিনে বিভিন্ন দপ্তরে মোট ২০৫টি পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সেবা গ্রহনের লক্ষ্যে সেবা প্রদানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছিলো। দরপত্রের শর্তাবলী অনুযায়ী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা,বয়স,নাগরিকত্ব ইত্যাদি যাচাই করে দরপত্রের সাথে সংশ্লিষ্টদের বায়োডাটা জমা প্রদান করবে। এবং সেবা গ্রহনকারী প্রতিষ্ঠান সকল কাগজপত্রাদী যাচাই বাছাই করে গ্রহনযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হলে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করবেন এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহ করবে। কিন্তু সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের পর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার সকল নিয়মের বত্যয় ঘটিয়ে নিজেই তার নিয়োজিত দালালদের মাধ্যমে জনবল সংগ্রহ করে তাদের কাছ থেকে মাথা পিছু ২/৩ লাখ টাকা ঘুস নিয়ে সরাসরি ২০৫ জন ব্যাক্তির নামে নিয়োগ আদেশ (অফিস আদেশ) জারি করছেন। এ সকল জনবল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধিনে কৃত্রিম প্রজনন ল্যাবরেটরী সাভার,ঢাকা, রাজশাহী ও ৬৪টি জেলা কৃত্রিম প্রজনন কাজ করছে। এদের মধ্যে বুল এটেন্ডেট পদে ১০২ জন, নৈশ প্রহরী পদে ৭০ জন এবং ইনষ্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজী নেত্রকোণায় ৮ ক্যাটাগরীর ১৫ টি পদের বিপরীতে ১৫ জনকে এবং ইনষ্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজী ডুমুরিয়া খুলনায় ৮ ক্যাটাগরিতে ১৫ টি পদের বিপরীতে ১৫ জনকে পদায়নের আদেশ দিয়েছেন। যার স্মারক নং ৩৩.০১.০০০০.১০২.০০২.২৩.-৪২০ তারিখ ০৬/০৬/২০২৩ এবং স্মারক নং ৩৩.০১.০০০০.১০২.১৯.০০১.২৩-৪২২ তাং ০৬/০৬/২০২৩ইং।
খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে, আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল কোন অবস্থাতেই সেবা গ্রহনকারী কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান পদায়ন দিতে পারে না। কারণ এটা সরকারী কোন চাকুরীতে নিয়োগ নয়। কেবলমাত্র আর্থিক সুবিধা গ্রহনের জন্যই মহাপরিচালক ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার এই অপকর্মটি করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, ২০৫ টি পদের মধ্যে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মাত্র ২৫ টি পদে লোক নিয়োগ দিতে পেরেছে। বাকী ১৮০ জন ডিজি নিজেই দিয়েছেন। যদি এ কাজটি সেবা প্রদানের জন্য জনবলের তালিকা প্রদান) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের করার কথা। ডিজি কর্র্তৃক প্রদত্ত অফিস আদেশটি দেখলেই মনে হবে এটি একটি সরকারী নিয়োগ। সেখানে অফিসের ইস্যু নম্বরও প্রদান করা হয়েছে। এধরনের আদেশ প্রদান মহাপরিচালকের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ছাড়া আর কিছুই নয়। আদেশটি ভবিষ্যতে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করবে।
এছাড়াও আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহন নীতিমালায় ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৩(১) এ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, “কোন পদের বিপরীতেও এ সেবা ক্রয় করা যাবে না‘‘। কিন্তু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের প্রতিটি ব্যক্তির বিপরীতে পদের নাম উল্লেখ করে পদায়ন আদেশ জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ইতিপুর্বে ২০১৮ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধিনে সরকারী হাঁস মুরগীর খামারে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সেবা গ্রহনের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। এবং ওই সকল জনবল নিয়োগ করেছিল সেবা প্রদানকারী (পার্থমার্ক এসোসিয়েটস লিমিেিটড) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, অধিদপ্তরের ডিজি নন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার কাজ হলেও অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য সকল কার্যক্রম অধিদপ্তরের বাজেট শাখার পরিচালকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। কারণ বাজেট শাখার পরিচালক ডা: আবু সুফিয়ান একজন দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা হিসাবে সকল মহলে পরিচিত এবং বর্তমানে ডিজির সব থেকে আস্থাভাজন কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩
৩৪৫ বার পড়া হয়েছে

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে বিধিভঙ্গ করে ২০৫ জনবল নিয়োগ: আউটসোর্সিংয়ের জনবল নিয়োগ দিলেন মহাপরিচালক!

আপডেট সময় ০৭:০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩

রোস্তম মল্লিক

সরকারী বিধি ভংগের প্রতিযোগিতা চলছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে। আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি ভংগ করে নিজের অফিস আদেশে জনবল নিয়োগ দিচ্ছেন মহাপরিচালক নিজেই। এ ক্ষেত্রে সেবাদানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ক্ষুন্ন হলেও সেটি দেখার যেন কেউ নেই। মহাপরিচালকের ইচ্ছানুয়ায়ী জনবল নিয়োগ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে সেবাদানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে যে জনপ্রতি ৩ লাখ টাকা হারে ঘুস নিয়ে মহাপরিচালক অনভিজ্ঞ জনবল নিয়োগ দিয়ে অফিস আদেশ জারি করছেন। আর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেটি মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
সুত্রমতে,প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধিনে বিভিন্ন দপ্তরে মোট ২০৫টি পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সেবা গ্রহনের লক্ষ্যে সেবা প্রদানকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছিলো। দরপত্রের শর্তাবলী অনুযায়ী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা,বয়স,নাগরিকত্ব ইত্যাদি যাচাই করে দরপত্রের সাথে সংশ্লিষ্টদের বায়োডাটা জমা প্রদান করবে। এবং সেবা গ্রহনকারী প্রতিষ্ঠান সকল কাগজপত্রাদী যাচাই বাছাই করে গ্রহনযোগ্য হিসাবে বিবেচিত হলে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করবেন এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জনবল সরবরাহ করবে। কিন্তু সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের পর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার সকল নিয়মের বত্যয় ঘটিয়ে নিজেই তার নিয়োজিত দালালদের মাধ্যমে জনবল সংগ্রহ করে তাদের কাছ থেকে মাথা পিছু ২/৩ লাখ টাকা ঘুস নিয়ে সরাসরি ২০৫ জন ব্যাক্তির নামে নিয়োগ আদেশ (অফিস আদেশ) জারি করছেন। এ সকল জনবল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধিনে কৃত্রিম প্রজনন ল্যাবরেটরী সাভার,ঢাকা, রাজশাহী ও ৬৪টি জেলা কৃত্রিম প্রজনন কাজ করছে। এদের মধ্যে বুল এটেন্ডেট পদে ১০২ জন, নৈশ প্রহরী পদে ৭০ জন এবং ইনষ্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজী নেত্রকোণায় ৮ ক্যাটাগরীর ১৫ টি পদের বিপরীতে ১৫ জনকে এবং ইনষ্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজী ডুমুরিয়া খুলনায় ৮ ক্যাটাগরিতে ১৫ টি পদের বিপরীতে ১৫ জনকে পদায়নের আদেশ দিয়েছেন। যার স্মারক নং ৩৩.০১.০০০০.১০২.০০২.২৩.-৪২০ তারিখ ০৬/০৬/২০২৩ এবং স্মারক নং ৩৩.০১.০০০০.১০২.১৯.০০১.২৩-৪২২ তাং ০৬/০৬/২০২৩ইং।
খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে, আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় জনবল কোন অবস্থাতেই সেবা গ্রহনকারী কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান পদায়ন দিতে পারে না। কারণ এটা সরকারী কোন চাকুরীতে নিয়োগ নয়। কেবলমাত্র আর্থিক সুবিধা গ্রহনের জন্যই মহাপরিচালক ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার এই অপকর্মটি করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, ২০৫ টি পদের মধ্যে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মাত্র ২৫ টি পদে লোক নিয়োগ দিতে পেরেছে। বাকী ১৮০ জন ডিজি নিজেই দিয়েছেন। যদি এ কাজটি সেবা প্রদানের জন্য জনবলের তালিকা প্রদান) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের করার কথা। ডিজি কর্র্তৃক প্রদত্ত অফিস আদেশটি দেখলেই মনে হবে এটি একটি সরকারী নিয়োগ। সেখানে অফিসের ইস্যু নম্বরও প্রদান করা হয়েছে। এধরনের আদেশ প্রদান মহাপরিচালকের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ ছাড়া আর কিছুই নয়। আদেশটি ভবিষ্যতে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করবে।
এছাড়াও আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহন নীতিমালায় ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ৩(১) এ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, “কোন পদের বিপরীতেও এ সেবা ক্রয় করা যাবে না‘‘। কিন্তু প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের প্রতিটি ব্যক্তির বিপরীতে পদের নাম উল্লেখ করে পদায়ন আদেশ জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ইতিপুর্বে ২০১৮ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধিনে সরকারী হাঁস মুরগীর খামারে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সেবা গ্রহনের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। এবং ওই সকল জনবল নিয়োগ করেছিল সেবা প্রদানকারী (পার্থমার্ক এসোসিয়েটস লিমিেিটড) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, অধিদপ্তরের ডিজি নন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার কাজ হলেও অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য সকল কার্যক্রম অধিদপ্তরের বাজেট শাখার পরিচালকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। কারণ বাজেট শাখার পরিচালক ডা: আবু সুফিয়ান একজন দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা হিসাবে সকল মহলে পরিচিত এবং বর্তমানে ডিজির সব থেকে আস্থাভাজন কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।