০২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মা সেতুর ব্যয়ের অর্থ ২০৫৭ সালের মধ্যে উঠে আসবে

প্রতিনিধির নাম:
সংসদ প্রতিবেদক
সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২০৫৭ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের টোল আদায়ের মধ্য দিয়ে সেতুর ব্যয়ের অর্থ উঠে আসবে। সেতু থেকে আদায়কৃত টোল হতে ৩৫ বছরে ১৪০টি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে সরকার প্রদত্ত সমুদয় ঋণ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

একেএম রহমতুল্লাহ’র প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় দুইটি সেতু হতে টোল আদায় করা হয়ে থাকে। সেতু দুইটি হলো যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু এবং ধলেশ্বরী নদীর ওপর মুক্তারপুর সেতু। উক্ত সেতুগুলো স্বয়ংক্রিয় ওজন স্কেলের মাধ্যমে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর ওজন নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

যেসব ট্রাক ওজন স্কেলের নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত পণ্য বহন করে থাকে সে সব যানবাহনকে সেতুতে চলাচল করতে দেওয়া হয় না বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. শামসুল হক টুকুর প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, সেতু বিভাগের আওতায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া অবস্থানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্দেশনা পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো. ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক ফোরামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

এসব আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরামের সদস্য হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন সড়ক রুট, ‘আঞ্চলিক রুট’ হিসাবে চিহ্নিত রয়েছে।

এসব আঞ্চলিক রুটের আওতায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সড়ক করিডোরগুলো যথাযথ মানোন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু সড়ক উন্নয়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির রাজনীতি পদ্মার গহীন অতলে নিমজ্জিত : বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি এখন পদ্মার গহীন অতলে নিমজ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির কারণে বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি এখন পদ্মার গহীন অতলে নিমজ্জিত।

সোমবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘সরকার নাকি অজানা আতঙ্কে সবসময় উদ্বিগ্ন’- বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যকে কাল্পনিক ও অসাড় দাবি করে তিনি বলেন, ‘এমন বক্তব্যে বিএনপির হতাশা এবং রাজনৈতিক দীনতা উন্মোচিত হয়েছে।’

শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে জনগণ রয়েছে। আছে আস্থা ও আত্মবিশ্বাস। তাই সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানান কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা এখন নির্বাচন আতঙ্কে ভুগছেন এবং প্রবল জনরোষের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। বিএনপির ষড়যন্ত্র আর পদে পদে বাধা শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নকে একটুও বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি। এ থেকেই বিএনপি নেতারা দিন দিন গভীর থেকে গভীরতর হতাশায় আক্রান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণতন্ত্রের বিকাশে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বিএনপির দায়িত্বহীনতা, দ্বিচারিতা গণতন্ত্রের বিকাশের পথে অন্তহীন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি কখনো বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ায় না দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বানভাসি মানুষের পাশে যখন সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কাজ করছে, তখন বিএনপি নেতারা লোক দেখানো ফটোসেশনে ব্যস্ত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:১৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২
১৭৪ বার পড়া হয়েছে

পদ্মা সেতুর ব্যয়ের অর্থ ২০৫৭ সালের মধ্যে উঠে আসবে

আপডেট সময় ১০:১৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২
সংসদ প্রতিবেদক
সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২০৫৭ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের টোল আদায়ের মধ্য দিয়ে সেতুর ব্যয়ের অর্থ উঠে আসবে। সেতু থেকে আদায়কৃত টোল হতে ৩৫ বছরে ১৪০টি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে সরকার প্রদত্ত সমুদয় ঋণ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

একেএম রহমতুল্লাহ’র প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় দুইটি সেতু হতে টোল আদায় করা হয়ে থাকে। সেতু দুইটি হলো যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু এবং ধলেশ্বরী নদীর ওপর মুক্তারপুর সেতু। উক্ত সেতুগুলো স্বয়ংক্রিয় ওজন স্কেলের মাধ্যমে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর ওজন নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

যেসব ট্রাক ওজন স্কেলের নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত পণ্য বহন করে থাকে সে সব যানবাহনকে সেতুতে চলাচল করতে দেওয়া হয় না বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. শামসুল হক টুকুর প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের জানান, সেতু বিভাগের আওতায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া অবস্থানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্দেশনা পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো. ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক ফোরামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

এসব আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরামের সদস্য হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন সড়ক রুট, ‘আঞ্চলিক রুট’ হিসাবে চিহ্নিত রয়েছে।

এসব আঞ্চলিক রুটের আওতায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সড়ক করিডোরগুলো যথাযথ মানোন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু সড়ক উন্নয়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিএনপির রাজনীতি পদ্মার গহীন অতলে নিমজ্জিত : বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি এখন পদ্মার গহীন অতলে নিমজ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির কারণে বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি এখন পদ্মার গহীন অতলে নিমজ্জিত।

সোমবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘সরকার নাকি অজানা আতঙ্কে সবসময় উদ্বিগ্ন’- বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যকে কাল্পনিক ও অসাড় দাবি করে তিনি বলেন, ‘এমন বক্তব্যে বিএনপির হতাশা এবং রাজনৈতিক দীনতা উন্মোচিত হয়েছে।’

শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে জনগণ রয়েছে। আছে আস্থা ও আত্মবিশ্বাস। তাই সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানান কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা এখন নির্বাচন আতঙ্কে ভুগছেন এবং প্রবল জনরোষের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। বিএনপির ষড়যন্ত্র আর পদে পদে বাধা শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নকে একটুও বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি। এ থেকেই বিএনপি নেতারা দিন দিন গভীর থেকে গভীরতর হতাশায় আক্রান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণতন্ত্রের বিকাশে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বিএনপির দায়িত্বহীনতা, দ্বিচারিতা গণতন্ত্রের বিকাশের পথে অন্তহীন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি কখনো বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ায় না দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বানভাসি মানুষের পাশে যখন সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কাজ করছে, তখন বিএনপি নেতারা লোক দেখানো ফটোসেশনে ব্যস্ত।