সাংবাদিক এম এ হাকিম ও তাঁর জীবন দর্শন
রোস্তম মল্লিক
আমরা জানি পেশাগত কারণেই একজন সাংবাদিককে সর্বজ্ঞানী হতে হয়। কোন সংবাদ লেখার সময় বসতে হয় ন্যায় বিচারকের আসনে। তাৎক্ষণিক জাজমেন্ট দেওয়ার ক্ষমতা রাখতে হয় দুরদর্শীতার সাথে। অন্যদিকে খেয়াল রাখতে হয় সামাজিক ও রাজনৈতিক গ্রেক্ষাপটকে। জনগনের মৌলিক অধিকার যাতে ক্ষুন্ন না হয় সে বিষয়টিও রাখতে হয় মাথায়। আবার বস্তুনিষ্ঠ খবর পরিবেশনের দায়বদ্ধতাকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। অতএব একজন সাংবাদিককে জাতির বিবেকের ভুমিকা পালন করতে হয় পেশাগত দায়বদ্ধতা এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে। রাষ্ট্র এবং জনগনের প্রতি দায়বদ্ধশীল এমন সাংবাদিক আজকাল পাওয়াই কষ্টসাধ্য। সেটা যদি খোঁজা হয় মফস্বল কোন জেলা -উপজেলা শহরে তবে তা হবে আরো কঠিন কাজ।
সাংবাদিক এম এ হাকিম আমার বন্ধু মানুষ। প্রায় এক দশক আমরা এক সাথে শিল্প,সাহিত্য,সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতা করেছি। কুল ব্রেইনের একজন শান্তশিষ্ট মানুষ হিসেবে তাকে সবাই জানেন এবং শ্রদ্ধা ও সম্মান করেন। বর্তমান তাঁর অবস্থান আমার প্রিয় জেলা শহর মাগুরায়। এই জেলার শিল্প-সাহিত্য,সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা এবং রাজনীতিতে এম এ হাকিম ক্ষীণ আলোর প্রদীপ হয়ে মিটিমিটি জ্বলছেন আজ চারটি দশক ধরে। চল্লিশ বছরের এই দীর্ঘ সময়ে তার সমসাময়িক অনেকেই জিরো থেকে হিরো হয়েছেন। বিত্ত-বিলাসের মালিক হয়েছেন। অঢেল ধন -সম্পদ অর্জন করেছেন। কিন্তু সাংবাদিক এম এ হাকিম যে তিমিরে ছিলেন সেই তিমিরেই রয়েগেছেন। দেশ এনালগ থেকে ডিজিটাল হলেও তার জীবনে কোন পরিবর্তন আসেনি।
তিনি আজো কখনো পায়ে হেঁটে কখনো রিকসা অথবা অটোতে করে চলাফেরা করেন। মাগুরা শহরে আজঅব্দি একটা মাথা গোঁজার ঠাই (বাড়ী) তৈরী করতে পারেননি। কিনতে পারেননি একখানা বাইক বা প্রাইভেট কার। এমন কি এ্যান্ড্রয়েট একটা মোবাইল ফোন কেনারও সামর্থও নেই তাঁর। পেশাগত জীবনে এখনো তিনি সরকারি, বেসরকারি দপ্তরের বিজ্ঞাপন বিলের কমিশনের ওপর নির্ভরশীল।
আমরা নিশ্চয় জানি যে, মফস্বলে বা জেলা উপজেলায় যারা সাংবাদিকতা করেন তাদেরকে পত্রিকা থেকে সামান্য সম্মানী ভাতা বা বেতন দেওয়া হয়। সেটাও আবার ওয়েজবোর্ড এর বাইরে। ফলে মফস্বলে কেবলমাত্র সাংবাদিকতা করে একজন মানুষ তার পরিবারের ভোরণ পোষণ ও ভদ্রভাবে জীবন যাপন করতে পারেনা না। কিন্তু দেশ ও জাতির কাছে দেওয়া কমিটমেন্ট রক্ষার্থে তাদেরকে নিজের খেয়ে বনের মেষ তাড়াতে হয়। সামাজিক জীবনে বিবেকের তাড়নায় তারা পীড়িত হলেও মুখে সেটা প্রকাশ করতে পারেন না।
সাংবাদিক এম এ হাকিম এর বয়স বর্তমানে ষাটের কাছাকাছি। দুই পুত্র এক স্ত্রী নিয়েই তার সংসার। থাকেন মাগুরা শহরতলীর একটি ভাড়া বাসায়। অতি সাধারণ জীবন যাপন করেন তিনি। কাউকে ঠকিয়ে বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে টাকা পয়সা রোজগার করেন না। সাংবাদিকতার পরিচয়ে চাঁদাবাজী ,ব্ল্যাকমেলিং অথবা ব্যবসায়িক কোন সুবিধা গ্রহন করেছেন এমন নজিরও নেই। নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য তিনি কখনোই সাংবাদিকতা পেশাকে কলংকিত বা অসৎ পথ অবলম্বন করেন নি। এ কারণে তিনি সর্বমহলে সমাদৃত হয়ে আছেন।
তিনি বর্তমানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার মাগুরা জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন। মাগুরা প্রেস ক্লাবের তিনি সিনিয়র সদস্য। ঘাসফুল নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করেন। মাগুরা সাহিত্যিক কল্যাণ পরিষদ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর জন্য সব সময় আমার মন কাঁদে। ইচ্ছে করে ঢাকায় এনে একটি দায়িত্বে বসিয়ে দেই। বদলে দেই তাঁর জীবন। শেষ স্বপ্নটা পুরণ করি। বন্ধুত্বের কর্তব্যটুকু পালন করি। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সেটি আর হয়ে ওঠেনি। তবে চেষ্টা করি তার সকল দাবি মেটাতে। সুখ-দু:খে,বিপদে-আপদে পাশে থাকতে। আজ তাঁর জীবন দর্শনকে আমি স্যালুট জানাই।

















