০৮:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেঁচো খুড়তে বেরিয়ে এলো সাপ: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেটে ১৪ কোটি টাকা!

প্রতিনিধির নাম:

 

বিশেষ প্রতিবেদক
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিবসহ ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে প্রথমে প্রায় আড়াই কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আসে। সেটি তদন্ত করতে নেমেই বাকি টাকা আত্মসাতের তথ্য পায় এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। তারা তদন্তে ভুয়া সরকারি আদেশ (জিও) ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে এসব অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পান।
জানা গেছে, দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারী আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে আত্মসাৎকৃত অর্থ আদায়ের সুপারিশও করেছে কমিটি।
এ ব্যাপারে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম খান জানান, দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ডিপি মামলা হয়েছে এবং দুদককে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে (এনএসপি) দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে তদন্তে যায় কমিটি। সিলেটের জকিগঞ্জে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার দুর্নীতির সত্যতা জানতে গিয়ে ১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা লোপাটের তথ্য পায় এই কমিটি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের যুব-২ শাখার উপসচিব সিরাজুর রহমান ভূঞা স্বাক্ষরিত স্মারকে তদন্তে উঠে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
তদন্তে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক (অর্থ ও অডিট) আলী আশরাফ, হিসাবরক্ষক নুরুল আমিন, সিলেটের জকিগঞ্জের যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আজহারুল কবীর, এনএসপির সাবেক যুগ্ম সচিব জাহাঙ্গীর আলম (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), এনএসপির সাবেক পরিচালক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান, প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক বাবুল পাটোয়ারি, উপপরিচালক (এনএসপি ও প্রশিক্ষণ) ফারহাত নূর, এনএসপির সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ফজলুল হক এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক জসিম উদ্দিনের নাম এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; উল্টো অনেকেই পুরস্কৃত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে দুর্নীতিবাজ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে রাজধানীতে পদায়ন করা হয়েছে। মূলত তার পরিকল্পনাতেই সিলেটের জকিগঞ্জে যুব উন্নয়নের ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছিল। (চলবে)

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মে ২০২৩
২১২ বার পড়া হয়েছে

কেঁচো খুড়তে বেরিয়ে এলো সাপ: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেটে ১৪ কোটি টাকা!

আপডেট সময় ১০:৫২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ মে ২০২৩

 

বিশেষ প্রতিবেদক
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিবসহ ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে প্রথমে প্রায় আড়াই কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আসে। সেটি তদন্ত করতে নেমেই বাকি টাকা আত্মসাতের তথ্য পায় এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। তারা তদন্তে ভুয়া সরকারি আদেশ (জিও) ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে এসব অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পান।
জানা গেছে, দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে তদন্ত কমিটি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারী আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে আত্মসাৎকৃত অর্থ আদায়ের সুপারিশও করেছে কমিটি।
এ ব্যাপারে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম খান জানান, দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ডিপি মামলা হয়েছে এবং দুদককে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে (এনএসপি) দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে তদন্তে যায় কমিটি। সিলেটের জকিগঞ্জে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার দুর্নীতির সত্যতা জানতে গিয়ে ১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা লোপাটের তথ্য পায় এই কমিটি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের যুব-২ শাখার উপসচিব সিরাজুর রহমান ভূঞা স্বাক্ষরিত স্মারকে তদন্তে উঠে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
তদন্তে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক (অর্থ ও অডিট) আলী আশরাফ, হিসাবরক্ষক নুরুল আমিন, সিলেটের জকিগঞ্জের যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আজহারুল কবীর, এনএসপির সাবেক যুগ্ম সচিব জাহাঙ্গীর আলম (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), এনএসপির সাবেক পরিচালক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান, প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক বাবুল পাটোয়ারি, উপপরিচালক (এনএসপি ও প্রশিক্ষণ) ফারহাত নূর, এনএসপির সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ফজলুল হক এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক জসিম উদ্দিনের নাম এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; উল্টো অনেকেই পুরস্কৃত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে দুর্নীতিবাজ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে রাজধানীতে পদায়ন করা হয়েছে। মূলত তার পরিকল্পনাতেই সিলেটের জকিগঞ্জে যুব উন্নয়নের ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছিল। (চলবে)