১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন

প্রতিনিধির নাম:
বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য, গুজব ও অপ্রচার রোধে সরকার নতুন একটি আইনের খসড়া তৈরি করছে বলে জানা গেছে।
নতুন তথ্য আইন প্রণয়নের জন্য খসড়া তৈরির বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, নতুন সুরক্ষা আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিদেশি ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোকে জাতীয়ভাবে ডেটা সেন্টার তৈরি করতে হবে এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশের ভেতরেই সংরক্ষণ করতে হবে।

শুধু প্রযুক্তি কোম্পানিই নয়, বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দেশের ভিতরেই ডাটা সেন্টার স্থাপন করতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে তাদেরকে অবশ্যই এই আইন মেনে চলতে হবে। দেশের মানুষের তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

পলক বলেন, সরকার মনে করে যে তথ্য ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সম্পদ, এবং এই তথ্যকে রক্ষা করার জন্যই আমরা এই আইন তৈরি করছি।

নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম নাগরিকের মুখপাত্র ড. সি আর আবরার বলেন, অফলাইনে ভিন্নমত প্রকাশের নানা বিধিনিষেধ রয়েছে, তাই মানুষ নিজের ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্র হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকেই বেছে নিচ্ছে। এই আইন করা হলে তাদের মতপ্রকাশের এই সুযোগটাও আর থাকবে না।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক ও আইন, গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মো. সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, সরকার যা করার চেষ্টা করছে তাকে ডেটা লোকালাইজেশন বলা হয়। এটি বলতে বোঝায়, যে ফিজিক্যাল ডিভাইসটিতে একজন ব্যক্তির তথ্য থাকে তাকে দেশের সীমানার ভেতরেই থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা একে দ্বিমুখী তলোয়ারের সাথে তুলনা করেছেন। এছাড়া উদ্বেগজনক আরেকটি বিষয় হলো নতুন খসড়ায় এটা স্পষ্ট নয় যে সরকারের এসব ডিভাইসের ভিতর থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে কিনা।

তিনি বলেন, আমার তথ্য আমার নিজের সম্পত্তি হওয়া উচিত। কোন আইন দিয়ে একে বেধে দেয়া ঠিক নয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অগাস্ট ২০২১
৫২৫ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন আইন

আপডেট সময় ০৬:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অগাস্ট ২০২১
বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য, গুজব ও অপ্রচার রোধে সরকার নতুন একটি আইনের খসড়া তৈরি করছে বলে জানা গেছে।
নতুন তথ্য আইন প্রণয়নের জন্য খসড়া তৈরির বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, নতুন সুরক্ষা আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিদেশি ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোকে জাতীয়ভাবে ডেটা সেন্টার তৈরি করতে হবে এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশের ভেতরেই সংরক্ষণ করতে হবে।

শুধু প্রযুক্তি কোম্পানিই নয়, বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দেশের ভিতরেই ডাটা সেন্টার স্থাপন করতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে তাদেরকে অবশ্যই এই আইন মেনে চলতে হবে। দেশের মানুষের তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

পলক বলেন, সরকার মনে করে যে তথ্য ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সম্পদ, এবং এই তথ্যকে রক্ষা করার জন্যই আমরা এই আইন তৈরি করছি।

নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম নাগরিকের মুখপাত্র ড. সি আর আবরার বলেন, অফলাইনে ভিন্নমত প্রকাশের নানা বিধিনিষেধ রয়েছে, তাই মানুষ নিজের ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্র হিসেবে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকেই বেছে নিচ্ছে। এই আইন করা হলে তাদের মতপ্রকাশের এই সুযোগটাও আর থাকবে না।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক ও আইন, গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মো. সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, সরকার যা করার চেষ্টা করছে তাকে ডেটা লোকালাইজেশন বলা হয়। এটি বলতে বোঝায়, যে ফিজিক্যাল ডিভাইসটিতে একজন ব্যক্তির তথ্য থাকে তাকে দেশের সীমানার ভেতরেই থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা একে দ্বিমুখী তলোয়ারের সাথে তুলনা করেছেন। এছাড়া উদ্বেগজনক আরেকটি বিষয় হলো নতুন খসড়ায় এটা স্পষ্ট নয় যে সরকারের এসব ডিভাইসের ভিতর থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে কিনা।

তিনি বলেন, আমার তথ্য আমার নিজের সম্পত্তি হওয়া উচিত। কোন আইন দিয়ে একে বেধে দেয়া ঠিক নয়।