বিক্রি করা জমি বন্ধক রেখে ২৭০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ নিয়েছেন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
রফিকের বিক্রি করে দেওয়ার পর ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষ ইমরান করিমের জমির মালিকানা পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। আবুল কাশেম গংয়ের মালিকানাধীন ২৮.১৩ শতাংশ এবং তামান্না সুলতানার ১৫.৫৩ শতাংশ জমির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি। এ ছাড়া আবুল কাশেম গংয়ের মালিকানাধীন ২২.৭০ শতাংশের আরেকটি প্লটের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে এ বছরের ১৯ মার্চ।
রফিকের দেওয়া ঋণের বন্ধকী জমি আগেই বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঋণ বিতরণের আগে আমরা ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে জমির মালিক হিসেবে রফিকুল ইসলামকেই পেয়েছি। এ ধরনের অভিযোগ এলে আমরা খোঁজ নেব এবং ব্যাংকের আইনজীবী বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।’
তিনি বলেন, অন্যত্র বিক্রি করা জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার প্রমাণ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাংকের বন্ধক নেওয়া জমিতে অন্য কম্পানি ও মালিকের সাইনবোর্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছিলাম। হয়তো কেউ ভেঙে ফেলেছে, এমনটাও হতে পারে।’
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই জমিগুলো মালিকদের ভোগদখলে রয়েছে। তামান্না ইসলামের জমিতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ শুরু করেছে সুবাস্তু প্রপার্টিজ। ৪৮২, ৪৮৩, ৪৮৪, ৪৮৭, ৪৮৮ ও ৪৮৯ নম্বর প্লটের ২৮.১৩ শতাংশ এবং ৫৩০, ৫৩১, ৫৩২, ৫৩৩, ৫৩৪ ও ৫৩৫ নম্বর প্লটের ২২.৭০ শতাংশ আবুল কাশেমের মালিকানাধীন ড্রিমওয়ে হোল্ডিংস লিমিটেডও বহুতল ভবন নির্মাণের সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছে। ৫৫১, ৫৫২, ৫৫৬, ৫৫৭ ও ৫৫৮ নম্বর প্লটের ২৭.৫১ শতাংশ জমির মালিক ইমরান করিম তাঁর জমিতে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে রেখেছেন।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে বন্ধক দেওয়া ওই প্লটগুলোর মালিকানার বিষয়ে গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ওই জমি রফিকুল ইসলামের মালিকানায় নেই।
এসব বিষয়ে জানতে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জানা গেছে, প্রতারণা ঠেকাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জমি বন্ধক রেখে ঋণ দেওয়া অথবা তৃতীয় পক্ষের কাছে বেচাকেনার আগে ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট প্রা. লিমিটেড তাদের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছিল। তবে রফিকের ব্যাংকঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটি কোনো অনাপত্তিপত্র নেয়নি বলে জানিয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট প্রা. লিমিটেড।
এদিকে ইমরান করিমের আইনজীবী মলয় কুমার রায় বলেন, ‘সব কিছু যাচাই-বাছাই করে জমিটি আমরা ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে কিনেছি এবং ১৮ ডিসেম্বরে নামজারি করেছি। পরে বসুন্ধরা অফিস থেকে নিয়ম অনুসারে নাম বদল হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা জায়গাটিতে আমাদের মতো করে সীমানাপ্রাচীর দিয়েছি। তবে আমাদের জমি বন্ধক রেখে রফিকুল ইসলামের ঋণ নেওয়ার বিষয়টি গত মঙ্গলবার অবগত হয়েছি।’
আইনজীবী মলয় কুমার রায় বলেন, ‘কোনোভাবেই একজন আরেকজনের জমি ব্যাংকে বন্ধক রাখতে পারে না। এটা বড় ধরনের প্রতারণা ও জালিয়াতি। এখানে ব্যাংকেরও যোগসাজশ থাকতে পারে। এ ধরনের কিছু হলে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
অন্যের কাছে জমি বিক্রি করার পর তা আবার বন্ধক রেখে রফিক কিভাবে ঋণ পেলেন—এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়াসেক আলীর সঙ্গে। মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তায় জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। তখন তাঁর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি বিস্তারিত না দেখে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না। নথি পর্যালোচনা করে পরে বিষয়টি জানানো সম্ভব হবে।













