০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিআইডব্লিউটিসি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের অনিয়ম-দুর্নীতির সাতকাহন!

প্রতিনিধির নাম:

বিআইডব্লিউটিসি’র সাবেক ডক -১ নারায়ণগঞ্জ উপ-প্রকৌশলী অধীক্ষক (চলতি দায়িত্ব) বর্তমান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে । গত ০৫-০৭-২০২২ তারিখে চীফ পার্সোনেল ম্যানেজার মানসুরা আহমেদ এক পত্রে যার স্মারক নং-১৮.১২.০২৭.০৩.০৩.২২৫.২০২২-৯৬৬, স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো পত্র প্রেরণ করেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে। কারণ দর্শানো সূত্রে জানা যায়,স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিসি থেকে অনিয়ম, দূর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করার অনুরোধ জানান দূর্নীতি দমন কমিশন দুদক এর উপ-পরিচালক ইমরুল কায়েস। (দুদক) স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.২৮২.২১-২৮৫৪,তারিখ ১৯-০১-২০২২। বিষয়টি পত্রের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানকে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের আর্থিক অনিয়ম, দূর্নীতির বিষয় তদন্ত করার অনুরোধ করেনে। তদপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিসি থেকে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত টীম গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিগণ ১৩-০৬-২০২২ তারিখে তদন্তে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, দূর্নীতির প্রমাণ পায় এবং তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে দোষি সাবস্থ্য করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান কার্যালয়।
তদন্ত সূত্র মতে, স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের চাকুরি এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের সময় তার বয়স দেখানো হয়েছিল ৩০ বছর ১০ দিন এবং চাকুরি নিয়মিত করার সময় বয়স ছিল ৩১ বছর ০৪ দিন অর্থাৎ সেখানে বয়স এর তথ্য গোপন করে চাকুরী নিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে সরকারি চাকুরী বিধিবিধান মানা হয়নি, তৎকালীন এডহক কমিটির কর্মকর্তাদেরকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়ম বর্হিভুতভাবে অবৈধ পন্থায় চাকুরী নিয়মিত করেন। চাকুরি নিয়মিত হওয়ার পরে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল বেপরোয়া হয়ে ঘুষ-বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে পড়েন। তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তিকে ম্যানেজ করে ডক-২ এ আরিচা ঘাটে বদলি হন। আরিচা ঘাটে যোগদানের পরেই বেপরোয়া হয়ে দূর্নীতির মাধ্যমে অতিরিক্ত মালামালের চাহিদা দেখিয়ে ও রিপেয়ারিং কাজ না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। সেই সময় তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তির কাছে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে তাতে কোন কাজে আসেনি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত করেছিল যা আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি কারণ তার অবৈধ টাকার প্রভাবে প্রভাতি হয়েছিল বলে মনে করেন বিআইডব্লিউটিসি’র অনেক কর্মকর্তাগণ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডক-১ ও ডক-২ আরিচা ও বাদামতলী ঘাট অফিস মালামাল ক্রয়ের নামে বাজার দরের থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে মালামাল ক্রয় করে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে জরুরী কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মালামাল কেনাকাটার প্রয়োজন না থাকলেও অপ্রয়োজনে শুধুমাত্র তার নিজের আর্থিক লাভবানের জন্য মালামাল ক্রয় করেছেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। এছাড়াও নারায়গঞ্জ ডক-১ এ কর্মরত থাকাকালীন ঠিকা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী বাবদ ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৫৮,৭৬,৮০০/- টাকা খরচ ও ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ডক-২ এর ৪৯,৬৬,৪৪৯/- টাকা সর্বমোট ১,০৮,৪৩,২৪৯/- টাকা খরচ দেখিয়ে ঠিকা শ্রমিকদের বিল প্রদানের ক্ষেত্রে জব/ব্লক রেজিষ্ট্রার ভুক্ত না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে একের তৃতীয়াংশ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
সূত্রে আরোও জানা যায়, ০৬-১০-২০১৯ হইতে ১৫-১০-২০১৯ পর্যন্ত ভারতে ভ্রমনের নামে অবৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থ পাচার করেছেন তিনি। স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল নামে-বেনামে পাশের রাষ্ট্র ভারত সহ রাজধানী ঢাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ী ও তার দেশের বাড়ীসহ কোটি কোটি টাকা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিসি’র একাধিক কর্মকর্তাগণ এই প্রতিবেদককে জানান ,স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে দেখলে মনে হবে তিনি ভাজা মাছটিও উল্টিয়ে খেতে জানেন না। তার ক্ষমতার উৎস কোথায়, বিগত সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার অপকর্মের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তার অধিদপ্তরের বাংলা মটর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন তিনি একটি সিন্ডিকেট বাহিনী গড়ে তুলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ এ কর্মরত থাকলেও অধিদপ্তরের সকল বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এত গুরুতর অভিযোগ থাকার পরেও বহাল তরিয়াতে আছেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। তার অবৈধ পন্থায় উপার্জিত টাকা দিয়ে সকলকে ম্যানেজ করে ফেলবেনন বলে বিআইডব্লিউটিসি’র একাধিক কর্মকর্তাদের কাছে বলে বেড়াচ্ছেন। উক্ত অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের মোবাইল ফোনে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করাতে তার কোন মতামত পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৪১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
৩৪৫ বার পড়া হয়েছে

বিআইডব্লিউটিসি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের অনিয়ম-দুর্নীতির সাতকাহন!

আপডেট সময় ১০:৪১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিআইডব্লিউটিসি’র সাবেক ডক -১ নারায়ণগঞ্জ উপ-প্রকৌশলী অধীক্ষক (চলতি দায়িত্ব) বর্তমান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে । গত ০৫-০৭-২০২২ তারিখে চীফ পার্সোনেল ম্যানেজার মানসুরা আহমেদ এক পত্রে যার স্মারক নং-১৮.১২.০২৭.০৩.০৩.২২৫.২০২২-৯৬৬, স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো পত্র প্রেরণ করেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে। কারণ দর্শানো সূত্রে জানা যায়,স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিসি থেকে অনিয়ম, দূর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করার অনুরোধ জানান দূর্নীতি দমন কমিশন দুদক এর উপ-পরিচালক ইমরুল কায়েস। (দুদক) স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.২৮২.২১-২৮৫৪,তারিখ ১৯-০১-২০২২। বিষয়টি পত্রের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানকে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের আর্থিক অনিয়ম, দূর্নীতির বিষয় তদন্ত করার অনুরোধ করেনে। তদপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিসি থেকে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত টীম গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিগণ ১৩-০৬-২০২২ তারিখে তদন্তে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, দূর্নীতির প্রমাণ পায় এবং তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে দোষি সাবস্থ্য করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান কার্যালয়।
তদন্ত সূত্র মতে, স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের চাকুরি এডহক ভিত্তিতে নিয়োগের সময় তার বয়স দেখানো হয়েছিল ৩০ বছর ১০ দিন এবং চাকুরি নিয়মিত করার সময় বয়স ছিল ৩১ বছর ০৪ দিন অর্থাৎ সেখানে বয়স এর তথ্য গোপন করে চাকুরী নিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে সরকারি চাকুরী বিধিবিধান মানা হয়নি, তৎকালীন এডহক কমিটির কর্মকর্তাদেরকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়ম বর্হিভুতভাবে অবৈধ পন্থায় চাকুরী নিয়মিত করেন। চাকুরি নিয়মিত হওয়ার পরে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল বেপরোয়া হয়ে ঘুষ-বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে পড়েন। তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তিকে ম্যানেজ করে ডক-২ এ আরিচা ঘাটে বদলি হন। আরিচা ঘাটে যোগদানের পরেই বেপরোয়া হয়ে দূর্নীতির মাধ্যমে অতিরিক্ত মালামালের চাহিদা দেখিয়ে ও রিপেয়ারিং কাজ না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। সেই সময় তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তির কাছে স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে তাতে কোন কাজে আসেনি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত করেছিল যা আজও পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি কারণ তার অবৈধ টাকার প্রভাবে প্রভাতি হয়েছিল বলে মনে করেন বিআইডব্লিউটিসি’র অনেক কর্মকর্তাগণ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডক-১ ও ডক-২ আরিচা ও বাদামতলী ঘাট অফিস মালামাল ক্রয়ের নামে বাজার দরের থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে মালামাল ক্রয় করে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে জরুরী কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মালামাল কেনাকাটার প্রয়োজন না থাকলেও অপ্রয়োজনে শুধুমাত্র তার নিজের আর্থিক লাভবানের জন্য মালামাল ক্রয় করেছেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। এছাড়াও নারায়গঞ্জ ডক-১ এ কর্মরত থাকাকালীন ঠিকা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী বাবদ ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৫৮,৭৬,৮০০/- টাকা খরচ ও ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ডক-২ এর ৪৯,৬৬,৪৪৯/- টাকা সর্বমোট ১,০৮,৪৩,২৪৯/- টাকা খরচ দেখিয়ে ঠিকা শ্রমিকদের বিল প্রদানের ক্ষেত্রে জব/ব্লক রেজিষ্ট্রার ভুক্ত না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে একের তৃতীয়াংশ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
সূত্রে আরোও জানা যায়, ০৬-১০-২০১৯ হইতে ১৫-১০-২০১৯ পর্যন্ত ভারতে ভ্রমনের নামে অবৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থ পাচার করেছেন তিনি। স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল নামে-বেনামে পাশের রাষ্ট্র ভারত সহ রাজধানী ঢাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ী ও তার দেশের বাড়ীসহ কোটি কোটি টাকা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিসি’র একাধিক কর্মকর্তাগণ এই প্রতিবেদককে জানান ,স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলকে দেখলে মনে হবে তিনি ভাজা মাছটিও উল্টিয়ে খেতে জানেন না। তার ক্ষমতার উৎস কোথায়, বিগত সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার অপকর্মের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তার অধিদপ্তরের বাংলা মটর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন তিনি একটি সিন্ডিকেট বাহিনী গড়ে তুলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ এ কর্মরত থাকলেও অধিদপ্তরের সকল বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এত গুরুতর অভিযোগ থাকার পরেও বহাল তরিয়াতে আছেন স্বদেশ প্রসাদ মন্ডল। তার অবৈধ পন্থায় উপার্জিত টাকা দিয়ে সকলকে ম্যানেজ করে ফেলবেনন বলে বিআইডব্লিউটিসি’র একাধিক কর্মকর্তাদের কাছে বলে বেড়াচ্ছেন। উক্ত অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য স্বদেশ প্রসাদ মন্ডলের মোবাইল ফোনে ফোন দিলে ফোন রিসিভ না করাতে তার কোন মতামত পাওয়া যায়নি।