নেত্রকোনার শাহানাজ শাম্মীর তিন স্বামী সমাচার!
নারী কারো চোখে দেবী, কারো চোখে প্রেমিকা, কারো চোখে ছলনাময়ী আবার কারো চোখে ব্যভিচারিনী। কিš‘ আমরা যেই যাই বলি না কেন,আমাদের সমাজে মুষ্টিমেয় ব্যভিচারিনী নারীর কর্মকান্ডে গোটা নারী সমাজে কলঙ্কিত হ”েছ ! এমনই এক ছলনাময়ী, ব্যভিচারিনী নারীর সন্ধান পাওয়া গেছে নেত্রকোনায়। যিনি তথ্য গোপন করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন তারিখে তিন যুবককে বিয়ে করে তিনজন স্বামীর সাথেই আলাদা আলাদা ভাবে ঘর- সংসার করে যা”েছন বছরের পর বছর । তবে কোন স্বামীই জানতেন না ছলনাময়ী,ব্যাভিচারিনী ঐ নারীর নিন্দনীয় এহেন কর্মকান্ডর কথা । এটা কোন রূপকথার গল্প নয়,এক বাস্তব সত্যি ঘটনা। অবশেষে ধরা পড়েছে ছলনাময়ী, রাক্ষসী, ব্যভিচারিনী, লোভী, প্রতারক নারী শাহনাজ শাম্মী।
অনুসন্ধানে নানা সূত্রে জানা গেছে, ব্যভিচারিনী প্রতারক এই নারীর নাম শাহানাজ শাম্মী। বাবার নাম: বজলুর রশিদ খান। গ্রাম: সেমিয়া। থানা-বারহাট্টা। জেলা: নেত্রকোনা ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে শাহানাজ শাম্মী এডভোকেট নাসির উদ্দিনকে বিয়ে করেন। বিয়ের কদিন পরই শুরু করেন উ”ছশৃংখল আচরণ। ফেসবুক,মোবাইলের মাধ্যমে একাধিক পর পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে শুরু করেন অনৈতিক কর্মকান্ড। স্বামীসহ পরিবারের লোকজন এসব কর্মকান্ড বন্ধ করে সংসারী হওয়ার আহ্বান জানানোর পরও অন্য পুরুষের আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন নি শাম্মীকে । কারণ শাম্মী পর পুরুষ দ্বারা আক্রান্ত মরন ব্যাধী ক্যান্সারের মতো। নতুন নতুন পুরুষ ছাড়া শাম্মী বাঁচতেই পারেন না।
কিছুদিন পর নতুন সিম তুলে এবং নাম পরিবর্তন করে বিভিন্ন ছলনা ও কলা কৌশলে শফিক নামক এক যুবককে প্রেমের জালে আবদ্ধ করে পূর্বের বিয়ের কথা গোপন রেখে প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স না দিয়েই ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি শফিকুল ইসলামের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শাহানাজ শাম্মী । বছরের পর বছর স্বামীকে ঠকাতে থাকেন । দ্বিতীয় স্বামী শফিক এর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন শাম্মী ।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে এই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। আগস্ট মাসে বাবা-মা অসু¯’ বলে শাম্মী নেত্রকোনাতে যান। কিš‘ তিনি নেত্রকোনায় না গিয়ে চলে যান তার তৃতীয় স্বামী মাসুদ এর বাসায়। রিয়া নাম দিয়ে অন্য একটি ফেসবুক আইডি খুলে দুই বছর যাবত চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ এলাকার আমেরিকা প্রবাসী মাসুদ নামের এক যুবকের সাথে চ্যাটিং করে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে অবশেষে ওই আমেরিকার প্রবাসী যুবকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ২০২১ সালে।
ঘটনাটি হাজীগঞ্জে জানাজানি হলে ব্যাভিচারিনী নারী শাম্মী মিরপুর সেনপাড়ায় বাসা নিয়ে মাসুদের সাথে বসবাস করা শুরু করেন। চরিত্রহীন মাসুদ সব কিছু জানার পরও তার যৌন পিপাসা নিবারণ করার জন্য শাম্মীকে বুকের ভিতর আগলে রাখেন। শফিককে মেরে ফেলাসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দেন। এ ছাড়াও শফিককে ডির্ভোস দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
অনুসন্ধানে আরোও জানা যায়, তৃতীয় স্বামী মাসুদ তার অত্যাচারে ৬ মাসের ছুঁটিতে এসে ১ মাসের মধ্যে গত ২৮-৯-২০২৩ইং তারিখে আমেরিকা চলে যান। বর্তমানে শাহানাজ শাম্মী বারহাট্টা নেত্রকোনা তার বাবার বাড়ীতে আছেন এবং নতুন নতুন সিম ব্যবহার করে আবারও নতুন কোন পুরুষ শিকারের চেষ্টা চালিয়ে যা”েছন। এ সব অপরাধের বিষয়ে তার পরিবারের সদস্যরা অবগত হলেও তারা নীরব রয়েছেন। ঘটনাটি সোস্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নেত্রকোনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। (চলবে)

















