১২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবেতর জীবন যাপন করছে হুমায়ুনের পরিবার: বিসিকে সর্বোচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষিত!

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

পদোন্নতির ক্ষেত্রে আইনগত প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য বিসিকের কর্মচারি মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ক্যাটালগার, স্কিটি, বিসিক, ঢাকা ২০১৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং-৬৭১১) দায়ের করেছিলেন। দেশের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বেঞ্চ ৩১-০৮-২০২০, ১০-০৯-২০২০, ১৬-০৯-২০২০, ২২-০৯-২০২০ এবং ২৩-০৯-২০২০ তারিখে শুনানী শেষে ২৯ অক্টোবর ২০২০ রায় প্রদান করে বিসিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেছিল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে পদোন্নতি প্রদানের এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতের দেয়া রায় বাস্তবায়ন করার জন্য।
বিসিক কর্তৃপক্ষ উক্ত রায় বাস্তবায়ন না করে ২০২০ সালে সিএমপি মামলা নং-৬৮৩ দায়ের করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে। উক্ত সিএমপি মামলায় আদালত স্থগিতাদেশ দেয়নি। তারপরে বিসিক কর্তৃপক্ষ আপীলেট ডিভিশনে সিপিএলএ মামলা নং-৮০১/২০২১ দায়ের করে। বিস্তারিত শুনানী শেষে ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখে আপীলেট ডিভিশনের ২নং কোর্ট বিচারপতি ওবায়দুল হাসান (যিনি বর্তমানে প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি বোরহান উদ্দিন এবং বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় প্রদান করে বিসিকের দায়েরকৃত সিপিএলএ মামলা নং-৮০১/২০২১ খারিজ করে আদেশ প্রদান করে। যেখানে উল্লেখ করা আছে,  ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর তারিখে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখা হয়েছে। বিস্তারিত শুনানী শেষে ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখে আপীলেট ডিভিশনের ২নং কোর্ট বিচারপতি ওবায়দুল হাসান (যিনি বর্তমানে প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি বোরহান উদ্দিন এবং বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় প্রদান করে বিসিকের দায়েরকৃত সিপিএলএ মামলা নং-৮০১/২০২১ খারিজ করে আদেশ প্রদান করেন।
উক্ত রায় প্রদানকালে বিসিকের এর পক্ষে আইনজীবি (এডভোকেট) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান এর অনুমোদনক্রমে বিসিক সচিব শ্যামলী নবী এর পত্র সূত্র নং-৩৬.০২.০০০০.০৭.০৪.৯৭.২৩/৩০০ তারিখঃ ২৪-০৮-২০২৩ এর বরাতে সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত শুনানীকালে উপস্থিত থাকা আইনজীবি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এর মতামত চেয়ে একটি পত্র প্রেরণ করে। বিসিক সচিবের প্রেরিত উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান নিজেকে আদালতের উর্ধে স্থান দিয়ে এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে জগাখিচুড়ি মার্কা মতামত প্রদান করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অনুমান করা সহজ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাববুবুর রহমান, বিসিক সচিব শ্যামলী নবী দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় বাস্তবায়ন না করে চূড়ান্তভাবে অসৎ উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার কাজটি করেছেন। আর তাদের এ অসৎ কাজে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি বিসিকে জমা প্রদান করা হয়েছে ১৪-০৮-২০২৩ তারিখে। সে অনুযায়ী ১৩-০৯-২০২৩ তারিখের মধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করার কথা। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করে বিসিক স্মারক নং-৩৬.০২.০০০০.০০৩.০৪.০০৭.২৩.৭৪০৬ তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ মূলে মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরকে লিখিত এক পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে বিসিক চাকুরী প্রবিধানমালা ১৯৮৯, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২৪-০১-২০০৪ তারিখের ২৫ নং স্মারক ও ০৮-০৯-২০১১ তারিখে ২৯৬ নং স্মারকের জিও এবং বিসিকের প্যানেল আইনজীবির মতামত অনুযায়ী ক্যাটালগার পদ হতে লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগদানের সুযোগ নেই। উল্লেখ্য যে, উক্ত পত্রটি ব্যাকডেট দিয়ে জারী করা হয়েছে যা ২০-০৯-২০২৩ তারিখে পোষ্ট অফিস প্রদত্ত সীল হতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। সংগত কারণে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিসিকের শৃংখলা শাখার উপ-ব্যবস্থাপক আসিফ উল হাসান এর উপস্থাপনায় বিসিক চেয়ারম্যান এর অনুমোদনক্রমে বিসিক সচিব শ্যামলী নবী বিদ্বেষ প্রসূত মনোভাব পোষন করে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি অসম্মাণ ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করার এতো দুঃসাহস কোথা থেকে পেলেন? দ্বিতীয়তঃ বিসিকের প্যানেল আইনজীবির উল্টা-পাল্টা, বিভ্রান্তিকর এবং এখতিয়ার বহির্ভুত মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার ইচ্ছা থাকলে বিপুল পরিমাণ সরকারী অর্থ ব্যয় করে আদালতে মামলা পরিচালনার দরকার কি ছিল? জানা একান্ত প্রয়োজন বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান, বিসিক সচিব শ্যামলী নবী, বিসিকের শৃংখলা শাখার উপ-ব্যবস্থাপক আসিফ উল হাসান এবং বিসিকের প্যানেল আইনজীবি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গংদের অবস্থান দেশের সর্বোচ্চ আদালতের উপরে কিনা?

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস পার্ট-১ ও ২, বিসিক সার্ভিস রুলস ১৯৮৯, জাতীয় বেতন স্কেল গেজেট নোটিফিকেশন ২০১৫ বা সরকারের প্রচলিত কোন বিধানে বেতন ভাতা বন্ধ রাখার নিয়মাচার না থাকার পরও কোন প্রকার আদেশ জারী বা ষোষনা ব্যতীত স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বিসিক কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এর বেতন ভাতা বন্ধ রেখে তার সাথে এবং তার পরিবারের সাথে চরম অমানবিক আচরণ করার এখতিয়ার সংরক্ষণ করে না। সরকারী কর্মচারী শৃংখলা ও আপীল বিধিমালা-২০১৮ এর ধারা নং-২৬ এ উল্লিখিত বিধান লংঘন করে প্রাপ্য অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এর বেতন ভাতা প্রদানের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত প্রদান না করে বিসিকের প্যানেল আইনজীবি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কর্তৃক তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অমানবিক আচরণকে বেছে নেয়ার কোন বিধান থাকার কথা নয়। বিসিক চেয়ারম্যান, বিসিক সচিব, বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক(শৃংখলা) এবং বিসিকের নিযুক্তিয় উকিলের (আইনজীবির) আচরণে উপেক্ষিত সর্বোচ্চ আদালতের রায়-লুন্ঠিত মানবতা, যা অমানবিক।

প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় অবলীলায় অবমাননা করে চলেছেন বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান এবং বিসিক সচিব শ্যামলী নবী। আর তাদের অপকর্মে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রদান করে চলেছেন বিসিকের শৃংখলা শাখার উপ-ব্যবস্থাপক আসিফ উল হাসান (যিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে নথি উপস্থাপন করে হুমায়ুন কবির এবং তার পরিবারের অস্তিত্ব নষ্ট করার অসৎ হীন চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন)।

বিসিক চেয়ারম্যান, বিসিক সচিব, বিসিকের শৃংখলা শাখার উপব্যবস্থাপক কর্তৃক সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় উপেক্ষা করা, আদালত অবমাননা, একজন প্যানেল আইনজীবি কর্তৃক বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজেকে আদালতের উর্ধে স্থান দেয়ার অসৎ প্রবণতা এবং কোন প্রকার আদেশ জারী না করে দীর্ষদিন যাবত বেতন ভাতা বন্ধ রেখে একটি পরিবারের অস্তিত্ব নষ্ট করার বিষয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী তুলেছেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বিসিকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০২৩
২৫৯ বার পড়া হয়েছে

মানবেতর জীবন যাপন করছে হুমায়ুনের পরিবার: বিসিকে সর্বোচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষিত!

আপডেট সময় ০৫:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০২৩

বিশেষ প্রতিবেদক

পদোন্নতির ক্ষেত্রে আইনগত প্রতিকার প্রাপ্তির জন্য বিসিকের কর্মচারি মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ক্যাটালগার, স্কিটি, বিসিক, ঢাকা ২০১৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং-৬৭১১) দায়ের করেছিলেন। দেশের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বেঞ্চ ৩১-০৮-২০২০, ১০-০৯-২০২০, ১৬-০৯-২০২০, ২২-০৯-২০২০ এবং ২৩-০৯-২০২০ তারিখে শুনানী শেষে ২৯ অক্টোবর ২০২০ রায় প্রদান করে বিসিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেছিল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে পদোন্নতি প্রদানের এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতের দেয়া রায় বাস্তবায়ন করার জন্য।
বিসিক কর্তৃপক্ষ উক্ত রায় বাস্তবায়ন না করে ২০২০ সালে সিএমপি মামলা নং-৬৮৩ দায়ের করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে। উক্ত সিএমপি মামলায় আদালত স্থগিতাদেশ দেয়নি। তারপরে বিসিক কর্তৃপক্ষ আপীলেট ডিভিশনে সিপিএলএ মামলা নং-৮০১/২০২১ দায়ের করে। বিস্তারিত শুনানী শেষে ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখে আপীলেট ডিভিশনের ২নং কোর্ট বিচারপতি ওবায়দুল হাসান (যিনি বর্তমানে প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি বোরহান উদ্দিন এবং বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় প্রদান করে বিসিকের দায়েরকৃত সিপিএলএ মামলা নং-৮০১/২০২১ খারিজ করে আদেশ প্রদান করে। যেখানে উল্লেখ করা আছে,  ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর তারিখে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখা হয়েছে। বিস্তারিত শুনানী শেষে ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখে আপীলেট ডিভিশনের ২নং কোর্ট বিচারপতি ওবায়দুল হাসান (যিনি বর্তমানে প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি বোরহান উদ্দিন এবং বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চূড়ান্ত রায় প্রদান করে বিসিকের দায়েরকৃত সিপিএলএ মামলা নং-৮০১/২০২১ খারিজ করে আদেশ প্রদান করেন।
উক্ত রায় প্রদানকালে বিসিকের এর পক্ষে আইনজীবি (এডভোকেট) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান এর অনুমোদনক্রমে বিসিক সচিব শ্যামলী নবী এর পত্র সূত্র নং-৩৬.০২.০০০০.০৭.০৪.৯৭.২৩/৩০০ তারিখঃ ২৪-০৮-২০২৩ এর বরাতে সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত শুনানীকালে উপস্থিত থাকা আইনজীবি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এর মতামত চেয়ে একটি পত্র প্রেরণ করে। বিসিক সচিবের প্রেরিত উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান নিজেকে আদালতের উর্ধে স্থান দিয়ে এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে জগাখিচুড়ি মার্কা মতামত প্রদান করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অনুমান করা সহজ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাববুবুর রহমান, বিসিক সচিব শ্যামলী নবী দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় বাস্তবায়ন না করে চূড়ান্তভাবে অসৎ উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার কাজটি করেছেন। আর তাদের এ অসৎ কাজে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি বিসিকে জমা প্রদান করা হয়েছে ১৪-০৮-২০২৩ তারিখে। সে অনুযায়ী ১৩-০৯-২০২৩ তারিখের মধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করার কথা। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করে বিসিক স্মারক নং-৩৬.০২.০০০০.০০৩.০৪.০০৭.২৩.৭৪০৬ তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ মূলে মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরকে লিখিত এক পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে বিসিক চাকুরী প্রবিধানমালা ১৯৮৯, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২৪-০১-২০০৪ তারিখের ২৫ নং স্মারক ও ০৮-০৯-২০১১ তারিখে ২৯৬ নং স্মারকের জিও এবং বিসিকের প্যানেল আইনজীবির মতামত অনুযায়ী ক্যাটালগার পদ হতে লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগদানের সুযোগ নেই। উল্লেখ্য যে, উক্ত পত্রটি ব্যাকডেট দিয়ে জারী করা হয়েছে যা ২০-০৯-২০২৩ তারিখে পোষ্ট অফিস প্রদত্ত সীল হতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। সংগত কারণে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিসিকের শৃংখলা শাখার উপ-ব্যবস্থাপক আসিফ উল হাসান এর উপস্থাপনায় বিসিক চেয়ারম্যান এর অনুমোদনক্রমে বিসিক সচিব শ্যামলী নবী বিদ্বেষ প্রসূত মনোভাব পোষন করে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি অসম্মাণ ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করার এতো দুঃসাহস কোথা থেকে পেলেন? দ্বিতীয়তঃ বিসিকের প্যানেল আইনজীবির উল্টা-পাল্টা, বিভ্রান্তিকর এবং এখতিয়ার বহির্ভুত মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার ইচ্ছা থাকলে বিপুল পরিমাণ সরকারী অর্থ ব্যয় করে আদালতে মামলা পরিচালনার দরকার কি ছিল? জানা একান্ত প্রয়োজন বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান, বিসিক সচিব শ্যামলী নবী, বিসিকের শৃংখলা শাখার উপ-ব্যবস্থাপক আসিফ উল হাসান এবং বিসিকের প্যানেল আইনজীবি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান গংদের অবস্থান দেশের সর্বোচ্চ আদালতের উপরে কিনা?

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস পার্ট-১ ও ২, বিসিক সার্ভিস রুলস ১৯৮৯, জাতীয় বেতন স্কেল গেজেট নোটিফিকেশন ২০১৫ বা সরকারের প্রচলিত কোন বিধানে বেতন ভাতা বন্ধ রাখার নিয়মাচার না থাকার পরও কোন প্রকার আদেশ জারী বা ষোষনা ব্যতীত স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বিসিক কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এর বেতন ভাতা বন্ধ রেখে তার সাথে এবং তার পরিবারের সাথে চরম অমানবিক আচরণ করার এখতিয়ার সংরক্ষণ করে না। সরকারী কর্মচারী শৃংখলা ও আপীল বিধিমালা-২০১৮ এর ধারা নং-২৬ এ উল্লিখিত বিধান লংঘন করে প্রাপ্য অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এর বেতন ভাতা প্রদানের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত প্রদান না করে বিসিকের প্যানেল আইনজীবি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান কর্তৃক তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অমানবিক আচরণকে বেছে নেয়ার কোন বিধান থাকার কথা নয়। বিসিক চেয়ারম্যান, বিসিক সচিব, বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক(শৃংখলা) এবং বিসিকের নিযুক্তিয় উকিলের (আইনজীবির) আচরণে উপেক্ষিত সর্বোচ্চ আদালতের রায়-লুন্ঠিত মানবতা, যা অমানবিক।

প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় অবলীলায় অবমাননা করে চলেছেন বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান এবং বিসিক সচিব শ্যামলী নবী। আর তাদের অপকর্মে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা প্রদান করে চলেছেন বিসিকের শৃংখলা শাখার উপ-ব্যবস্থাপক আসিফ উল হাসান (যিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে নথি উপস্থাপন করে হুমায়ুন কবির এবং তার পরিবারের অস্তিত্ব নষ্ট করার অসৎ হীন চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন)।

বিসিক চেয়ারম্যান, বিসিক সচিব, বিসিকের শৃংখলা শাখার উপব্যবস্থাপক কর্তৃক সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় উপেক্ষা করা, আদালত অবমাননা, একজন প্যানেল আইনজীবি কর্তৃক বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজেকে আদালতের উর্ধে স্থান দেয়ার অসৎ প্রবণতা এবং কোন প্রকার আদেশ জারী না করে দীর্ষদিন যাবত বেতন ভাতা বন্ধ রেখে একটি পরিবারের অস্তিত্ব নষ্ট করার বিষয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী তুলেছেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বিসিকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।