বিআইডব্লিউটিএর সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার ড্রেজার ক্রয় প্রকল্প: ডিপিপির শর্ত ভংগ করে অযোগ্য কর্মকর্তাকে পিডি নিয়োগের প্রস্তাব!
রোস্তম মল্লিক
নদী খনন ও পলি অপসারণের লক্ষ্যে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৫ ড্রেজার ক্রয় প্রকল্পের নতুন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় উল্লিখিত যোগ্যতার শর্ত এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পিডি নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর পক্ষ থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক বিআইডব্লিউটিএ-এর এই প্রকল্পের প্রথম পিডি ও সংস্থার ড্রেজিং বিভাগের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল মতিন গত ১২ জুলাই অবসরে যান। তখন সংস্থার একই বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদকে পিডি নিয়োগ করা হয়। তিনিও আগামী ৩০ অক্টোবর চাকরি থেকে অবসরে যাচ্ছেন। এ জন্য আগেভাগেই শুরু হয় নতুন পিডি নিয়োগের প্রক্রিয়া।
সূত্র জানায়, গত ২ অক্টোবর নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো বিআইডব্লিউটিএ-এর চিঠিতে পিডি নিয়োগের জন্য সংস্থার ড্রেজিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. মজনু মিয়ার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনিয়ম স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; যা ডিপিপির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রথমত, মজনু মিয়া অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নন। দ্বিতীয়ত, তিনি তৃতীয় অথবা চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা নন, জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা তিনি। তৃতীয়ত, পিডি হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিএ-এর চিঠির এক স্থানে লেখা হয়েছে, ‘জনাব মো. মজনু মিয়া আশা করা যায় এ মাসের শেষদিকে উপপ্রধান প্রকৌশলী (মেরিন) হিসেবে পদায়িত হবে।’ একজন কর্মকর্তার পদোন্নতি হবে, কী হবে না- তা বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সিদ্ধান্ত ও বিআইডব্লিউটিএ-এর বোর্ড সভায় অনুমোদনের আগে দাফতরিকভাবে বলা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআইডব্লিউটিএ-এর প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কাঠামো সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ২০১৮ সালে নৌ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) পিডি নিয়োগে যোগ্যতার শর্তে উল্লেখ রয়েছে, ‘প্রকল্পের সামগ্রিক কাজ বাস্তবায়নের জন্য ড্রেজার সংগ্রহ ও পরিচালনায় বিশেষায়িত কারিগরি বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন)/প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং/মেরিন) পদে কর্মরত কর্মকর্তা (গ্রেড-৩/৪) প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।কিন্তু এ ক্ষেত্রে ডিপিপির শর্ত মানা হয়নি।
বিআইডব্লিউটিএ-এর প্রস্তাবনায় আরও কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। চিঠির একেবারে শেষে পিডি নিয়োগের জন্য মজনু মিয়াকে মূল প্রার্থী উল্লেখ করে আরও দুটি বিকল্প নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা হলেন-সংস্থার উপপ্রধান প্রকৌশলী ফয়সাল আলম ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশরী মো. আবদুল আজিম। ফয়সাল আলম জাতীয় বেতন স্কেলের চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা ও সংস্থার উপপ্রধান প্রকৌশলী। এ ছাড়া কর্মস্থলেও প্রকৌশলী মজনু মিয়ার সিনিয়র তিনি। বিষয়টি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি।















