০৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুদক কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ভয়ংকর রুপ : প্রকৌশলী নাজমুলের মোবাইল কলরেকর্ড (অডিও) ফাঁস

প্রতিনিধির নাম:

 

 

স্টাফ রিপোর্টার

 

সত্যের জয় অনিবার্য, মিথ্যার দম্ভ সাময়িক। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। তার প্রমাণ মিলল নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে। শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারী নিজ মুখেই স্বীকার করলেন যে, কিভাবে এবং  কিসের বিনিময়ে দুদক কর্মকর্তাদের ভাড়া করে একজন নিরাপরাধ প্রকৌশলীকে দুদকের ফাঁদ মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বিবেকবান মানুষদের বিচলিত করেছে। প্রশ্ন উঠেছে দুদকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও। একইসাথে দুদক কর্মকর্তাদের দুর্নীতির একটি ভয়ংকর রুপ  প্রকাশ পেয়েছে।

জানাগেছে, ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর  মতিঝিল বিআইডব্লিউটিএ ভবনের ৮ম তলায় অবস্থিত নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুদকের একটি টিম গ্রেফতার করে ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শীপ সার্ভেয়ার মীর্জা সাইফুর রহমানকে। এসময় রহস্যজনকভাবে অধিদপ্তরের সিসি টিভি অপ করে দেওয়া হয়। এ গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। কেননা-যে অভিযোগে মীর্জা সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় তা ছিল সম্পুর্ণ সাজানো বা পুর্ব পরিকল্পিত।

প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার একটি প্যাকেজ চুক্তিতে দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ এই কাজটি করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। আর নেপথ্য নায়ক হিসাবে সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমূল হকের নামটি আলোচনায় উঠে আসে। তবে সহযোগির তালিকায় অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ আরো ২/৩ জন কর্মকর্তার নাম শোনা যায়।

মীর্জা সাইফুর রহমানকে গ্রেফতারের সময় কেন অফিসের সিসি টিভি বন্ধ ছিল তার কোন সদুত্তোর দিতে পারেনি কেউই। এতেই সন্দেহ দানা বাঁধে। যাহোক পুরো ঘটনাটি চরম বিতর্কের সৃষ্টি করে। পত্র পত্রিকায় নানা প্রকার সংবাদ ছাপা হয়। দুদকের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

একদফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয় ষড়যন্ত্রের শিকার নিরাপরাধ প্রকৌশলী মীর্জা সাইফুর রহমানকে। তিনি প্রায় ৫ মাস জেল হাজত ভোগ করে মহামান্য হাই কোর্টের আদেশে জামিনে মুক্তি পান।  পরবর্তীতে তিনি টোটাল ঘটনাটিকে চ্যালেঞ্জ করে যাবতীয় তথ্য প্রমানসহ দুদক চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন করে বিধিগতভাবে একটি কমিশন গঠনের অনুরোধ জানান। কিন্তু দুদক চেয়ারম্যান সেটি আমলে নেননি। এ সুযোগে শত প্রকার ত্র“টি বিচ্যুতি থাকা সত্বেও তদন্তকারী কর্মকর্তা  সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম মামলাটির চার্জশীট প্রদান করেন। মামলাটি বিচারের জন্য এখন প্রস্তুত। যে কোন ধার্য তারিখে চার্জের শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

এ দিকে ২টি টেলিফোন সংলাপে মামলাটির উৎপত্তি এবং জন্মদাতার আত্মপরিচয় প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ঘটনাটি যে ষড়যন্ত্রমূলক ও পুর্বপরিকল্পিত তার সুস্পষ্ট ইংগিত মেলে ওই ২টি মোবাইল কল রেকর্ডের সংলাপে।

এ মোবাইল কলের সংলাপ থেকে জানা যায়, মীর্জা সাইফুরকে গ্রেফতারের পর হঠাৎ করে একদিন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ইসলামকে মোবাইল কল করেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী  (বরখাস্ত)  এস এম নাজমূল হক। তিনি অতি আনন্দিত কন্ঠে মীর্জা সাইফুর রহমাকে গ্রেফতারের পূর্ণ ক্রমবর্ণনা দেন। শুধু ক্রমবর্ণনায় নয়, কেন তাকে গ্রেফতার করালেন, কিসের বিনিময়ে করালেন তা স্ববিস্তারে প্রকাশ করেন। অপরদিকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের  একজন কর্মকর্তাকেও মোবাইল কল করে স্ববিস্তারে আলাপ করেন প্রকৌশলী এস এম নাজমূল হক। তার ২ টি মোবাইল কল রেকর্ডই আমাদের হস্তগত হয়েছে।

এই ২টি মোবাইল কল রেকর্ডের সংলাপ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রকৌশলী মীর্জা সাইফুরকে দুদকের টিম দ্বারা গ্রেফতার করানোর সমূদয় কলকাঠি নেড়েছেন বরখাস্ত থাকা প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক। তিমি মনে করেন যে, দুদক দ্বারা তাকে ৫ লক্ষ টাকাসহ গ্রেফতারের মাষ্টার মাইন্ড ছিলেন মীর্জা সাইফুর রহমান। তদাক্রশেই তিনি প্রচন্ড প্রতিশোধ পরায়ন হয়েই মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগে দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদকে ম্যানেজ করে একটি ফাঁদ মামলার নাটক মঞ্চায়ন করেন। ওই ২ টি মোবাইল কল রেকর্ডের অডিও সিডি আমাদের দপ্তরে সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও প্রকৌশলী এস এম নাজমূল হকের নাগাল পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:২০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০
১৯৫ বার পড়া হয়েছে

দুদক কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ভয়ংকর রুপ : প্রকৌশলী নাজমুলের মোবাইল কলরেকর্ড (অডিও) ফাঁস

আপডেট সময় ১২:২০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২০

 

 

স্টাফ রিপোর্টার

 

সত্যের জয় অনিবার্য, মিথ্যার দম্ভ সাময়িক। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। তার প্রমাণ মিলল নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে। শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারী নিজ মুখেই স্বীকার করলেন যে, কিভাবে এবং  কিসের বিনিময়ে দুদক কর্মকর্তাদের ভাড়া করে একজন নিরাপরাধ প্রকৌশলীকে দুদকের ফাঁদ মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি বিবেকবান মানুষদের বিচলিত করেছে। প্রশ্ন উঠেছে দুদকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও। একইসাথে দুদক কর্মকর্তাদের দুর্নীতির একটি ভয়ংকর রুপ  প্রকাশ পেয়েছে।

জানাগেছে, ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর  মতিঝিল বিআইডব্লিউটিএ ভবনের ৮ম তলায় অবস্থিত নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুদকের একটি টিম গ্রেফতার করে ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শীপ সার্ভেয়ার মীর্জা সাইফুর রহমানকে। এসময় রহস্যজনকভাবে অধিদপ্তরের সিসি টিভি অপ করে দেওয়া হয়। এ গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। কেননা-যে অভিযোগে মীর্জা সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় তা ছিল সম্পুর্ণ সাজানো বা পুর্ব পরিকল্পিত।

প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার একটি প্যাকেজ চুক্তিতে দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ এই কাজটি করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। আর নেপথ্য নায়ক হিসাবে সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমূল হকের নামটি আলোচনায় উঠে আসে। তবে সহযোগির তালিকায় অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ আরো ২/৩ জন কর্মকর্তার নাম শোনা যায়।

মীর্জা সাইফুর রহমানকে গ্রেফতারের সময় কেন অফিসের সিসি টিভি বন্ধ ছিল তার কোন সদুত্তোর দিতে পারেনি কেউই। এতেই সন্দেহ দানা বাঁধে। যাহোক পুরো ঘটনাটি চরম বিতর্কের সৃষ্টি করে। পত্র পত্রিকায় নানা প্রকার সংবাদ ছাপা হয়। দুদকের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

একদফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয় ষড়যন্ত্রের শিকার নিরাপরাধ প্রকৌশলী মীর্জা সাইফুর রহমানকে। তিনি প্রায় ৫ মাস জেল হাজত ভোগ করে মহামান্য হাই কোর্টের আদেশে জামিনে মুক্তি পান।  পরবর্তীতে তিনি টোটাল ঘটনাটিকে চ্যালেঞ্জ করে যাবতীয় তথ্য প্রমানসহ দুদক চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন করে বিধিগতভাবে একটি কমিশন গঠনের অনুরোধ জানান। কিন্তু দুদক চেয়ারম্যান সেটি আমলে নেননি। এ সুযোগে শত প্রকার ত্র“টি বিচ্যুতি থাকা সত্বেও তদন্তকারী কর্মকর্তা  সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম মামলাটির চার্জশীট প্রদান করেন। মামলাটি বিচারের জন্য এখন প্রস্তুত। যে কোন ধার্য তারিখে চার্জের শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

এ দিকে ২টি টেলিফোন সংলাপে মামলাটির উৎপত্তি এবং জন্মদাতার আত্মপরিচয় প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ঘটনাটি যে ষড়যন্ত্রমূলক ও পুর্বপরিকল্পিত তার সুস্পষ্ট ইংগিত মেলে ওই ২টি মোবাইল কল রেকর্ডের সংলাপে।

এ মোবাইল কলের সংলাপ থেকে জানা যায়, মীর্জা সাইফুরকে গ্রেফতারের পর হঠাৎ করে একদিন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ইসলামকে মোবাইল কল করেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী  (বরখাস্ত)  এস এম নাজমূল হক। তিনি অতি আনন্দিত কন্ঠে মীর্জা সাইফুর রহমাকে গ্রেফতারের পূর্ণ ক্রমবর্ণনা দেন। শুধু ক্রমবর্ণনায় নয়, কেন তাকে গ্রেফতার করালেন, কিসের বিনিময়ে করালেন তা স্ববিস্তারে প্রকাশ করেন। অপরদিকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের  একজন কর্মকর্তাকেও মোবাইল কল করে স্ববিস্তারে আলাপ করেন প্রকৌশলী এস এম নাজমূল হক। তার ২ টি মোবাইল কল রেকর্ডই আমাদের হস্তগত হয়েছে।

এই ২টি মোবাইল কল রেকর্ডের সংলাপ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রকৌশলী মীর্জা সাইফুরকে দুদকের টিম দ্বারা গ্রেফতার করানোর সমূদয় কলকাঠি নেড়েছেন বরখাস্ত থাকা প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক। তিমি মনে করেন যে, দুদক দ্বারা তাকে ৫ লক্ষ টাকাসহ গ্রেফতারের মাষ্টার মাইন্ড ছিলেন মীর্জা সাইফুর রহমান। তদাক্রশেই তিনি প্রচন্ড প্রতিশোধ পরায়ন হয়েই মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগে দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদকে ম্যানেজ করে একটি ফাঁদ মামলার নাটক মঞ্চায়ন করেন। ওই ২ টি মোবাইল কল রেকর্ডের অডিও সিডি আমাদের দপ্তরে সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও প্রকৌশলী এস এম নাজমূল হকের নাগাল পাওয়া যায়নি।