অবশেষে ঢাকায় বস্তিবাসীর জন্য আধুনিক ফ্ল্যাট
সারাদেশে ভূমিহীনদের ঘর দেওয়ার পর এবার ঢাকার বস্তিবাসীকে দেওয়া হচ্ছে আধুনিক ফ্ল্যাট। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে বাস্তবায়িত এসব আধুনিক ফ্ল্যাট শুরুতে ৩০০ জন বস্তিবাসীকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বস্তিবাসীর জন্য নির্মিত ৩০০টি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মিরপুরের বস্তিবাসীর জন্য ১৪ তলার পাঁচটি ভবনে তৈরি করা হয়েছে ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাট। প্রায় আড়াই হাজার বস্তিবাসী সেখানে থাকার সুযোগ পাবেন। শুরুতে ৩০০টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে। ফ্ল্যাট বরাদ্দপ্রাপ্তদের হাতে আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্ল্যাটে বসবাস করতে পারবেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন এই অনুষ্ঠানে। মূল অনুষ্ঠান হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
বাকি ২৩৩টি ফ্ল্যাটও শিগগির বরাদ্দ দেওয়া হবে। দুই কক্ষবিশিষ্ট এসব ফ্ল্যাটের প্রতিটির আয়তন ৬৭৩ থেকে ৭২০ বর্গফুট। প্রতিটি ভবনে রয়েছে কমিউনিটি হল, দুটি লিফট ও প্রশস্ত সিঁড়ি। এ ছাড়া রয়েছে অগ্নিনির্বাপণ ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা, ৪০ কেভিএ জেনারেটর ও ২৫০ কেভিএ সাব-স্টেশন সুবিধা।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, বস্তিবাসীকে কত টাকা ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে হবে, সেটি এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হতে পারে। ভাড়ার বিষয়টি ৩ আগস্ট উদ্বোধনের পর নির্দিষ্ট করা হবে।
২০১৪ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা ছিল মাত্র ৮ শতাংশ। এমন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা ৪০ ভাগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। সরকারপ্রধানের এ অনুশাসন পেয়ে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হাতে নেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
এ প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেশ কয়েকটি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এগুলো বরাদ্দ দেওয়ার পর রাজধানীতে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আবাসনভোগী হবে প্রায় ২২ শতাংশ। আর আমাদের হাতে থাকা বাকি প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে ২৭ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
আজিমপুর :রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে সবচেয়ে বেশি ফ্ল্যাট নির্মিত হয়েছে। সেখানে মোট ১৭টি ২০ তলা ভবনে এক হাজার ও ৮০০ বর্গফুটের এক হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। এক হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে তিনটি বেডরুম, তিনটি টয়লেট, পৃথক ড্রয়িংরুম, ডাইনিং-ফ্যামিলি লিভিং, ক্যাবিনেটসহ কিচেন ও ৩টি বারান্দা রয়েছে।
মতিঝিল :পাঁচটি ২০ তলা ভবনে মোট ৩৮০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ২০ তলা ভবনে চার ইউনিট করে ৮০০ বর্গফুটের মোট ২২৮টি ও দুটি ২০ তলা ভবনে এক হাজার বর্গফুটের ১৫২টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব ফ্ল্যাট শুধু পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।
মালিবাগ :রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় চারটি ২০ তলা ভবনে ৪৪৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ২০ তলা ভবনে ছয় ইউনিট করে মোট ২২৮টি ফ্ল্যাট এবং দুটি ২০ তলা ভবনে ৬৫০ বর্গফুটের ২২৮টি ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে আবাসন পরিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
মিরপুর :নগরীর মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে মোট ২৮৮টি ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। চারটি ১৩ তলা ভবনে নির্মাণ করা হয়েছে ২২৮টি ফ্ল্যাট। এ প্রকল্পে রয়েছে এক হাজার বর্গফুটের ৬৬টি, ৮০০ বর্গফুটের ১৫০টি এবং ৬৫০ বর্গফুটের ৭২টি ফ্ল্যাট।
ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত দুটি আটতলা ভবনে ৫৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮০০ বর্গফুটের সাতটি, ১৫০০ বর্গফুটের সাতটি এবং ৮০০ বর্গফুটের ৪৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
এ ছাড়া যেসব সরকারি সংস্থার নিজস্ব জমি নেই তাদের কার্যালয় সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন সংস্থান করা হয়েছে মাদারীপুর জেলায়। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
আজিমপুরে বাসা বরাদ্দে অনিয়ম :নতুন ফ্ল্যাটগুলো অনলাইন ও ম্যানুয়ালি দু’ভাবেই বরাদ্দ দিতে শুরু করেছে আবাসন পরিদপ্তর। তবে ম্যানুয়ালি বরাদ্দ দেওয়া বাসাগুলোর বিষয়ে ইতোমধ্যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আজিমপুরে নবনির্মিত ভবনে বাসা বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে গৃহায়ন মন্ত্রণালয়।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) মো. শাহীন হোসেন বলেন, বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে, এটা সত্য। তবে শিগগির এগুলো সংশোধন করা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে বরাদ্দ বাতিল করা হবে। তিনি বলেন, কাজ করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। এ জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
















