দারিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাননের বিরুদ্ধে এক ডজন গুরুতর অভিযোগ!
১০ ইউপি সদস্যের অনাস্থা
মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জাকির হোসেন কাননের বিরুদ্ধে এক ডজন গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করে অনাস্থা দিয়েছেন পরিষদের ১০ জন সদস্য। তারা ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করার দাবী তুলেছেন। তারা ২ দফা সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি সরকারের দৃষ্টিতে আনার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি তারা লিখিতভাবে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, সচিব মহোদয় , খুলনা বিভাগীয় কমিশনার,মাগুরা জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকেও অবহিত করেছেন। অনাস্থা আনা ইউপি সদস্যরা হলেন- মো: লাভলু বিশ্বাস ওয়ার্ড নং ৮,মো: নবুয়াত আলী ওয়ার্ড নং ২, মো: মোফাজ্জল হোসেন বিশ্বাস ওয়ার্ড নং ৩,মো: বিল্লাল মোল্লা ওয়ার্ড নং ৪,মো: জামাল রিশ্বাস ওয়ার্ড নং ৫,মো: ইলিয়াস কাঞ্চন ওয়ার্ড নং ৬,হামজা ওয়ার্ড নং ৭,মো: নওশের আলী ওয়ার্ড নং ১, মো: আবু সাইদ ওয়ার্ড নং ৯,মমতা সমাদ্দরি ওয়ার্ড নং ১,২,৩ (সংরক্ষিত)। ইউপি সদস্যদের অনাস্থা প্রস্তাবের লিখিত অভিযোগ ও মৌখিক অভিযোগ থেকে জানাগেছে , চেয়ারম্যান মো: জাকির হোসেন কানন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোন বিধি বিধানরে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছা খুশি মত পরিষদ পরিচালনা করেন।
তিনি কোন সদস্যকে সম্মান করে কথা বলেন না। তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে দেন না। বিধি মোতাবেক পরিশদের সভা আহবান করেন না। ইউপি সদস্যদের মতামত গ্রহন না করেই একাই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেন ও কর্মসূচী প্রণয়ন করেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে রেজুলেশন বহিতে সহি করিয়ে নেন। সদস্যদের বাদ দিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে তার মনোনিত লোদ্বারা কাজ করান।
অনাস্থা প্রস্তাবে তারা যে ৬ দফা অভিযোগ উল্লেখ করেছেন সেগুলো হলো: ১। ট্যাক্স আদায়ের টাকা থেকে সদস্যদের সম্মানী না দিয়ে নিজেই লোপাট করেন। ২। মাসিক সভা করেন না। ৩। বিভিন্ন প্রকল্প যেমন, টিআর,কাবিখা, ৪০ দিনের কর্মসুচী, এডিপি ইত্যাদি প্রকল্পের তালিকা প্রণয়ন সভা না করে নিজে দেয়া। ৪। এলজিএসপির কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করা। ৫। বয়স্ক,বিধবা,পংগু,গর্ভকালীন ভাতা সদস্যদের মাধ্যমে না দিয়ে টাকার বিনিসয়ে প্রদান করা। ৬। ইউনিয়ন পরিষদের সর্কপ্রকার কাজ কোন সভা না বরে নিজের একক সিদ্ধান্তে করা। ৭। টাকার বিনিময়ে বয়স্কভাতা কার্ড সমাজের বিত্তশালীদের প্রদান করা। ৮। সদস্যবৃন্দের সাথে অসাদাচরণ ,ভয়ভীতি প্রদান করে সহি সম্পাদন করা।
এছাড়া চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কাননের বিরুদ্ধে আরো যেসব গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে তা হলো: করোনাকালীন সংকটময় সময়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী প্রদত্ত কর্মহীন মানুষের খাদ্য সহায়তা , ত্রাণ সামগ্রী ও চাউল আত্মসাৎ করা। আত্মীয় স্বজনের নামে ১০ টাকা কেজির চা লের কার্ড প্রদান। ভোটার আইডি কার্ড জালিয়াতি করে পরিচ্ছন্ন শ্রমিক নিয়োগ করা। একজন ইউপি সদস্যের স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা প্রভৃতি।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান মো: জাকির হোসেন কাননের বিরুদ্ধে পরিষদের অর্থ লুটপাট করে বাকা পথে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলা হয়। যেমন: তিনি চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব গ্রহনের পর নিজ বাড়ীর টিনের ঘর ভেংগে সেখানে ৩ তলা বাড়ী নির্মাণ করেছেন। যার মুল্য কয়েক কোটি টাকা। বাড়ীতে প্রায় ২ কোটি টাকার ফার্ণিচার ও বিলাসী পন্য ক্রয় করেছেন। মালাই নগর ইট ভাটায় আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ১টি ১০ টনি ট্রাক ক্রয় করেছেন যার মুল্য ২৫ লাখ টাকা। ইকো পার্কের জন্য বরাদ্দকৃত স্টিলের ছাতা চুরি করে এনে নিজ বাড়ীর ছাদে স্থাপন করেছেন। এসব বিষয় উল্লেখ করে গত ১৬/০৪/২০২০ ইং তারিখে ১০ জন ইউপি সদস্য স্বাক্ষরিত অনাস্থাপত্র শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। অপরদিকে গত ২০/০৪/২০২০ ও ২৩/০৪/২০২০ ইং তারিখে আরো ২টি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোন ব্যবস্থা নেননি। বাধ্য হয়ে তারা গত ১৭/৫/২০২০ ইং তারিখে মাগুরা জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন।
এ বিষয়ে কথা বললে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, করোনা সংকটকালের সরকারী জরুরী কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। তবে এখন দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো: জাকির হোসেন কানন বলেন, তাদের অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। আমি যে কোন তদন্ত ফেস করতে রাজী আছি। চেয়ারম্যান মো: জাকির হোসেন কানন কেমন মানুষ ? এমন প্রশ্নে দারিয়াপুর ইউপির অধিকাংশ মানুষই কোন মন্তব্য করতে চাননি। তাদের একটাই কথা -তিনি এমপি সাহেবের লোক, কোন মন্তব্য করলে বিপদ হবে।
এ দিকে অনাস্থা প্রস্তাব আনা সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা দ্ব্যার্থকন্ঠে বলেন, চেয়ারম্যানও একজন জনপ্রতিনিধি আমরাও জনপ্রতিনিধি। এই পরিষদে আমরা সবাই নির্বাচিত। তাহলে কেন আমরা অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকব? কেন পরিষদের আয় ব্যয় হিসাব জানতে পারব না? কেন সরকারী বরাদ্দ বিলি বন্টনের সুযোগ পাব না? আমরা দুর্নীতিবাজ এই চেয়ারম্যানের দ্রুত অপসারণ চাই। এ ক্ষেত্রে আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী , সচিব মহোদয়, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার , মাগুরা জেলা প্রশাসক ও দুদক চেয়ারম্যানের পদক্ষেপ কামনা করছি।















