০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মসংস্থানের উপায় কী?

প্রতিনিধির নাম:

বিশ্বে অব্যাহত করোনা মহামারীর কারণে দেশে চাকরি বা কর্মসংস্থানের বিজ্ঞপ্তি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ার কথা জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে জব পোর্টালগুলোতে গত এপ্রিল মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০১৯ সালের একই সময়ের চেয়ে ৮৭ শতাংশ কমে গেছে। এমনকি, মার্চ মাসেও পূর্ববর্তী বছরের একই মাসের তুলনায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হ্রাস পেয়েছিল ৩৫ শতাংশ। তদুপরি এবার মে মাসেই বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরী পোশাক শিল্পে ব্যাপকভাবে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়ে গেছে, যা জুন মাসে আরো ব্যাপক হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পত্রিকার খবর, এডিবি আলোচ্য প্রতিবেদন প্রণয়নে দক্ষিণ এশিয়ার দু’টি রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। জানানো হয়, শ্রীলঙ্কায় এবার এপ্রিলে চাকরির বিজ্ঞপ্তি কমেছে পূর্ববর্তী বছরের এপ্রিলের তুলনায় ৭০ শতাংশ, যা মার্চ মাসে ছিল ২০১৯ সালের মার্চের চেয়ে শতকরা ২৭ ভাগ কম। এডিবি বলেছে, অনলাইনে চাকরির খোঁজ নেয়া বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। এ দেশের বৃহত্তম জব পোর্টাল বিডিজবস-এ ২০১৯ সালে চাকরির বিজ্ঞপ্তি ছিল ৬০ সহস্রাধিক। করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি হ্রাস পেতে থাকে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঠিক এক বছর আগের চেয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছিল মাত্র ১ শতাংশ কম, যা বেড়ে মার্চে ৩৫ এবং এপ্রিলে ৮৭ শতাংশে পৌঁছে যায়। বিডিজবস-এর বিজ্ঞপ্তিগুলোর ১৫ শতাংশ বস্ত্র খাত এবং এনজিওর চাকরিবিষয়ক। উৎপাদন খাতে নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ১৩ শতাংশ। এডিবি দেখিয়েছে, এপ্রিলে বস্ত্র খাতে ৯৫ শতাংশ এবং উৎপাদন খাতে ৯২ শতাংশ কমেছে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরোপ-আমেরিকার পোশাক ও অন্যান্য পণ্য রফতানি অনেক কমে যাওয়ার শঙ্কায় নতুন নিয়োগ হ্রাস পেয়েছে বলে এডিবি মনে করে। দেশের স্বাস্থ্য এবং আইটি খাতে যথাক্রমে ৮২ ও ৮১ শতাংশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কমে গেছে। এডিবির ধারণা, করোনাকালে নানা সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় এনজিও খাতে মহামারীর প্রভাব কম। জানা গেছে, করোনার অপপ্রভাবে অন্যান্য অর্থনৈতিক খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মারাত্মকভাবে।

এর আগে বিবিসিও বলেছে, ভাইরাস সংক্রমণ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। তা ছাড়া, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক এক রিপোর্টে জানিয়েছে, করোনা তাণ্ডবের প্রভাবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫.২ শতাংশ কমে গিয়ে মাত্র ২-৩ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা।
গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ৩০ মে নাগাদ দেশে যে ‘সাধারণ ছুটি’ বহাল ছিল, তা কার্যত লকডাউনে পরিণত হয়ে যায়। এতে অসংখ্য মানুষের আয়রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এর পুনরুদ্ধার সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। বিআইডিএসের একজন অর্থনীতিবিদ বলেছেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় প্রথম এক মাসেই দেশের সেবা ও শিল্প খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সরকারি হিসাবে, আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে সেবা ও শিল্পের অবদান যথাক্রমে ৫০ ও ৩৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আশা ছিল, ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। তবে ২০২১ সালে অবস্থার আরো অবনতি ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, তৈরী পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজার পুনরুদ্ধার, রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, দক্ষ জনশক্তির জন্য বিশ্ববাজারের প্রসার, শ্রমঘন শিল্পের বিকাশ, শ্রমিকদের ছাঁটাই বন্ধ করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ও কার্যকর প্রণোদনা প্রদান, অর্থ পাচাররোধ এবং সার্বিকভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের আওতা বাড়াতে হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২০
৪২৯ বার পড়া হয়েছে

কর্মসংস্থানের উপায় কী?

আপডেট সময় ০৯:০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২০

বিশ্বে অব্যাহত করোনা মহামারীর কারণে দেশে চাকরি বা কর্মসংস্থানের বিজ্ঞপ্তি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ার কথা জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে জব পোর্টালগুলোতে গত এপ্রিল মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০১৯ সালের একই সময়ের চেয়ে ৮৭ শতাংশ কমে গেছে। এমনকি, মার্চ মাসেও পূর্ববর্তী বছরের একই মাসের তুলনায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হ্রাস পেয়েছিল ৩৫ শতাংশ। তদুপরি এবার মে মাসেই বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরী পোশাক শিল্পে ব্যাপকভাবে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়ে গেছে, যা জুন মাসে আরো ব্যাপক হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পত্রিকার খবর, এডিবি আলোচ্য প্রতিবেদন প্রণয়নে দক্ষিণ এশিয়ার দু’টি রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। জানানো হয়, শ্রীলঙ্কায় এবার এপ্রিলে চাকরির বিজ্ঞপ্তি কমেছে পূর্ববর্তী বছরের এপ্রিলের তুলনায় ৭০ শতাংশ, যা মার্চ মাসে ছিল ২০১৯ সালের মার্চের চেয়ে শতকরা ২৭ ভাগ কম। এডিবি বলেছে, অনলাইনে চাকরির খোঁজ নেয়া বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। এ দেশের বৃহত্তম জব পোর্টাল বিডিজবস-এ ২০১৯ সালে চাকরির বিজ্ঞপ্তি ছিল ৬০ সহস্রাধিক। করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি হ্রাস পেতে থাকে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঠিক এক বছর আগের চেয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছিল মাত্র ১ শতাংশ কম, যা বেড়ে মার্চে ৩৫ এবং এপ্রিলে ৮৭ শতাংশে পৌঁছে যায়। বিডিজবস-এর বিজ্ঞপ্তিগুলোর ১৫ শতাংশ বস্ত্র খাত এবং এনজিওর চাকরিবিষয়ক। উৎপাদন খাতে নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ১৩ শতাংশ। এডিবি দেখিয়েছে, এপ্রিলে বস্ত্র খাতে ৯৫ শতাংশ এবং উৎপাদন খাতে ৯২ শতাংশ কমেছে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরোপ-আমেরিকার পোশাক ও অন্যান্য পণ্য রফতানি অনেক কমে যাওয়ার শঙ্কায় নতুন নিয়োগ হ্রাস পেয়েছে বলে এডিবি মনে করে। দেশের স্বাস্থ্য এবং আইটি খাতে যথাক্রমে ৮২ ও ৮১ শতাংশ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কমে গেছে। এডিবির ধারণা, করোনাকালে নানা সহযোগিতা অব্যাহত থাকায় এনজিও খাতে মহামারীর প্রভাব কম। জানা গেছে, করোনার অপপ্রভাবে অন্যান্য অর্থনৈতিক খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মারাত্মকভাবে।

এর আগে বিবিসিও বলেছে, ভাইরাস সংক্রমণ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। তা ছাড়া, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক এক রিপোর্টে জানিয়েছে, করোনা তাণ্ডবের প্রভাবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫.২ শতাংশ কমে গিয়ে মাত্র ২-৩ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা।
গত মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ৩০ মে নাগাদ দেশে যে ‘সাধারণ ছুটি’ বহাল ছিল, তা কার্যত লকডাউনে পরিণত হয়ে যায়। এতে অসংখ্য মানুষের আয়রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এর পুনরুদ্ধার সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। বিআইডিএসের একজন অর্থনীতিবিদ বলেছেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় প্রথম এক মাসেই দেশের সেবা ও শিল্প খাত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সরকারি হিসাবে, আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে সেবা ও শিল্পের অবদান যথাক্রমে ৫০ ও ৩৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আশা ছিল, ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। তবে ২০২১ সালে অবস্থার আরো অবনতি ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, তৈরী পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজার পুনরুদ্ধার, রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, দক্ষ জনশক্তির জন্য বিশ্ববাজারের প্রসার, শ্রমঘন শিল্পের বিকাশ, শ্রমিকদের ছাঁটাই বন্ধ করা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত ও কার্যকর প্রণোদনা প্রদান, অর্থ পাচাররোধ এবং সার্বিকভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের আওতা বাড়াতে হবে।