০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদলেগেছে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর: কঠোর নিয়ম শৃংক্ষলায় মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষা!

প্রতিনিধির নাম:

 

রোস্তম মল্লিক:

অতীতের সকল কলংকমুক্ত হতে চলেছে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর। নৌ-প্রতি মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা আর সদ্য যোগদানকৃত মহাপরিচালকের সতর্ক পদক্ষেপে বদলেগেছে এই অধিদপ্তরটি। নিরসন হয়েছে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে থাকা অন্ত:কোন্দল। টেবিল ওয়ার্কেও এসেছে গতি। সেবা নিতে আসা মানুষগুলো এখন বিনা ঘুষেই স্বল্প সময়ে সেবা পাচ্ছেন। মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে না।  নৌযান-মালিক ও শ্রমিকরা অনলাইনে খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাচ্ছেন। সব থেকে বড় পরিবর্তন এসেছে মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষায়। এই দুটি পরীক্ষা নিয়ে যেসব অনিয়ম -দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। এখন শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে পরীক্ষাগুলো নেওয়া হচ্ছে। মাষ্টার ও ড্রাইভার পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করার পর তাদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনকালে কঠোর গোপনীয়তা,সতর্কতা ও মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমন কি মহাপরিচালক নিজেও পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকছেন। পরীক্ষার্থী বেশী হলে দুই শিফটে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নপত্র যাতে ফাঁস না হয় সেজন্য  পরীক্ষার দিন সকালে  নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে প্রধান পরীক্ষকের কক্ষে অতি গোপনীয়তার সাথে প্রশ্নপত্র তৈরী করা হচ্ছে। অর্থ্যাৎ প্রশ্নপত্র ফাঁসের  আগের সেই সুযোগ আর নেই।

তৃতীয় শ্রেণীর মাষ্টার পরীক্ষার দিন সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করে দেখা গেছে আগে যেমন দালাল ও ডামি পরীক্ষার্থীদের ভিড় থাকতো এখন আর সেটি নেই। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থী বা পরীক্ষক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলারও কোন সুযোগ নেই। এমনকি মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেদিন পরীক্ষা সেদিনই রেজাল্ট প্রদান করা হচ্ছে।

এ প্রসংগে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান পরীক্ষক ও প্রধান প্রকৌশলী মো: মন্জুরুল কবীর বলেন, আমরা শতভাগ স্বছ্ছতার সাথে পরীক্ষাগুলো নিচ্ছি। এখানে কোন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। অতীতে এই পরীক্ষা নিয়ে যে অভিযোগ বা অপপ্রচার ছিল তা নিরসনে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। আমাদের মুল লক্ষ্য হলো অভিজ্ঞ ও দক্ষ মাষ্টার ও ড্রাইভার সৃষ্টি করা। সেজন্য আমরা কিছু কঠোর নীতি অনুস্মরণ করছি। আশা করি আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর অতীতের বদনামমুক্ত হবে।

মাষ্টারশীপ পরীক্ষার মুল দায়িত্বে থাকা নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা অনেকেই আর্থিক লোভে পড়ে অনিয়ম -দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ি। কেউই ভাবিনা পরকালের কথা । “লোভে পাপ আর পাপে মৃত্য,ু” একথাটাও আমরা বেমালুম ভুলে যাই। আমাদের এক একটা অনিয়ম-দুর্নীতি দেশের অনেক বড় ক্ষতি সাধন করে। এ বিষয়টা অনুধাবন করেই আমি আমার ওপর থাকা অর্পিত দায়িত্ব পালন করি। যতদিন বাঁচব ততোদিন কোন প্রকার ঘুষ -দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না। এটা আমার দৃঢ় শপথ বা অংগীকার।

তিনি আরো বলেন, মাষ্টারশীপ পরীক্ষায় যে অনিয়ম -দুর্নীতির অপপ্রচার  ছিল আমি তা নিরসনে পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন আর কেউ পরীক্ষার বিষয় প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন , লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণে কঠোর গোপনীয়তা ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পরীক্ষার রেজাল্ট পর্যালোচনা করলেই সেটির প্রমাণ মিলবে। এখন আমরা শতভাগ সততার সাথে কাজ করছি। ইনশাল্লাহ, মাষ্টারশীপ পরীক্ষা নিয়ে আর কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

এ বিষয়ে আমাদের কথা হয় কয়েকজন অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সাথে। তারা কেন অকৃতকার্য হলেন? এ প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আসলে আমরা সেরকম দক্ষতা অর্জন করতে পারিনি। আর লেখাপড়াও কম ছিল। স্যারেরা যে রকম কঠিন প্রশ্ন করেছেন তার উত্তর দেওয়ার মত নলেজ আমাদের ছিল না। এসব কারণেই আমরা অকৃতকার্য হয়েছি। অসুবিধা নেই , আমরা যোগ্যতা অর্জন করেই আবার পরীক্ষা দেব। তবে পরীক্ষা পদ্ধতি যে দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে এ জন্য আমরা খুশি।

পরীক্ষার্থীদের এমন মন্তব্যেই প্রমাণ হয় যে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষায় কোন প্রকার অনিয়ম,দুর্নীতির সুযোগ নেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:১৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০
১৮৩ বার পড়া হয়েছে

বদলেগেছে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর: কঠোর নিয়ম শৃংক্ষলায় মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষা!

আপডেট সময় ০৫:১৭:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

রোস্তম মল্লিক:

অতীতের সকল কলংকমুক্ত হতে চলেছে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর। নৌ-প্রতি মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা আর সদ্য যোগদানকৃত মহাপরিচালকের সতর্ক পদক্ষেপে বদলেগেছে এই অধিদপ্তরটি। নিরসন হয়েছে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে থাকা অন্ত:কোন্দল। টেবিল ওয়ার্কেও এসেছে গতি। সেবা নিতে আসা মানুষগুলো এখন বিনা ঘুষেই স্বল্প সময়ে সেবা পাচ্ছেন। মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে না।  নৌযান-মালিক ও শ্রমিকরা অনলাইনে খুব সহজেই সেবা পেয়ে যাচ্ছেন। সব থেকে বড় পরিবর্তন এসেছে মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষায়। এই দুটি পরীক্ষা নিয়ে যেসব অনিয়ম -দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তা এখন আর দেখা যাচ্ছে না। এখন শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে পরীক্ষাগুলো নেওয়া হচ্ছে। মাষ্টার ও ড্রাইভার পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করার পর তাদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনকালে কঠোর গোপনীয়তা,সতর্কতা ও মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমন কি মহাপরিচালক নিজেও পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকছেন। পরীক্ষার্থী বেশী হলে দুই শিফটে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নপত্র যাতে ফাঁস না হয় সেজন্য  পরীক্ষার দিন সকালে  নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে প্রধান পরীক্ষকের কক্ষে অতি গোপনীয়তার সাথে প্রশ্নপত্র তৈরী করা হচ্ছে। অর্থ্যাৎ প্রশ্নপত্র ফাঁসের  আগের সেই সুযোগ আর নেই।

তৃতীয় শ্রেণীর মাষ্টার পরীক্ষার দিন সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করে দেখা গেছে আগে যেমন দালাল ও ডামি পরীক্ষার্থীদের ভিড় থাকতো এখন আর সেটি নেই। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থী বা পরীক্ষক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলারও কোন সুযোগ নেই। এমনকি মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেদিন পরীক্ষা সেদিনই রেজাল্ট প্রদান করা হচ্ছে।

এ প্রসংগে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান পরীক্ষক ও প্রধান প্রকৌশলী মো: মন্জুরুল কবীর বলেন, আমরা শতভাগ স্বছ্ছতার সাথে পরীক্ষাগুলো নিচ্ছি। এখানে কোন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। অতীতে এই পরীক্ষা নিয়ে যে অভিযোগ বা অপপ্রচার ছিল তা নিরসনে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। আমাদের মুল লক্ষ্য হলো অভিজ্ঞ ও দক্ষ মাষ্টার ও ড্রাইভার সৃষ্টি করা। সেজন্য আমরা কিছু কঠোর নীতি অনুস্মরণ করছি। আশা করি আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর অতীতের বদনামমুক্ত হবে।

মাষ্টারশীপ পরীক্ষার মুল দায়িত্বে থাকা নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা অনেকেই আর্থিক লোভে পড়ে অনিয়ম -দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ি। কেউই ভাবিনা পরকালের কথা । “লোভে পাপ আর পাপে মৃত্য,ু” একথাটাও আমরা বেমালুম ভুলে যাই। আমাদের এক একটা অনিয়ম-দুর্নীতি দেশের অনেক বড় ক্ষতি সাধন করে। এ বিষয়টা অনুধাবন করেই আমি আমার ওপর থাকা অর্পিত দায়িত্ব পালন করি। যতদিন বাঁচব ততোদিন কোন প্রকার ঘুষ -দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না। এটা আমার দৃঢ় শপথ বা অংগীকার।

তিনি আরো বলেন, মাষ্টারশীপ পরীক্ষায় যে অনিয়ম -দুর্নীতির অপপ্রচার  ছিল আমি তা নিরসনে পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন আর কেউ পরীক্ষার বিষয় প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন , লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণে কঠোর গোপনীয়তা ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পরীক্ষার রেজাল্ট পর্যালোচনা করলেই সেটির প্রমাণ মিলবে। এখন আমরা শতভাগ সততার সাথে কাজ করছি। ইনশাল্লাহ, মাষ্টারশীপ পরীক্ষা নিয়ে আর কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

এ বিষয়ে আমাদের কথা হয় কয়েকজন অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সাথে। তারা কেন অকৃতকার্য হলেন? এ প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আসলে আমরা সেরকম দক্ষতা অর্জন করতে পারিনি। আর লেখাপড়াও কম ছিল। স্যারেরা যে রকম কঠিন প্রশ্ন করেছেন তার উত্তর দেওয়ার মত নলেজ আমাদের ছিল না। এসব কারণেই আমরা অকৃতকার্য হয়েছি। অসুবিধা নেই , আমরা যোগ্যতা অর্জন করেই আবার পরীক্ষা দেব। তবে পরীক্ষা পদ্ধতি যে দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে এ জন্য আমরা খুশি।

পরীক্ষার্থীদের এমন মন্তব্যেই প্রমাণ হয় যে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মাষ্টার ও ড্রাইভারশীপ পরীক্ষায় কোন প্রকার অনিয়ম,দুর্নীতির সুযোগ নেই।