০৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে সর্ষের মধ্যেই ভুত: এক পরীক্ষাতেই প্রধান পরীক্ষকের অবৈধ আয় ১০ লক্ষ টাকা!

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মাষ্টারশীপ পরীক্ষায় চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ও প্রধান পরীক্ষক ক্যাপ্টেন মোঃ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গত ০৫/১০/২০২৩ তারিখে ১ম শ্রেণীর মাষ্টারশীপ পরীক্ষায় ১০ লক্ষ টাকা অবৈধ আয় করছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে জমা পড়েছে।

জানাগেছে, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের নৌযান ড্রাইভার ও মাষ্টারশীপ পরীক্ষার অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্যাকেজ পাশ, কোচিং বাণিজ্য কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। দালালদের পাশাপাশি ডিজি শিপিং এর বড় বড় কর্মকর্তারাই জড়িয়ে পড়েছেন এই অনৈতিক কর্মকান্ডে, যা এ যাবতকালে সকল দুর্নীতির শীর্ষে অবস্থান করছে।

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ও ইনল্যান্ড মাষ্টারশীপ পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক ক্যাপ্টেন মোঃ গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর মাষ্টার পরীক্ষায় শিক্ষার্থী প্রতি যথাক্রমে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা রেট নির্ধারণ করেছেন। এছাড়াও কর্ণফুলী ও পশুর এনডোর্সমেন্ট পরীক্ষার্থী বাবদ রেট জনপ্রতি ৪০ হাজার। ইনল্যান্ড মাস্টারশিপ পরীক্ষা ছাড়াও অবৈধভাবে টাকা কামানোর জন্য তিনি ইতিমধ্যে ৩২ টি খাত খুলেছেন। এবং প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন খাত খুলছেন। তার সর্বশেষ খাত হচ্ছে জনপ্রতি নগদ ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পানামা সিডিসিধারীদের অবৈধভাবে বাংলাদেশি সিডিসি প্রদান।

৩২ টি ইনল্যান্ড মাষ্টারশীপ ও এনডোর্সমেন্ট পরীক্ষার খাত থেকেই তিনি বছরে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। পূর্বে কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন থাকাকালীন সময়ে সাগর, তুষার, হাফিজ, মুন্না, শফিক, মুনির সহ বেশকিছু দালালের মাধ্যমে পরীক্ষার বিজনেস করালেও গত বছর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার হিসেবে যোগদানের পর থেকে বেশি লাভের জন্য তিনি অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সরকার ও দপ্তরি নজরুল ইসলামকে এই কাজে তার সহযোগী হিসেবে নিয়োজিত করেছেন।

ক্যাপ্টেন মোঃ গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ, শাহাদাত হোসেন সরকার এবং নজরুল মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় বেনামে হোটেল আল রাব্বি নামে আবাসিক হোটেল গড়ে তুলেছেন। তারা গত বেশ কিছুদিন যাবত এই হোটেলে ইনল্যান্ড মাষ্টার পরীক্ষার্থীদের রেখে আগের রাতে পরীক্ষায় আসতে পারে এমন প্রশ্ন পড়াচ্ছেন এবং পরীক্ষার দিন সকালে ক্যাপ্টেন মোঃ গিয়াস উদ্দিন শাহাদাতের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জার এর মাধ্যমে পরীক্ষার মূল প্রশ্ন পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করছেন।
এভাবে তারা অযোগ্য প্রার্থীদের পাশ করিয়ে দেশের নৌ খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। ফলে প্রতি বছর নৌ দুর্ঘটনা ঘটে শত শত নৌ যাত্রীর প্রানহানী ঘটছে। দেশের প্রধান মন্ত্রী যেখানে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য দিন রাত আপ্রান পরিশ্রম করছেন সেখানে গিয়াস উদ্দিন আহম্মদদের মত কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে তিনি সফল হতে পারছেন না। এ সব কর্মকর্তাদের চকিুরী থেকে অপসারন করা অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করছেন দেশের সচেতন মহল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:৩৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৩
৭৬৪ বার পড়া হয়েছে

নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে সর্ষের মধ্যেই ভুত: এক পরীক্ষাতেই প্রধান পরীক্ষকের অবৈধ আয় ১০ লক্ষ টাকা!

আপডেট সময় ০২:৩৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৩

বিশেষ প্রতিবেদক

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মাষ্টারশীপ পরীক্ষায় চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ও প্রধান পরীক্ষক ক্যাপ্টেন মোঃ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গত ০৫/১০/২০২৩ তারিখে ১ম শ্রেণীর মাষ্টারশীপ পরীক্ষায় ১০ লক্ষ টাকা অবৈধ আয় করছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে জমা পড়েছে।

জানাগেছে, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের নৌযান ড্রাইভার ও মাষ্টারশীপ পরীক্ষার অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্যাকেজ পাশ, কোচিং বাণিজ্য কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। দালালদের পাশাপাশি ডিজি শিপিং এর বড় বড় কর্মকর্তারাই জড়িয়ে পড়েছেন এই অনৈতিক কর্মকান্ডে, যা এ যাবতকালে সকল দুর্নীতির শীর্ষে অবস্থান করছে।

নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ও ইনল্যান্ড মাষ্টারশীপ পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক ক্যাপ্টেন মোঃ গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর মাষ্টার পরীক্ষায় শিক্ষার্থী প্রতি যথাক্রমে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা রেট নির্ধারণ করেছেন। এছাড়াও কর্ণফুলী ও পশুর এনডোর্সমেন্ট পরীক্ষার্থী বাবদ রেট জনপ্রতি ৪০ হাজার। ইনল্যান্ড মাস্টারশিপ পরীক্ষা ছাড়াও অবৈধভাবে টাকা কামানোর জন্য তিনি ইতিমধ্যে ৩২ টি খাত খুলেছেন। এবং প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন খাত খুলছেন। তার সর্বশেষ খাত হচ্ছে জনপ্রতি নগদ ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পানামা সিডিসিধারীদের অবৈধভাবে বাংলাদেশি সিডিসি প্রদান।

৩২ টি ইনল্যান্ড মাষ্টারশীপ ও এনডোর্সমেন্ট পরীক্ষার খাত থেকেই তিনি বছরে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। পূর্বে কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন থাকাকালীন সময়ে সাগর, তুষার, হাফিজ, মুন্না, শফিক, মুনির সহ বেশকিছু দালালের মাধ্যমে পরীক্ষার বিজনেস করালেও গত বছর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার হিসেবে যোগদানের পর থেকে বেশি লাভের জন্য তিনি অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সরকার ও দপ্তরি নজরুল ইসলামকে এই কাজে তার সহযোগী হিসেবে নিয়োজিত করেছেন।

ক্যাপ্টেন মোঃ গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ, শাহাদাত হোসেন সরকার এবং নজরুল মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় বেনামে হোটেল আল রাব্বি নামে আবাসিক হোটেল গড়ে তুলেছেন। তারা গত বেশ কিছুদিন যাবত এই হোটেলে ইনল্যান্ড মাষ্টার পরীক্ষার্থীদের রেখে আগের রাতে পরীক্ষায় আসতে পারে এমন প্রশ্ন পড়াচ্ছেন এবং পরীক্ষার দিন সকালে ক্যাপ্টেন মোঃ গিয়াস উদ্দিন শাহাদাতের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জার এর মাধ্যমে পরীক্ষার মূল প্রশ্ন পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করছেন।
এভাবে তারা অযোগ্য প্রার্থীদের পাশ করিয়ে দেশের নৌ খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। ফলে প্রতি বছর নৌ দুর্ঘটনা ঘটে শত শত নৌ যাত্রীর প্রানহানী ঘটছে। দেশের প্রধান মন্ত্রী যেখানে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার জন্য দিন রাত আপ্রান পরিশ্রম করছেন সেখানে গিয়াস উদ্দিন আহম্মদদের মত কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে তিনি সফল হতে পারছেন না। এ সব কর্মকর্তাদের চকিুরী থেকে অপসারন করা অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করছেন দেশের সচেতন মহল।