০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনের উত্থান যেন তারই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

প্রতিনিধির নাম:

অনলাইন ডেস

করোনা মহামারী মোকাবেলা এবং পুনরায় তাদের অর্থনীতি স্বাভাবিক ভাবে সচল করার শক্তি অর্জন করেছে চীন। যেখানে অন্যান্য দেশ মহামারীর কবল থেকে এখন বের হয়ে আসতে পারে নি সেখানে চীন বিশ্ব বাজারে তাদের মোট দেশীয় পণ্যের ৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রসারিত করেছে।

১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনে রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শ্রমশক্তি। চীনের রয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাস্টিন লিন ২০১১ সালে বলেন, ২০১০ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত চীন ২০৩০ সাল নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে, যদি বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে।

বিগত কয়েক মাস যাবত চীন বিশ্ব দরবারে তার ক্ষমতার আস্ফালন দেখিয়েছে,তারা নিজস্ব বৈদেশিক নীতিতে মার্কিন চাপের মুখে পড়েছিল সেখানে ভেঙ্গে পড়ার বদলে তারা দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। শুধু তাই নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানে তারা তাদের প্রভাব বাড়িয়েছে, হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকেও তারা কূটনৈতিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। এছাড়াও রয়েছে তাইওয়ানের উপর কূটনৈতিক প্রভাব, ভারতের সাথে সীমান্ত বিতর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে করা জবাব দেয়া।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশ গুলো যদি চীনকে পেছনে ফেলতে চায় সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের চীনের ইতিহাসকে ঘাটতে হবে শুধু তাই না তাদের জানতে হব চীন কীভাবে এ অবস্থানে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের দ্বন্দ্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের জড়িত থাকার ব্যাপারটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুতর ভুল। এতে যুক্তরাজ্যের জন্য বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ তৈরি হয়েছে। চীনের সাথে বোঝাপড়া ছাড়াই, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা বেইজিং এবং আমেরিকান বৈশ্বিক দ্বন্দ্বে অংশগ্রহণ করেছে। যা যুক্তরাজ্যের জন্য চ্যালেঞ্জ স্বরূপ।

চীনের উত্থানের মূল বিষয়টি হ’ল তারা পাশ্চাত্যের মত নয় চীন তাদের রাজনীতি এবং অর্থনীতি বেগবান করার জন্য সবসময় ইতিহাসকে মূল্যায়ন করেছে এবং করে।

কিছুদিন আগেও চীনের অর্থনৈতিক উত্থানকে কোন উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হতো না। মনে করা হতো যে তাদের বিকাশমান অর্থনীতি ক্রমশই উদার-হতে-থাকা রাজনৈতিক ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলবে।

মার্কিন বিশেষজ্ঞরা সে সময় বলতেন, “চীন একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক অংশীদার হয়ে উঠছে।” কিন্তু সে দিন আর নেই। চীনকে এখন দেখা হচ্ছে এক হুমকি হিসেবে। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন যে চীন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেভাবে বাড়ছে তাতে শেষ পর্যন্ত একটা যুদ্ধ বেধে যেতে পারে ।তা যদি হয়, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া হবে বিশ্বব্যাপী।

উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে চীন পশ্চিমা দেশগুলির থেকে রাজনৈতিকভাবে, সামরিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে ছিল।

প্রাচীন গ্রীসে যেমন এথেন্স চ্যালেঞ্জ করেছিল স্পার্টা-কে, উনবিংশ শতাব্দীতে জার্মানি যেমন চ্যালেঞ্জ করেছিল ব্রিটেনকে, ঠিক তেমনি এ যুগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করছে চীনের উত্থান।

বিগত ২,০০০ বছরে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ছিল চীন। চীনকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জিডিপির দেশ হিসেবে ধরা হয়। ২০ শতকে যুক্তরাষ্ট্র যেমন সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, তেমনি একুশ শতকে চীন হবে সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। লন্ডন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Centre for Economics and Business Research এর ২০১৯ সালের প্রকাশিত এক টেবিল (World Economic League Table 2019) থেকে জানা যায় , চীন ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুত।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ নির্দেশ করে যে শাং সাম্রাজ্য খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ থেকে ১০৪৬ পর্যন্ত চীন শাসন করে। সাং শাসনকালের প্রমাণসমূহ ইঙ্গিত করে যে ইংল্যান্ডের সাত শতাব্দী পূর্বে চীনে শিল্প বিপ্লব ঘটে।

বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন অত্যন্ত প্রভাবশালী, বর্তমান অর্থনীতি বাজার অনেকটাই চীন দখল করে নিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি বাজারে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে চীন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে চীন শিল্প-নির্ভর অর্থনীতি-মুখী হয়ে পড়েছে সেই মাও সে তুংয়ের শাসনামল থেকেই। তারও অনেক পূর্বে চীনের রেশম কাপড়, তৈল চিত্র ও রংয়ের কদর সারা বিশ্বজুড়ে ছিল। হিউয়েন সাঙয়ের ভ্রমণ কাহিনীতে যে চীনের বর্ণনা পাওয়া যায় সেই মতে চীনের মনোহারী দ্রব্যের কদর সারা বিশ্বজুড়ে ছিল। বিংশ শতাব্দীতে পরবর্তী প্রেক্ষাপটে চীন এরপর ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যায়। সেই সিল্ক থেকে শুরু করে বর্তমান আইফোন সব চাইনিজ পণ্য তখন থেকে এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছে চাহিদার শীর্ষে।

কিয়ালং সম্রাটের শাসনামলে, কিং সম্রাজ্য সমৃদ্ধির সর্ব্বোচ্চ শিখরে পৌছায়। চীন সম্রাট তখন পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ জনগণকে শাসন করত। এবং একই সাথে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতি হিসাবে স্বীকৃত ছিল। ১৯ শতকে এসে চীন সম্রাজ্য ক্রমেই দুর্বল হয়ে পরে। এবং পশ্চিমা শক্তির দ্বারা নানা হুমকির সম্মুখীন হয়। ১৮৪০ সালে প্রথম আফিম যুদ্ধে চীন ব্রিটিশ সম্রাজ্যের কাছে পরাজিত হয়। ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তির মাধ্যমে হংকং তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়।

সম্প্রতি চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হংকং-কে নিয়ে চীন – যুক্তরাজ্য সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েই চলছে। হংকং ব্রিটেনের একসময়কার সাবেক উপনিবেশ। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেন এটি চীনের কাছে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু তখন চুক্তি হয়েছিল, ‘ওয়ান কান্ট্রি, টু সিস্টেম’ নীতি অনুযায়ী হংকং পরিচালিত হবে। অর্থাৎ হংকং চীনের অন্তর্ভুক্ত হলেও সেখানে পুঁজিবাদী নীতিতেই ব্যবসা-বাণিজ্য চলবে, রাজনৈতিক ব্যবস্থাও হবে পৃথক। বহাল থাকবে হংকং এর নিজস্ব আইন কানুন। থাকবে জনসমাবেশ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা। চীন আর ব্রিটেনের এই চুক্তি ২০৪৭ সাল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা।

খুব সম্ভবত চীন “সাম্রাজ্য” পুনরায় খুব শক্তিশালী ভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । খুব দৃঢ় প্রত্যয়ী ভাবে এশিয়াতে তার অবস্থান জানান দিচ্ছে। চীন গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের লক্ষ্যের দিকে, যার শুরু অবকাঠামোর নির্মাণের অর্থায়ন দিয়ে এবং শেষপর্যন্ত তারাও আমেরিকার মতো বিদেশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরালো করা শুরু করেছে বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে। কারণ, বাণিজ্যের নিয়মতান্ত্রিক সুবিধা আদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থানের বিকল্প নেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১
১৬০ বার পড়া হয়েছে

চীনের উত্থান যেন তারই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

আপডেট সময় ১১:০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১

অনলাইন ডেস

করোনা মহামারী মোকাবেলা এবং পুনরায় তাদের অর্থনীতি স্বাভাবিক ভাবে সচল করার শক্তি অর্জন করেছে চীন। যেখানে অন্যান্য দেশ মহামারীর কবল থেকে এখন বের হয়ে আসতে পারে নি সেখানে চীন বিশ্ব বাজারে তাদের মোট দেশীয় পণ্যের ৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রসারিত করেছে।

১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীনে রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শ্রমশক্তি। চীনের রয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাস্টিন লিন ২০১১ সালে বলেন, ২০১০ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত চীন ২০৩০ সাল নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে, যদি বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকে।

বিগত কয়েক মাস যাবত চীন বিশ্ব দরবারে তার ক্ষমতার আস্ফালন দেখিয়েছে,তারা নিজস্ব বৈদেশিক নীতিতে মার্কিন চাপের মুখে পড়েছিল সেখানে ভেঙ্গে পড়ার বদলে তারা দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। শুধু তাই নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানে তারা তাদের প্রভাব বাড়িয়েছে, হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকেও তারা কূটনৈতিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। এছাড়াও রয়েছে তাইওয়ানের উপর কূটনৈতিক প্রভাব, ভারতের সাথে সীমান্ত বিতর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে করা জবাব দেয়া।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশ গুলো যদি চীনকে পেছনে ফেলতে চায় সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের চীনের ইতিহাসকে ঘাটতে হবে শুধু তাই না তাদের জানতে হব চীন কীভাবে এ অবস্থানে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের দ্বন্দ্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের জড়িত থাকার ব্যাপারটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুতর ভুল। এতে যুক্তরাজ্যের জন্য বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ তৈরি হয়েছে। চীনের সাথে বোঝাপড়া ছাড়াই, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা বেইজিং এবং আমেরিকান বৈশ্বিক দ্বন্দ্বে অংশগ্রহণ করেছে। যা যুক্তরাজ্যের জন্য চ্যালেঞ্জ স্বরূপ।

চীনের উত্থানের মূল বিষয়টি হ’ল তারা পাশ্চাত্যের মত নয় চীন তাদের রাজনীতি এবং অর্থনীতি বেগবান করার জন্য সবসময় ইতিহাসকে মূল্যায়ন করেছে এবং করে।

কিছুদিন আগেও চীনের অর্থনৈতিক উত্থানকে কোন উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হতো না। মনে করা হতো যে তাদের বিকাশমান অর্থনীতি ক্রমশই উদার-হতে-থাকা রাজনৈতিক ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলবে।

মার্কিন বিশেষজ্ঞরা সে সময় বলতেন, “চীন একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক অংশীদার হয়ে উঠছে।” কিন্তু সে দিন আর নেই। চীনকে এখন দেখা হচ্ছে এক হুমকি হিসেবে। অনেকেই ভয় পাচ্ছেন যে চীন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেভাবে বাড়ছে তাতে শেষ পর্যন্ত একটা যুদ্ধ বেধে যেতে পারে ।তা যদি হয়, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া হবে বিশ্বব্যাপী।

উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে চীন পশ্চিমা দেশগুলির থেকে রাজনৈতিকভাবে, সামরিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে ছিল।

প্রাচীন গ্রীসে যেমন এথেন্স চ্যালেঞ্জ করেছিল স্পার্টা-কে, উনবিংশ শতাব্দীতে জার্মানি যেমন চ্যালেঞ্জ করেছিল ব্রিটেনকে, ঠিক তেমনি এ যুগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করছে চীনের উত্থান।

বিগত ২,০০০ বছরে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ছিল চীন। চীনকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জিডিপির দেশ হিসেবে ধরা হয়। ২০ শতকে যুক্তরাষ্ট্র যেমন সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, তেমনি একুশ শতকে চীন হবে সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। লন্ডন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Centre for Economics and Business Research এর ২০১৯ সালের প্রকাশিত এক টেবিল (World Economic League Table 2019) থেকে জানা যায় , চীন ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুত।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ নির্দেশ করে যে শাং সাম্রাজ্য খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ থেকে ১০৪৬ পর্যন্ত চীন শাসন করে। সাং শাসনকালের প্রমাণসমূহ ইঙ্গিত করে যে ইংল্যান্ডের সাত শতাব্দী পূর্বে চীনে শিল্প বিপ্লব ঘটে।

বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে চীন অত্যন্ত প্রভাবশালী, বর্তমান অর্থনীতি বাজার অনেকটাই চীন দখল করে নিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি বাজারে অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে চীন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে চীন শিল্প-নির্ভর অর্থনীতি-মুখী হয়ে পড়েছে সেই মাও সে তুংয়ের শাসনামল থেকেই। তারও অনেক পূর্বে চীনের রেশম কাপড়, তৈল চিত্র ও রংয়ের কদর সারা বিশ্বজুড়ে ছিল। হিউয়েন সাঙয়ের ভ্রমণ কাহিনীতে যে চীনের বর্ণনা পাওয়া যায় সেই মতে চীনের মনোহারী দ্রব্যের কদর সারা বিশ্বজুড়ে ছিল। বিংশ শতাব্দীতে পরবর্তী প্রেক্ষাপটে চীন এরপর ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যায়। সেই সিল্ক থেকে শুরু করে বর্তমান আইফোন সব চাইনিজ পণ্য তখন থেকে এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছে চাহিদার শীর্ষে।

কিয়ালং সম্রাটের শাসনামলে, কিং সম্রাজ্য সমৃদ্ধির সর্ব্বোচ্চ শিখরে পৌছায়। চীন সম্রাট তখন পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ জনগণকে শাসন করত। এবং একই সাথে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতি হিসাবে স্বীকৃত ছিল। ১৯ শতকে এসে চীন সম্রাজ্য ক্রমেই দুর্বল হয়ে পরে। এবং পশ্চিমা শক্তির দ্বারা নানা হুমকির সম্মুখীন হয়। ১৮৪০ সালে প্রথম আফিম যুদ্ধে চীন ব্রিটিশ সম্রাজ্যের কাছে পরাজিত হয়। ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তির মাধ্যমে হংকং তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়।

সম্প্রতি চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হংকং-কে নিয়ে চীন – যুক্তরাজ্য সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েই চলছে। হংকং ব্রিটেনের একসময়কার সাবেক উপনিবেশ। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেন এটি চীনের কাছে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু তখন চুক্তি হয়েছিল, ‘ওয়ান কান্ট্রি, টু সিস্টেম’ নীতি অনুযায়ী হংকং পরিচালিত হবে। অর্থাৎ হংকং চীনের অন্তর্ভুক্ত হলেও সেখানে পুঁজিবাদী নীতিতেই ব্যবসা-বাণিজ্য চলবে, রাজনৈতিক ব্যবস্থাও হবে পৃথক। বহাল থাকবে হংকং এর নিজস্ব আইন কানুন। থাকবে জনসমাবেশ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা। চীন আর ব্রিটেনের এই চুক্তি ২০৪৭ সাল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা।

খুব সম্ভবত চীন “সাম্রাজ্য” পুনরায় খুব শক্তিশালী ভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । খুব দৃঢ় প্রত্যয়ী ভাবে এশিয়াতে তার অবস্থান জানান দিচ্ছে। চীন গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের লক্ষ্যের দিকে, যার শুরু অবকাঠামোর নির্মাণের অর্থায়ন দিয়ে এবং শেষপর্যন্ত তারাও আমেরিকার মতো বিদেশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরালো করা শুরু করেছে বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে। কারণ, বাণিজ্যের নিয়মতান্ত্রিক সুবিধা আদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থানের বিকল্প নেই।