০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগের সিদ্ধান্ত বদল, বিসিএস দেওয়া যাবে সর্বোচ্চ চারবার

প্রতিনিধির নাম:
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ চারবার অংশ নিতে পারবেন। কয়েক দিন আগে তিনবার বিসিএস দিতে পারবেন একজন প্রার্থী—এমন সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। এখন নতুন সিদ্ধান্ত, কোনো প্রার্থী সর্বোচ্চ চারবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এক সপ্তাহ আগে গত ২৪ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তাতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়। ওই বৈঠকেই চাকরিবিধি পরিবর্তন করে বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিনবারের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত জানাতে বিফ্রিংয়ে এসে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছিলেন, চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর হবে। এ ছাড়া বিসিএসে তিনবারই আবেদন করা যাবে। তিনবার মানে তিনবারই। কিন্তু একজন প্রার্থী তিনবারের বেশি বিসিএস পরীক্ষায় ‘অবতীর্ণ’ হতে পারবেন না—এমন সিদ্ধান্ত দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করে। এটি নিয়ে এত বেশি চর্চা হয়েছে যে, ফেসবুকের বহুল আলোচিত শব্দ হয়েছিল– বিসিএস। তবে অনেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, অনেকে আবার তিরষ্কারও করেছেন।অন্যদিকে, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরকারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে ফের রাস্তায় নামেন। দুদিন আগে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিসিএসের আবেদনের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো অন্তর্বর্তী সরকার। একজন পরীক্ষার্থী এখন সর্বোচ্চ চারবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। তবে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। গত বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলো সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ করার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিসিএসের সব ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারিত হবে। বিসিএসের আওতাবহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও একই বয়স নির্ধারিত হবে। আর স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ক্ষেত্রে নিজ নিজ নিয়োগ বিধিমালা প্রয়োজনীয় সংযোজন সাপেক্ষে এই বয়সের বিষয়টি প্রযোজ্য হবে। তবে প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগগুলো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষেত্রে নিজ নিজ নিয়োগ বিধিমালা বহাল থাকবে। এর আগে এ-সংক্রান্ত পর্যালোচনা কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা পুরুষের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৩৭ বছর করার সুপারিশ করেছিল। তবে তারা চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার বয়স নিয়ে কিছু বলেননি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবির বিষয়টি পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছিল সাবেক সচিব আবদুল মুয়ীদ চৌধুরীকে, যিনি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৪৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪
১৮২ বার পড়া হয়েছে

আগের সিদ্ধান্ত বদল, বিসিএস দেওয়া যাবে সর্বোচ্চ চারবার

আপডেট সময় ১১:৪৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ চারবার অংশ নিতে পারবেন। কয়েক দিন আগে তিনবার বিসিএস দিতে পারবেন একজন প্রার্থী—এমন সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। এখন নতুন সিদ্ধান্ত, কোনো প্রার্থী সর্বোচ্চ চারবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এক সপ্তাহ আগে গত ২৪ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তাতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়। ওই বৈঠকেই চাকরিবিধি পরিবর্তন করে বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিনবারের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত জানাতে বিফ্রিংয়ে এসে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছিলেন, চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর হবে। এ ছাড়া বিসিএসে তিনবারই আবেদন করা যাবে। তিনবার মানে তিনবারই। কিন্তু একজন প্রার্থী তিনবারের বেশি বিসিএস পরীক্ষায় ‘অবতীর্ণ’ হতে পারবেন না—এমন সিদ্ধান্ত দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করে। এটি নিয়ে এত বেশি চর্চা হয়েছে যে, ফেসবুকের বহুল আলোচিত শব্দ হয়েছিল– বিসিএস। তবে অনেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, অনেকে আবার তিরষ্কারও করেছেন।অন্যদিকে, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরকারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে ফের রাস্তায় নামেন। দুদিন আগে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিসিএসের আবেদনের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো অন্তর্বর্তী সরকার। একজন পরীক্ষার্থী এখন সর্বোচ্চ চারবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। তবে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। গত বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলো সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ করার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিসিএসের সব ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারিত হবে। বিসিএসের আওতাবহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও একই বয়স নির্ধারিত হবে। আর স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ক্ষেত্রে নিজ নিজ নিয়োগ বিধিমালা প্রয়োজনীয় সংযোজন সাপেক্ষে এই বয়সের বিষয়টি প্রযোজ্য হবে। তবে প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগগুলো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষেত্রে নিজ নিজ নিয়োগ বিধিমালা বহাল থাকবে। এর আগে এ-সংক্রান্ত পর্যালোচনা কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা পুরুষের ক্ষেত্রে ৩৫ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৩৭ বছর করার সুপারিশ করেছিল। তবে তারা চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার বয়স নিয়ে কিছু বলেননি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবির বিষয়টি পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার। এ কমিটির প্রধান করা হয়েছিল সাবেক সচিব আবদুল মুয়ীদ চৌধুরীকে, যিনি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান।