খুলনা রেঞ্জের মেধাবী এবং শ্রেষ্ঠ চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম
রোস্তম মল্লিক
পৃথিবীর সৃষ্টি লগ্ন থেকে প্রতিদিন ভোর সকালে ওই দূর আকাশে সূর্য উঠে। আবার দিন শেষে যখন পশ্চিমের আকাশে সূর্য হেলে পড়ে তখন রাত্রি নেমে আসে।
এই ঘটনা আমাদের পৃথিবীর সৃষ্টি লগ্ন থেকেই বহমান। পৃথিবীর বুকে অনেক মানুষ এসেছেন আবার অনেকে চলেও গেছেন।
এই বিষয়টি পৃথিবীর প্রতিনিয়ত একটি সাধারণ ঘটনা, কেউ আসবে আবার কেউ চলে যাবে।
শুধু এই পৃথিবীর বুকে থেকে যাবে মানুষের কৃতকর্ম যে যেমন কর্ম করবে ঠিক তেমন ফল পাবে। আম গাছে কখনো জাম হয় না।
ছোটবেলায় বাচ্চাদেরকে যদি বলা হয়, বড় হলে তুমি কি হতে চাও ? অনেকে অনেক রকমের ইচ্ছা পোষণ করে। কেউ বলে বড় হলে আমি লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হতে চাই, কেউ বলে ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই, আবার কেউ বলে আমি পাইলট হতে চাই।
এভাবে সে সকল বাচ্চারা তাদের মনের ভাষায়, কল্পনা করে মনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করতে থাকে।
অনেকে পারে আবার অনেকে জীবনের বাস্তবতার কাছে হেরে যায়।
কিন্তু আজ এমন একজন মানুষের কথা বলব যিনি ছোটবেলা থেকেই জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে লেখাপড়া শিখে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার হয়েছেন।
তিনি আর কেউ নন তিনি হচ্ছেন মাগুরা জেলার কৃতি সন্তান জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম।
এই মানুষটির কৃতকার্য সুনামের সঙ্গে যোগ হয়েছে মাগুরা জেলার ১০৪৯ বর্গ কিলোমিটার এবং ৯ ,১৩ ,০০০ জন মানুষ।
তিনি বলেন কষ্ট না করলে কেষ্ট মিলে না। ছোটবেলা থেকেই তার প্রবল ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শেখার। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া এবং লেখাপড়া করা তার ছিল নেশা।
একদিন বড় ভাই বলল আমরা গরীব মানুষ এত লেখাপড়া দিয়ে কী হবে। সবাই হাট থেকে জন কিনে এনে জমিতে চাষবাস করায়। আমরা তো তা পারি না, কারণ আমাদের পয়সা নেই। তুই লেখাপড়া বাদ দিয়ে আমাদের সঙ্গে মাঠে কাজ কর।
এই কথা শোনার পর আমি ছেলে মানুষ বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করবো। তবে এটুকু মাথায় ছিল যেভাবেই হোক আমাকে লেখাপড়া করতেই হবে।
অনেক চিন্তাভাবনা করে ভাইকে বললাম আমি যদি ভোর ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত আর চারটার পর থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কাজ করি তাহলে তো, তোমাদের কোনো আপত্তি থাকবেনা।
আমার কথায় আমার বড় ভাই বুঝতে পারে সকাল 9 টা থেকে বিকাল 4 টা পর্যন্ত আমি স্কুল করব। বড় ভাই বলল এত কষ্ট করে তুই লেখাপড়া করবি, আমি বললাম আমাকে শুধু তোমরা এইটুকু সুযোগ দিও।
এই ভাবে দিনের পর দিন, একদিকে পরিবারের কাজ অন্যদিকে লেখাপড়া, তারপর আজ আমি পুলিশ সুপার।
খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি’র কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে গত ২৪.১০.২০২১ খ্রিঃ তারিখ বেলা ১০:০০ ঘটিকায় সেপ্টেম্বর/২০২১ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন খুলনা রেঞ্জের মাননীয় রেঞ্জ ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, বিপিএম(বার) মহোদয়। মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জ ডিআইজি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং খুলনা রেঞ্জের প্রতিটি জেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
এছাড়াও, প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের কার্যকলাপ সম্পর্কে সজাগ থাকা এবং অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা ধারণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহব্বান জানান। খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি পুলিশ সুপারদের দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তদন্ত ও অপরাধ দমন কর্মকান্ড পর্যালোচনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ জেলা এবং রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ এএসআই হিসাবে চুয়াডাঙ্গা জেলা মনোনিত হয়।
খুলনা রেঞ্জের সম্মানিত রেঞ্জ ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, বিপিএম(বার) মহোদয়ের নিকট হতে চুয়াডাঙ্গা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোঃ জাহিদুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ জেলার পুরস্কার এবং চুয়াডাঙ্গা জেলাধীন দর্শনা থানায় কর্মরত এএসআই(নিঃ) মোঃ আনোয়ারুল হক শ্রেষ্ঠ এএসআই হিসাবে পুরস্কার লাভ করেন।
এ সময় পুলিশ সুপার মহোদয় রেঞ্জ ডিআইজি মহোদয়ের নিকট থেকে শ্রেষ্ঠ জেলার স্বীকৃতি পেয়ে সম্মানিত ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম(বার), খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, বিপিএম(বার), চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল পদমর্যাদার অফিসার-ফোর্সদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জেলার আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর সহযোগীতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলায় যোগদান করে চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য , মাদক উদ্ধার, চোরাচালান প্রতিরোধ, ওয়ারেন্ট তামিল, মামলা নিস্পত্তি, সিআইএমএস, করোনাকালীন সময়ে অসহায়, দুস্থ্য, কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী ও ঔষধ পৌছানো, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান, এতিম শিশুদের ঈদের জামা উপহার, কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলেই পৌছে যাবে পুরস্কার, ভাঙ্গা সংসার জোড়া, খাদ্য যাবে বাড়ি, ইভটিজিং, কিশোরগ্যাং, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধসহ সামাজিক, মানবিক ও উৎসাহমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে চলেছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনাসমূহে উন্নয়নের ছোঁয়া দৃশ্যমান। ইতোপূর্বে নভেম্বর/২০১৯ মাসের মাসিক কনফারেন্সে জেলার আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশেষ অবদান রাখায় খুলনা রেঞ্জের ১০টি জেলার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার খুলনা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপারের কৃতিত্ব অর্জন করেন।
মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন জনাব এ কে এম নাহিদুল ইসলাম, বিপিএম, অতিরিক্ত ডিআইজি (এ্যাডমিন এন্ড ফিন্যান্স), জনাব নজরুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস্ এন্ড ক্রাইম), খুলনা রেঞ্জ ও রেঞ্জ কার্যালয়ের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন, খুলনা রেঞ্জের ১০টি জেলার পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগন, ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার সমূহের কমান্ড্যান্টবৃন্দ।
এই জীবন যোদ্ধা এভাবেই ছুটে চলা পথ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য।





















