০২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতির লুটেরা রূপ এবং জাতির সামনে ঘোর অন্ধকার!

প্রতিনিধির নাম:

 

রোস্তম মল্লিক

নীতিহীন রাজনীতির অবাধ চর্চা দেশ ও জাতিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন প্রায়ই আমাকে শুনতে হয়। গণমাধ্যমের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে এ বিষয়ে কিছু বলার অধিকার নিশ্চয় আমার আছে। বরাবরই আমি বলতে চাইছি যে, আর্থিক স্বার্থের কাছে মাথা নুইয়ে দেওয়ার কারণেই আমাদের রাজনীতির দেহে পঁচন ধরেছে। সেই পঁচনটি চুড়ান্ত রূপ নিয়েছে বিংশ শতাব্দীতে এসে। আমরা যদি একটি বিশ্লেষন করি যে, রাজনীতির আদর্শ বা উদ্দেশ্য কী। তাহলে খুব সহজেই তার জবাব মেলে যে, জনকল্যাণ ও দেশ উন্নয়নই রাজনীতির মুখ্য চরিত্র। এই চরিত্রে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাবার সুযোগ নেই। বরং জনস্বার্থের রাজনীতিতে নেতার দেউলিয়া হয়ে যাবার প্রবণতাই বেশি। সেই পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতাত্তোরকালে আমরা রাজনীতির যে চরিত্র বদল দেখছি তা খুবই উদ্বেগের,উতকন্ঠার এবং পরিতাপের। এই সময়ে জাতির কান্ডারী হতে এসে অনেক রাজনৈতিক নেতাই দেউলিয়া হয়েগেছেন। আবার অনৈতিক পথ অবলম্বন করে অনেক নেতা রাতারাতি ্িবপুল পরিমাণ ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন। আগে ছিলো ত্যাগের রাজনীতি আর এখন হয়েছে ভোগের রাজনীতি। রাজনীতির এই যে চরিত্র বদল এটাকে আমরা কি নামে ডাকতে পারি? জনস্বার্থের রাজনীতি? দেশ প্রেমের রাজনীতি? নাকি আখের গোছানোর রাজনীতি? নিশ্চয় শেষেরটার কথায় সবাই বলবেন।
এই মুহর্তে আমরা একটা জরিপ চালিয়ে দেখতে পারি যে, আজকে যারা দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রন বা চর্চা করছেন তাদের মধ্যে কত পার্সেন্টের শতভাগ দেশপ্রেম বা জনতাপ্রেম আছে। গভীরভাবে বিশ্লেষন করলে দেখতে পাই যে, সিকি পার্সেন্ট রাজনৈতিক নেতার মধ্যে এই ধারাটি বিদ্যমান। বাকি ৭৫% নেতার মধ্যে দেশ প্রেমের লেশমাত্রও নেই। তারা নিজেদের ও আত্মীয় স্বজনের আত্মউন্নয়নের বেশি ততপর। সরকারী খাস জমি দখল থেকে শুরু করে বিদেশে হাজার-হাজার কোটি টাকা পাচার করে তারা আজ জাতির কাছে মহাদুর্বৃত্ত হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আবার কিছু নেতা এমনও আছেন যে, তারা একেবারেই সাধারণ জীবন যাপন করছেন। তাদের না আছে অতিরিক্ত গাড়ী,বাড়ী। না আছে মিল কলকারখানা। না আছে ব্যাংক ব্যালেন্স। তারা জনগনের কল্যাণের রাজনীতি করতে গিয়ে অনেকেই ফতুর হয়ে গেছেন।
আজকে যদি আমরা জাতীয় সংসদের দিকে তাকাই তাহলে কি দেখতে পাই? ৩০০ আসনের এই সংসদে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পায়ে হাত দিয়ে সালাম বা কুর্ণিশ করার মত ক‘জন সংসদ সদস্য আছেন? আমার মনে হয় হাতে গোনা দু‘একজন ছাড়া তার বেশি মিলবে না। তবে কি রাজনীতি অপাংতেয়দের হাতে চলেগেছে? আপাতত: দৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে। কিন্তু এরজন্য দায়ী কে? সেটা জানতে অনেক অংক কষার কোন প্রয়োজন নেই। কেবলমাত্র অন্ত:চক্ষু খুলে একবার হিসাবটা মিলিয়ে নিলেই সব দিনের আলোর মত পরিস্কার হয়ে যাবে।
প্রশ্ন আসতে পারে রাজনীতির এই মহাসর্বনাশ যারা করেছেন তারা কি জাতির কাছে সনাক্ত? তারদের কী এ জন্য কোন শাস্তি পেতে হবে? আমি বলবো-অবকোসর্, তারা জাতির সামনেই আছেন। প্রতিদিন উঁচুগলায় কথাও বলছেন। তারাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন । দেশটাকে চিপে নিংড়ে রস-কশহীন করে দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের নামগুলো লেখা সম্ভব নয়। কেন না ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সেই পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে।
তবে হা, সমালোচনার আঙ্গিকে হালকা ইংগিত দেওয়া যায় মাত্র। তবে সেটিও আমি করতে রাজী নই, কেননা ২৫ এপ্রিল ২০২৩ রাতে আমার ওপর দিয়ে যে নারকীয় তান্ডব বয়েগেছে তা কোন সভ্য সমাজে কল্পনাতীত। সেই ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি। আরো কতদিন বয়ে বেড়াতে হবে কে জানে। তবে খোদার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা যে, তিনি আজো আমাকে প্রানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
শেষ পরিচ্ছদে এসে বলবো, আমাদের জাতীয় রাজনীতির এই যে নৈতিক অধ;পতন এবং দুর্বৃত্তায়ন তা জাতিকে ঘোর এক অন্ধকারে টেনে নিচ্ছে। এখনি আমরা সজাগ না হলে তার ভয়ংকর পরিণতি আমাদের আগামী প্রজন্মকেই ভোগ করতে হবে।

রোস্তম মল্লিক
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:২৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩
৫১৩ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতির লুটেরা রূপ এবং জাতির সামনে ঘোর অন্ধকার!

আপডেট সময় ০৮:২৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩

 

রোস্তম মল্লিক

নীতিহীন রাজনীতির অবাধ চর্চা দেশ ও জাতিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন প্রায়ই আমাকে শুনতে হয়। গণমাধ্যমের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে এ বিষয়ে কিছু বলার অধিকার নিশ্চয় আমার আছে। বরাবরই আমি বলতে চাইছি যে, আর্থিক স্বার্থের কাছে মাথা নুইয়ে দেওয়ার কারণেই আমাদের রাজনীতির দেহে পঁচন ধরেছে। সেই পঁচনটি চুড়ান্ত রূপ নিয়েছে বিংশ শতাব্দীতে এসে। আমরা যদি একটি বিশ্লেষন করি যে, রাজনীতির আদর্শ বা উদ্দেশ্য কী। তাহলে খুব সহজেই তার জবাব মেলে যে, জনকল্যাণ ও দেশ উন্নয়নই রাজনীতির মুখ্য চরিত্র। এই চরিত্রে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাবার সুযোগ নেই। বরং জনস্বার্থের রাজনীতিতে নেতার দেউলিয়া হয়ে যাবার প্রবণতাই বেশি। সেই পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতাত্তোরকালে আমরা রাজনীতির যে চরিত্র বদল দেখছি তা খুবই উদ্বেগের,উতকন্ঠার এবং পরিতাপের। এই সময়ে জাতির কান্ডারী হতে এসে অনেক রাজনৈতিক নেতাই দেউলিয়া হয়েগেছেন। আবার অনৈতিক পথ অবলম্বন করে অনেক নেতা রাতারাতি ্িবপুল পরিমাণ ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন। আগে ছিলো ত্যাগের রাজনীতি আর এখন হয়েছে ভোগের রাজনীতি। রাজনীতির এই যে চরিত্র বদল এটাকে আমরা কি নামে ডাকতে পারি? জনস্বার্থের রাজনীতি? দেশ প্রেমের রাজনীতি? নাকি আখের গোছানোর রাজনীতি? নিশ্চয় শেষেরটার কথায় সবাই বলবেন।
এই মুহর্তে আমরা একটা জরিপ চালিয়ে দেখতে পারি যে, আজকে যারা দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রন বা চর্চা করছেন তাদের মধ্যে কত পার্সেন্টের শতভাগ দেশপ্রেম বা জনতাপ্রেম আছে। গভীরভাবে বিশ্লেষন করলে দেখতে পাই যে, সিকি পার্সেন্ট রাজনৈতিক নেতার মধ্যে এই ধারাটি বিদ্যমান। বাকি ৭৫% নেতার মধ্যে দেশ প্রেমের লেশমাত্রও নেই। তারা নিজেদের ও আত্মীয় স্বজনের আত্মউন্নয়নের বেশি ততপর। সরকারী খাস জমি দখল থেকে শুরু করে বিদেশে হাজার-হাজার কোটি টাকা পাচার করে তারা আজ জাতির কাছে মহাদুর্বৃত্ত হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আবার কিছু নেতা এমনও আছেন যে, তারা একেবারেই সাধারণ জীবন যাপন করছেন। তাদের না আছে অতিরিক্ত গাড়ী,বাড়ী। না আছে মিল কলকারখানা। না আছে ব্যাংক ব্যালেন্স। তারা জনগনের কল্যাণের রাজনীতি করতে গিয়ে অনেকেই ফতুর হয়ে গেছেন।
আজকে যদি আমরা জাতীয় সংসদের দিকে তাকাই তাহলে কি দেখতে পাই? ৩০০ আসনের এই সংসদে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পায়ে হাত দিয়ে সালাম বা কুর্ণিশ করার মত ক‘জন সংসদ সদস্য আছেন? আমার মনে হয় হাতে গোনা দু‘একজন ছাড়া তার বেশি মিলবে না। তবে কি রাজনীতি অপাংতেয়দের হাতে চলেগেছে? আপাতত: দৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে। কিন্তু এরজন্য দায়ী কে? সেটা জানতে অনেক অংক কষার কোন প্রয়োজন নেই। কেবলমাত্র অন্ত:চক্ষু খুলে একবার হিসাবটা মিলিয়ে নিলেই সব দিনের আলোর মত পরিস্কার হয়ে যাবে।
প্রশ্ন আসতে পারে রাজনীতির এই মহাসর্বনাশ যারা করেছেন তারা কি জাতির কাছে সনাক্ত? তারদের কী এ জন্য কোন শাস্তি পেতে হবে? আমি বলবো-অবকোসর্, তারা জাতির সামনেই আছেন। প্রতিদিন উঁচুগলায় কথাও বলছেন। তারাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন । দেশটাকে চিপে নিংড়ে রস-কশহীন করে দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের নামগুলো লেখা সম্ভব নয়। কেন না ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সেই পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে।
তবে হা, সমালোচনার আঙ্গিকে হালকা ইংগিত দেওয়া যায় মাত্র। তবে সেটিও আমি করতে রাজী নই, কেননা ২৫ এপ্রিল ২০২৩ রাতে আমার ওপর দিয়ে যে নারকীয় তান্ডব বয়েগেছে তা কোন সভ্য সমাজে কল্পনাতীত। সেই ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি। আরো কতদিন বয়ে বেড়াতে হবে কে জানে। তবে খোদার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা যে, তিনি আজো আমাকে প্রানে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
শেষ পরিচ্ছদে এসে বলবো, আমাদের জাতীয় রাজনীতির এই যে নৈতিক অধ;পতন এবং দুর্বৃত্তায়ন তা জাতিকে ঘোর এক অন্ধকারে টেনে নিচ্ছে। এখনি আমরা সজাগ না হলে তার ভয়ংকর পরিণতি আমাদের আগামী প্রজন্মকেই ভোগ করতে হবে।

রোস্তম মল্লিক
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট