০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুদকে অভিযোগ: শ্যালককে দিয়ে করাচ্ছেন ঠিকাদারী ব্যবসা: অবৈধপথে শত কোটি টাকার মালিক গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম!

প্রতিনিধির নাম:

সূর্য আহমেদ

গণপূর্তের ইএম-৩ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: আবুল কালামের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি,অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ শ্যালককে দিয়ে ঠিকাদারী ব্যবসা করার গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে।
অভিযোগের বর্নণায় জানাগেছে, তত্তা¡বধায়ক প্রকৌশলী মো: আবুল কালাম অবৈধ পথে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে তিনি তার শ্যালক সাইফুলের নামে একটি ঠিকাদারী ফার্ম খুলেছেন। ফার্মটির নাম -ইন্টিগ্রেটেড কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস। এই ঠিকাদারী ফার্মের অনুকুলে সিসিটিভি,নেটওয়ার্কিং,সাউন্ড সিসটেমস ও পিএবিএক্স এর কাজ দিতে অন্যান্য সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলীদের চাপ দিচ্ছেন। কোন নির্বাহী প্রকৌশলী তার কথা না শুনলেই তাকে হয়রানিমূলক বদলী করাচ্ছেন। এমন কি চাকুরী খেয়ে ফেলারও হুমকি দিচ্ছেন।
তিনি পিপিআর এর শর্তাবলী ভংগ করে নিজ শ্যালকের নামীয় ঠিকাদারী ফার্ম ইন্টিগ্রেটেড কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস’র নামে কাজ দিয়ে টেন্ডার অনুমোদন করেছেন এবং বেশ কিছু টেন্ডারে মূল্যায়নে পর্যালোচক হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি তার অধিনস্থ কাঠের কারখানা বিভাগে ৮ কোটি, মেকানিক্যাল কারখানা বিভাগে ৪ কোটি, ইএম বিভাগ ৭ এ ১২ কোটি, ইএম বিভাগ ৮, ও ইএম বিভাগ এ- ৬ কোটি ,মোট ৩০ কোটি টাকার অধিক কাজ প্রদান করেছেন। তার শ্যালককে কাজ না দেওয়ায় সৎ ও দক্ষ নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো: আব্দুল্লাহ আল মনসুরকে ইএম/৮ বিভাগ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি ঘুষ পেলে নিজেই এস্টিমেট তৈরী করেন। রাজস্ব বাজেটে ১২ লক্ষ টাকার প্রাক্কলন পাশ করার বিধান থাকলেও আবুল কালাম ১২ লক্ষ টাকার উর্ধের ২ কোটি টাকার প্রাক্কলন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে না পাঠিয়ে নিজেই পাশ করে দেন। এভারে দুর্নীতি করে সেই টাকায় প্রকৌশলী আবুল কালাম রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর ব্লক নং ৫ জি, রোড নং-৫, বাড়ী নং ০১ হোল্ডিং এ বহুতলা বাড়ী নির্মাণ করেছেন যার মুল্য কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা।
প্রকৌশলী আবুল কালামের শ্যালক সাইফুল একজন অতি সাধারণ মানুষ অথচ: দুলাভাইয়ের বদৌলতে ঠিকাদারী কাজ করে শত কোটি টাকার মালিক বনেগেছেন। গুলশানের নিকেতনে রয়েছে তার ৩ হাজার বর্গ ফুটের ০২টি ফ্ল্যাট, আফতাব নগরে রয়েছে ৫ কাঠার ৫ টি প্লট। বনশ্রীতে রয়েছে ৫ হাজার বর্গ ফুটের আলীশন ফ্ল্যাট। নিজের রয়েছে এলিয়ন ব্রান্ডের নতুন গাড়ী। কুমিল্লার নবীনগরে আছে ৪৫ একর জমি। ঢাকার কয়েকটি ব্যাংকে রয়েছে প্রচুর টাকা। শ্যালক সাইফুলের আরো রয়েছে ব্রান্ড নিউ লেক্সাস গাড়ী, বাড্ডাতে ৬ তলা বাড়ী,বসুন্ধরা ডি ব্লকে ৩টি ৫ কাঠার প্লট যার বর্তমান বাজার মূল্য ১৫ কোটি টাকা। এসব সম্পদের মুল মালিক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ এমনটিই মনে করছেন সবাই। দুদকের চোখকে ফাকি দিতেই তিনি ম্যালকের নামে এসব সম্পদ স্থিতি করেছেন।
এ সব বিষয় উল্লেখ করে গত ৭ জানুয়ারি দুদকের চেয়ারম্যান বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের একজন সচেতন ঠিকাদার। অভিযোগের সাথে তিনি তত্তা¡বধায়ক প্রকৌশলী মো: আবুল কালামের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রও জমা দিয়েছেনে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর ২০২১
৪৫২ বার পড়া হয়েছে

দুদকে অভিযোগ: শ্যালককে দিয়ে করাচ্ছেন ঠিকাদারী ব্যবসা: অবৈধপথে শত কোটি টাকার মালিক গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম!

আপডেট সময় ১০:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর ২০২১

সূর্য আহমেদ

গণপূর্তের ইএম-৩ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: আবুল কালামের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি,অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ শ্যালককে দিয়ে ঠিকাদারী ব্যবসা করার গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে।
অভিযোগের বর্নণায় জানাগেছে, তত্তা¡বধায়ক প্রকৌশলী মো: আবুল কালাম অবৈধ পথে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে তিনি তার শ্যালক সাইফুলের নামে একটি ঠিকাদারী ফার্ম খুলেছেন। ফার্মটির নাম -ইন্টিগ্রেটেড কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস। এই ঠিকাদারী ফার্মের অনুকুলে সিসিটিভি,নেটওয়ার্কিং,সাউন্ড সিসটেমস ও পিএবিএক্স এর কাজ দিতে অন্যান্য সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলীদের চাপ দিচ্ছেন। কোন নির্বাহী প্রকৌশলী তার কথা না শুনলেই তাকে হয়রানিমূলক বদলী করাচ্ছেন। এমন কি চাকুরী খেয়ে ফেলারও হুমকি দিচ্ছেন।
তিনি পিপিআর এর শর্তাবলী ভংগ করে নিজ শ্যালকের নামীয় ঠিকাদারী ফার্ম ইন্টিগ্রেটেড কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস’র নামে কাজ দিয়ে টেন্ডার অনুমোদন করেছেন এবং বেশ কিছু টেন্ডারে মূল্যায়নে পর্যালোচক হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি তার অধিনস্থ কাঠের কারখানা বিভাগে ৮ কোটি, মেকানিক্যাল কারখানা বিভাগে ৪ কোটি, ইএম বিভাগ ৭ এ ১২ কোটি, ইএম বিভাগ ৮, ও ইএম বিভাগ এ- ৬ কোটি ,মোট ৩০ কোটি টাকার অধিক কাজ প্রদান করেছেন। তার শ্যালককে কাজ না দেওয়ায় সৎ ও দক্ষ নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ মো: আব্দুল্লাহ আল মনসুরকে ইএম/৮ বিভাগ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি ঘুষ পেলে নিজেই এস্টিমেট তৈরী করেন। রাজস্ব বাজেটে ১২ লক্ষ টাকার প্রাক্কলন পাশ করার বিধান থাকলেও আবুল কালাম ১২ লক্ষ টাকার উর্ধের ২ কোটি টাকার প্রাক্কলন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে না পাঠিয়ে নিজেই পাশ করে দেন। এভারে দুর্নীতি করে সেই টাকায় প্রকৌশলী আবুল কালাম রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর ব্লক নং ৫ জি, রোড নং-৫, বাড়ী নং ০১ হোল্ডিং এ বহুতলা বাড়ী নির্মাণ করেছেন যার মুল্য কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা।
প্রকৌশলী আবুল কালামের শ্যালক সাইফুল একজন অতি সাধারণ মানুষ অথচ: দুলাভাইয়ের বদৌলতে ঠিকাদারী কাজ করে শত কোটি টাকার মালিক বনেগেছেন। গুলশানের নিকেতনে রয়েছে তার ৩ হাজার বর্গ ফুটের ০২টি ফ্ল্যাট, আফতাব নগরে রয়েছে ৫ কাঠার ৫ টি প্লট। বনশ্রীতে রয়েছে ৫ হাজার বর্গ ফুটের আলীশন ফ্ল্যাট। নিজের রয়েছে এলিয়ন ব্রান্ডের নতুন গাড়ী। কুমিল্লার নবীনগরে আছে ৪৫ একর জমি। ঢাকার কয়েকটি ব্যাংকে রয়েছে প্রচুর টাকা। শ্যালক সাইফুলের আরো রয়েছে ব্রান্ড নিউ লেক্সাস গাড়ী, বাড্ডাতে ৬ তলা বাড়ী,বসুন্ধরা ডি ব্লকে ৩টি ৫ কাঠার প্লট যার বর্তমান বাজার মূল্য ১৫ কোটি টাকা। এসব সম্পদের মুল মালিক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ এমনটিই মনে করছেন সবাই। দুদকের চোখকে ফাকি দিতেই তিনি ম্যালকের নামে এসব সম্পদ স্থিতি করেছেন।
এ সব বিষয় উল্লেখ করে গত ৭ জানুয়ারি দুদকের চেয়ারম্যান বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের একজন সচেতন ঠিকাদার। অভিযোগের সাথে তিনি তত্তা¡বধায়ক প্রকৌশলী মো: আবুল কালামের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রও জমা দিয়েছেনে।