১১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরেজমিন অনুসন্ধান: মাগুরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র : ১১ বছর একই স্টেশনে চাকুরী করছেন ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস!

প্রতিনিধির নাম:

 

 

মাগুরা প্রতিনিধি

 

অবাক করার মত বিষয় হলেও সত্য যে,মাগুরা সদর উপজেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ১১ রছর একটানা চাকুরী করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন মেডিকেল অফিসার ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস। সরকারী চাকুরী বিধি মোতাবেক প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ৩ বছর পর পর বদলী হওয়ার বিধান থাকলেও সেটি ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে আছে প্রায় একযুগকাল।

খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে, ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস ২৩/০৪/২০০৫ ইং তারিখে মাগুরা সদর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার পদে যোগদান করে ২৫/৮/২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ট্রেনিংএর জন্য তাকে বদলী করা হয়। অত:পর তিনি চেষ্টা তদবীর করে গত ১৭/১১/২০১১ ইং তারিখে আবার স্বপদে ফিরে আসেন। সেই থেকে অদ্যাবধি অর্থাৎ ২০২০ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত একই পদে বহাল রয়েছেন। প্রথম মেয়াদে ২ রছন এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ৯ বছর। মোট ১১ বছর কিনি মাগুরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চাকুরী করছেন। প্রায় একযুগকাল ধরে তিনি কিভাবে একই ষ্টেশনে চাকুরী করছেন তার কোন সদুত্তোর মেলেনি।

 

আদালত কর্তৃক দন্ডিত হয়েও তিনি বহাল তবিয়তে!

 

মাগুরা চীফ জুডিশিয়াল কোর্টের কয়েকজন আইনজীবির সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছর ৯ জানুয়ারি তিনি মাগুরা জেলা চীফ জুডিশিয়াল কোর্টের ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কর্তৃক ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানায়  দন্ডিত হয়েছেন। ভুল সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে তিনি সালমা খাতুনের মূত্র নাড়ি কেটে ফেলেন । সেই থেকে সালমা খাতুন এখন পংগু জীবন যাপন করছেন।  এ অপরাধে তার বির“দ্ধে এ্কটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার রায়ে তাকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেওয়া হয়। তিনি আপীল করার শর্তে ওই মামলায় জামিনে আছেন। কিš‘ একটি ফৌজদারী মামলায় আদালত কর্তৃক দন্ডিত হলেও স্বা¯’্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তার বির“দ্ধে কোন প্রকার বিভাগীয় ব্যব¯’া গ্রহন করেনি। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরও  রয়েছে নীরব। ঘটনাটি সবাইকে বিস্মিত করেছে। আইনের বিধানমতে কোন ফৌজদারী মামলায় কোন সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারি গ্রেফতার অথবা দন্ডিত হলেই তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে।

 

দায়িত্বে ফাঁকি ক্লিনিকবাজী

 

একাধিক সুত্রে জানা যায়,ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস দীর্ঘ ১১ বছর মাগুরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালনের সুবাধে প্রতিষ্ঠানটিকে তার ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছেন। তিনি এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা না দিয়ে দিন রাতের বেশিরভাগ সময়ই বেসরকারী ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে ব্যস্ত থাকেন। সরকারী প্রতিষ্ঠানে অর্থের বদৌলতে সেবা দানের রেওয়াজ চালু করেন। এই কেন্দ্রটিতে সার্বক্ষনিক এনেসথেসিয়া ডাক্তার থাকার বিধান থাকলেও কখনোই তিনি রাতে থাকেন না। অপরদিকে মাগুরা জেলার মধ্যে ৪ টি উপজেলার ২৩ টি উপকেন্দ্র থেকে গর্ভবতী মায়েদের বিনা মুল্যে এ্যাম্বুলেন্স সেবা দেবার সরকারী নির্দেশনা থাকলেও সেটি না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে ্এ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হতো। মাগুরা থেকে কোন গর্ভবতী মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ,ফরিদপুর,যশোর বা খুলনায় প্র্রেরন করা হলে তাদের কাছ থেকে প্রতি কিলোমিটার ১০/- টাকা ভাড়ার ¯’লে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হতো। যেমন,মাগুরা থেকে ঢাকা ভাড়া নেয়া হতো ৬ থেকে ৯ হাজার টাকা।অথচ এই টাকা সরকারী কোষাগারে সম্পূর্ণর“পে  জমা করা হয়নি। গত ১০ বছরের ্এ্যাম্বুলেন্স খাতের আয়ের ফাইল নীরিক্ষা করলেই লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতির প্রমান পাওয়া যাবে।

 

দামি দামি মেশিনগুলো ব্যবহার করা হয়না

 

মাগুরা জেলার গর্ভবতী মায়েদের উন্নত সেবা দান ও আধুনিক চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার অত্যাধুনিক আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, স্পর্শে রক্ত বন্ধ হওয়া মেশিন, অটোমেটিক সেলাই মেশিন , পালস মেশিনসহ আরো অনেক যন্ত্রপাতি প্রদান করলেও টেকনিশিয়ান নেই এই অজুহাতে মেশিনগুলো ব্যবহার করা হ”েছ না। ফলে মেশিনগুলো অব্যবহ্রত থেকে নষ্ট হয়ে যা”েছ। রোগী এলেই তাদেরকে বেসরকারী প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে পাঠিয়ে দিয়ে কমিশন খাওয়া হ”েছ। অন্যদিকে ভর্তি থাকা রোগীদের কাছ থেকেও নানা অজুহাতে অর্থ আদায় করা হয়। তাদেরকে বিনামূল্যে ওষুধ দেবার িিবধান থাকলেও দেওয়া হয়না। এ সংক্রান্ত  বিগত ২ বছরের ফাইলপত্র নীরিক্ষা  করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

 

মাগুরাবাসীর দাবি

 

মাগুরা সদর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে যেসব অনিয়ম দুর্নীতি হ”েছ তা অনতিবিলম্বে বন্ধ চায় সচতেন মাগুরাবাসী। অন্যদিকে গত ১১ বছরের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়গুলির তদন্ত চান তারা। তারা জানতে চান সরকারী চাকুরী বিধি লংঘন করে ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস কিভাবে দীর্ঘ ১১ বছর একই স্টেশনে চাকুরী করছেন। তিনি আদালত কর্র্তক দন্ডিত হয়েও কিভাবে চাকুরীতে বহাল রয়েছেন? এ বিষয়ে তারা বর্তমান স্বা¯’্য সচিব ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২০
১৮৭ বার পড়া হয়েছে

সরেজমিন অনুসন্ধান: মাগুরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র : ১১ বছর একই স্টেশনে চাকুরী করছেন ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস!

আপডেট সময় ০৬:১০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২০

 

 

মাগুরা প্রতিনিধি

 

অবাক করার মত বিষয় হলেও সত্য যে,মাগুরা সদর উপজেলা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ১১ রছর একটানা চাকুরী করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন মেডিকেল অফিসার ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস। সরকারী চাকুরী বিধি মোতাবেক প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ৩ বছর পর পর বদলী হওয়ার বিধান থাকলেও সেটি ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাসের ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে আছে প্রায় একযুগকাল।

খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে, ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস ২৩/০৪/২০০৫ ইং তারিখে মাগুরা সদর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার পদে যোগদান করে ২৫/৮/২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ট্রেনিংএর জন্য তাকে বদলী করা হয়। অত:পর তিনি চেষ্টা তদবীর করে গত ১৭/১১/২০১১ ইং তারিখে আবার স্বপদে ফিরে আসেন। সেই থেকে অদ্যাবধি অর্থাৎ ২০২০ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত একই পদে বহাল রয়েছেন। প্রথম মেয়াদে ২ রছন এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ৯ বছর। মোট ১১ বছর কিনি মাগুরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চাকুরী করছেন। প্রায় একযুগকাল ধরে তিনি কিভাবে একই ষ্টেশনে চাকুরী করছেন তার কোন সদুত্তোর মেলেনি।

 

আদালত কর্তৃক দন্ডিত হয়েও তিনি বহাল তবিয়তে!

 

মাগুরা চীফ জুডিশিয়াল কোর্টের কয়েকজন আইনজীবির সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছর ৯ জানুয়ারি তিনি মাগুরা জেলা চীফ জুডিশিয়াল কোর্টের ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কর্তৃক ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানায়  দন্ডিত হয়েছেন। ভুল সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে তিনি সালমা খাতুনের মূত্র নাড়ি কেটে ফেলেন । সেই থেকে সালমা খাতুন এখন পংগু জীবন যাপন করছেন।  এ অপরাধে তার বির“দ্ধে এ্কটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার রায়ে তাকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেওয়া হয়। তিনি আপীল করার শর্তে ওই মামলায় জামিনে আছেন। কিš‘ একটি ফৌজদারী মামলায় আদালত কর্তৃক দন্ডিত হলেও স্বা¯’্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তার বির“দ্ধে কোন প্রকার বিভাগীয় ব্যব¯’া গ্রহন করেনি। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরও  রয়েছে নীরব। ঘটনাটি সবাইকে বিস্মিত করেছে। আইনের বিধানমতে কোন ফৌজদারী মামলায় কোন সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারি গ্রেফতার অথবা দন্ডিত হলেই তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে।

 

দায়িত্বে ফাঁকি ক্লিনিকবাজী

 

একাধিক সুত্রে জানা যায়,ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস দীর্ঘ ১১ বছর মাগুরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালনের সুবাধে প্রতিষ্ঠানটিকে তার ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছেন। তিনি এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা না দিয়ে দিন রাতের বেশিরভাগ সময়ই বেসরকারী ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে ব্যস্ত থাকেন। সরকারী প্রতিষ্ঠানে অর্থের বদৌলতে সেবা দানের রেওয়াজ চালু করেন। এই কেন্দ্রটিতে সার্বক্ষনিক এনেসথেসিয়া ডাক্তার থাকার বিধান থাকলেও কখনোই তিনি রাতে থাকেন না। অপরদিকে মাগুরা জেলার মধ্যে ৪ টি উপজেলার ২৩ টি উপকেন্দ্র থেকে গর্ভবতী মায়েদের বিনা মুল্যে এ্যাম্বুলেন্স সেবা দেবার সরকারী নির্দেশনা থাকলেও সেটি না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে ্এ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হতো। মাগুরা থেকে কোন গর্ভবতী মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ,ফরিদপুর,যশোর বা খুলনায় প্র্রেরন করা হলে তাদের কাছ থেকে প্রতি কিলোমিটার ১০/- টাকা ভাড়ার ¯’লে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হতো। যেমন,মাগুরা থেকে ঢাকা ভাড়া নেয়া হতো ৬ থেকে ৯ হাজার টাকা।অথচ এই টাকা সরকারী কোষাগারে সম্পূর্ণর“পে  জমা করা হয়নি। গত ১০ বছরের ্এ্যাম্বুলেন্স খাতের আয়ের ফাইল নীরিক্ষা করলেই লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতির প্রমান পাওয়া যাবে।

 

দামি দামি মেশিনগুলো ব্যবহার করা হয়না

 

মাগুরা জেলার গর্ভবতী মায়েদের উন্নত সেবা দান ও আধুনিক চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার অত্যাধুনিক আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, স্পর্শে রক্ত বন্ধ হওয়া মেশিন, অটোমেটিক সেলাই মেশিন , পালস মেশিনসহ আরো অনেক যন্ত্রপাতি প্রদান করলেও টেকনিশিয়ান নেই এই অজুহাতে মেশিনগুলো ব্যবহার করা হ”েছ না। ফলে মেশিনগুলো অব্যবহ্রত থেকে নষ্ট হয়ে যা”েছ। রোগী এলেই তাদেরকে বেসরকারী প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে পাঠিয়ে দিয়ে কমিশন খাওয়া হ”েছ। অন্যদিকে ভর্তি থাকা রোগীদের কাছ থেকেও নানা অজুহাতে অর্থ আদায় করা হয়। তাদেরকে বিনামূল্যে ওষুধ দেবার িিবধান থাকলেও দেওয়া হয়না। এ সংক্রান্ত  বিগত ২ বছরের ফাইলপত্র নীরিক্ষা  করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

 

মাগুরাবাসীর দাবি

 

মাগুরা সদর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে যেসব অনিয়ম দুর্নীতি হ”েছ তা অনতিবিলম্বে বন্ধ চায় সচতেন মাগুরাবাসী। অন্যদিকে গত ১১ বছরের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বিষয়গুলির তদন্ত চান তারা। তারা জানতে চান সরকারী চাকুরী বিধি লংঘন করে ডা: নন্দ দুলাল বিশ্বাস কিভাবে দীর্ঘ ১১ বছর একই স্টেশনে চাকুরী করছেন। তিনি আদালত কর্র্তক দন্ডিত হয়েও কিভাবে চাকুরীতে বহাল রয়েছেন? এ বিষয়ে তারা বর্তমান স্বা¯’্য সচিব ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।