স্বামীর সন্ধান দেয়ার কথা বলে ধর্ষণচেষ্টা, বাধা দেয়ায় খুন
এক সপ্তাহ আগে স্বামী সুমনের সঙ্গে সিলেট থেকে চট্টগ্রামে আসেন মালেকা বেগম। ওঠেন নগরের টাইগারপাসে বোনের বাসায়। এরপর দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। ঝগড়া করে টাইগারপাসে বোনের বাসা থেকে দুজনই বের হয়ে আসেন। পরে বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে সিআরবি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাংলো থেকে মালেকা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দুই দিনের ব্যবধানে মালেকা বেগম হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে বাইরে বের হন মালেকা। স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে শ্লীলতাহানির শিকার হন তিনি। পরে নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে জীবন দেন।
কোতোয়ালী থানা সূত্র জানায়, গ্রেফতার রুবেল প্রকাশ ভোলাইয়া ও মাইকেল বড়ুয়া ইতোমধ্যে আদালতে হাজির হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামি সুমন একজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তিনি এর আগেও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, স্বামী সুমনের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো মালেকার। বুধবার সকালে ঝগড়া করে টাইগারপাসে বোনের বাসা থেকে দুজনই বের হয়ে গিয়েছিলেন। পরে বাসায় এসে ছেলের জন্য স্বামীর আনা দুধ ফেরত দিতে কোতোয়ালী থানাধীন বিআরটিসি মোড়ের ফলমণ্ডিতে স্বামীকে খুঁজতে আসেন মালেকা। সুমনকে সেখানে না পেয়ে এক দোকানদারকে ছেলের দুধ জমা দেন তিনি। পরে সুমনের এক বন্ধুর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে বিআরটিসি মোড়ে ফ্লাইওভারের নিচে এসে দাঁড়ান রিকশার জন্য।
তিনি বলেন, মালেকা বেগমকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রুবেল তাকে স্বামীর সন্ধান দেয়ার কথা বলে সিআরবি এলাকার পরিত্যক্ত বাংলোতে নিয়ে যান। সেখানে মালেকা বেগমকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। মালেকা চিৎকার করলে আসামি সুমনও রুবেলের সঙ্গে যোগ দেন। দুজনে মিলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। মালেকা বেগম এ ঘটনা পুলিশকে জানিয়ে দেবে বলে চিৎকার করতে থাকলে রুবেল ও সুমন মিলে বোরকা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।
ওসি জানান, হত্যার পর মালেকা বেগমের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তার মরদেহ সেখানে ফেলে চলে যান রুবেল ও সুমন। মালেকার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া মোবাইল ফোন মাইকেল বড়ুয়া নামে একজনের কাছে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করে দেন তারা।
তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে টাইগারপাস এলাকার টহল পুলিশ থেকে তথ্য পায়, মালেকা বেগমকে একজনের সঙ্গে সিআরবি এলাকার বাংলোর দিকে যেতে দেখেছে। পরে অভিযান চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই আসামি ও মোবাইল ফোন কেনার দায়ে একজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

















