১২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুনোটিক রোগে মৃত গবাদি পশুর ক্ষতিপূরণের চেক পেলেন খুলনা বিভাগের খামারিরা

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘জনস্বা¯’্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ্ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় জুনোটিক রোগে মৃত ও কালিং পজিটিভ ফলাফল যুক্ত গবাদি পশুর খামারিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ চেক বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) খুলনা বিভাগের যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ক্ষতিগ্র¯’ খামারীদের মাঝে প্রথম বারের মতো চেক বিতরণ করা হয়। ক্ষতিপূরণ পেয়ে খুশি খামারিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ডাঃ সুখেন্দু শেখর গায়েন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, খুলনা বিভাগ, খুলনা প্রধান অতিথি এবং ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক, জনস্বা¯’্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ্ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্প, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ¯ি’তি ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাঃ মোঃ রাশেদুল হক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, যশোর।

সভায় প্রধান অতিথি ডাঃ সুখেন্দু শেখর গায়েন জুনোটিক রোগের ঝুকি হ্রাসে সকল মৃত গবাদিপশুর নিরাপদ অপসারণ, উপজেলা পর্যায়ে খামারিসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আওতাভুক্তকরণ এর উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করার জন্য দেশব্যাপী জুনোটিক রোগ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মতামত প্রদান করেন। প্রকল্পের অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন ডাঃ মোঃ রাশেদুল হক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, যশোর।
সভায় প্রকল্প পরিচালক বলেন, জনস্বা¯’্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ্ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্পের কার্যক্রম দেশের ২৭টি জেলার ২০১টি উপজেলায় চলমান। এ প্রকল্পের আওতায় জুনোটিক রোগে মৃত/আক্রান্ত (কালিং সাপেক্ষে) গরু ও মহিষের খামারি পর্যায়ে ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ অপসারণে (পরিস্কার-পরি”ছন্নতা ) ডিডিপিতে বরাদ্দের সং¯’ান আছে । তিনি আরও জানান যে গৃহপালিত প্রাণি ও প্রাণিজাত খাদ্যে স্বা¯’্য ঝুঁকি নিরুপণের লক্ষ্যে ভেটেরিনারি পাবলিক হেল্থ ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, জনস্বা¯’্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৪ টি জুনোটিক রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম তরান্বিত করা এবং জুনোটিক রোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়া জুনোটিক রোগে মৃত / কালিং পজিটিভ ফলাফল প্রাপ্ত প্রাপ্ত বয়স্ক বড় গরু/ মহিষের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮০ হাজার টাকা, ১ বছরের বেশি ২ বছরের কম বয়সী বাছুর গরুর জন্য ৪০ হাজার টাকা প্রদানের সং¯’ান আছে। এ প্রেক্ষিতে প্রকল্পভুক্ত উপজেলা থেকে ৪টি জুনোটিক রোগ বোভাইন টিবি, ব্রুসেলোসিস ,অ্যানথ্রাক্স ও জলাতঙ্কে আক্রান্ত /মৃত গরু-মহিষের নমুনা প্রেরণ কেন্দ্রীয় প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার (সিডিআইএল) এবং ভেটেরিনারি পাবলিক হেল্থ অনুবিভাগ, মহাখালী, ঢাকা হতে চুড়ান্ত ল্যাব. পরীক্ষায় পজিটিভ ফলাফল প্রাপ্তি সাপেক্ষে খামারীকে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ অপসারনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হ”েছ।
তিনি আরো বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১৬ লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থ বছরে মোট নিরাপদ অপসারণ বাবদ ৪ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগে ক্ষতিগ্র¯’ খামারীদের মাঝে ১০ লাখ আশি হাজার টাকা চেক প্রদান করা হয়েছে । চলতি বছরের জুনের মধ্যে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের সকল প্র¯‘তি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ অপসারণ (পরিস্কার-পরি”ছন্নতা) কার্যক্রম এই প্রকল্পের আওতায় জুন ২০২৩ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৪০:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ এপ্রিল ২০২২
১৭৯ বার পড়া হয়েছে

জুনোটিক রোগে মৃত গবাদি পশুর ক্ষতিপূরণের চেক পেলেন খুলনা বিভাগের খামারিরা

আপডেট সময় ০৭:৪০:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ এপ্রিল ২০২২

রোস্তম মল্লিক

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘জনস্বা¯’্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ্ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় জুনোটিক রোগে মৃত ও কালিং পজিটিভ ফলাফল যুক্ত গবাদি পশুর খামারিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ চেক বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) খুলনা বিভাগের যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ক্ষতিগ্র¯’ খামারীদের মাঝে প্রথম বারের মতো চেক বিতরণ করা হয়। ক্ষতিপূরণ পেয়ে খুশি খামারিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে ডাঃ সুখেন্দু শেখর গায়েন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, খুলনা বিভাগ, খুলনা প্রধান অতিথি এবং ডাঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক, জনস্বা¯’্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ্ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্প, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ¯ি’তি ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাঃ মোঃ রাশেদুল হক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, যশোর।

সভায় প্রধান অতিথি ডাঃ সুখেন্দু শেখর গায়েন জুনোটিক রোগের ঝুকি হ্রাসে সকল মৃত গবাদিপশুর নিরাপদ অপসারণ, উপজেলা পর্যায়ে খামারিসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আওতাভুক্তকরণ এর উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করার জন্য দেশব্যাপী জুনোটিক রোগ প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মতামত প্রদান করেন। প্রকল্পের অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন ডাঃ মোঃ রাশেদুল হক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, যশোর।
সভায় প্রকল্প পরিচালক বলেন, জনস্বা¯’্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ্ সার্ভিস জোরদারকরণ প্রকল্পের কার্যক্রম দেশের ২৭টি জেলার ২০১টি উপজেলায় চলমান। এ প্রকল্পের আওতায় জুনোটিক রোগে মৃত/আক্রান্ত (কালিং সাপেক্ষে) গরু ও মহিষের খামারি পর্যায়ে ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ অপসারণে (পরিস্কার-পরি”ছন্নতা ) ডিডিপিতে বরাদ্দের সং¯’ান আছে । তিনি আরও জানান যে গৃহপালিত প্রাণি ও প্রাণিজাত খাদ্যে স্বা¯’্য ঝুঁকি নিরুপণের লক্ষ্যে ভেটেরিনারি পাবলিক হেল্থ ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, জনস্বা¯’্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৪ টি জুনোটিক রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম তরান্বিত করা এবং জুনোটিক রোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম চলমান আছে। এছাড়া জুনোটিক রোগে মৃত / কালিং পজিটিভ ফলাফল প্রাপ্ত প্রাপ্ত বয়স্ক বড় গরু/ মহিষের জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮০ হাজার টাকা, ১ বছরের বেশি ২ বছরের কম বয়সী বাছুর গরুর জন্য ৪০ হাজার টাকা প্রদানের সং¯’ান আছে। এ প্রেক্ষিতে প্রকল্পভুক্ত উপজেলা থেকে ৪টি জুনোটিক রোগ বোভাইন টিবি, ব্রুসেলোসিস ,অ্যানথ্রাক্স ও জলাতঙ্কে আক্রান্ত /মৃত গরু-মহিষের নমুনা প্রেরণ কেন্দ্রীয় প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার (সিডিআইএল) এবং ভেটেরিনারি পাবলিক হেল্থ অনুবিভাগ, মহাখালী, ঢাকা হতে চুড়ান্ত ল্যাব. পরীক্ষায় পজিটিভ ফলাফল প্রাপ্তি সাপেক্ষে খামারীকে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ অপসারনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হ”েছ।
তিনি আরো বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১৬ লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৯৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থ বছরে মোট নিরাপদ অপসারণ বাবদ ৪ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগে ক্ষতিগ্র¯’ খামারীদের মাঝে ১০ লাখ আশি হাজার টাকা চেক প্রদান করা হয়েছে । চলতি বছরের জুনের মধ্যে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের সকল প্র¯‘তি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ অপসারণ (পরিস্কার-পরি”ছন্নতা) কার্যক্রম এই প্রকল্পের আওতায় জুন ২০২৩ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।