০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাগরিক সমাজে ক্রমেই উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে

প্রতিনিধির নাম:

বাংলাদেশ এখন করোনা যুদ্ধের শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃতের হার বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিককালে করোনা পরীক্ষার সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকার পরে চট্টগ্রামে করোনার হটস্পট। এখানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার প্রায় ঢাকার মতোই। কিন্তু দেশের বাণিজ্যিক নগরী ও দ্বিতীয় প্রধান নগরে করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র আছে মাত্র তিনটি, তাদের সামর্থ্যও অপ্রতুল। তারও চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হলো চিকিৎসাব্যবস্থা। করোনার জন্য নির্দেশিত সরকারি হাসপাতাল মাত্র দুটি। এখানে শয্যার সংখ্যা সীমিত কিন্তু রোগীর সংখ্যা ব্যাপক। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৮টি শয্যার বিপরীতে রোগী রয়েছেন ২৫০ জন। একজন চিকিৎসকের লিখিত ভাষ্য অনুযায়ী করোনা ওয়ার্ডে মেঝেতে এত রোগী যে, চিকিৎসকের পক্ষে হাঁটাচলাও অসম্ভব। তদুপরি চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রীর অপ্রতুলতা প্রকট। এ নিয়ে চিকিৎসক সমাজে ক্ষোভ রয়েছে। আর নাগরিক সমাজে ক্রমেই উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

সরকার এই পর্যায়ে করোনা রোগী নিরিখে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ব্যাপক হারে সংক্রমিত এলাকাগুলোর ম্যাপিং করার উদ্যোগ নিয়েছে। লাল, হলুদ ও সবুজ এই তিন ভাগে এলাকাগুলো চিহ্নিত হবে। সর্বোচ্চ সংক্রমিত এলাকা লাল জোন, অল্প সংক্রমিত এলাকা হলুদ জোন এবং সংক্রমণমুক্ত এলাকাগুলো সবুজ জোন। কোনো এলাকায় ৪০-এর বেশি রোগী থাকলে সেটি হবে লাল জোন। সে এলাকাটি লকডাউন করা হবে। কিন্তু সরকারি পরিকল্পনায় লকডাউন অবস্থায় নাগরিকরা কীভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ও ক্রয় সম্পন্ন করবেন তা স্পষ্ট নয়। বিশেষত, দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল রিকশাচালক, শ্রমজীবী, হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা দিনের বাজার দিনে করে অভ্যস্ত তারা কীভাবে লকডাউনে থাকবে তা স্পষ্ট নয়। বিদেশে বয়স্ক মানুষ ও দুস্থদের জন্য সরকারি ব্যবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ওষুধপত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাতে লকডাউন সফল হয় এবং সংক্রমণ কমে আসে। তারা এখন লকডাউন সীমিতভাবে উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আমাদের সরকার অনেক রকম উদ্যোগ নিচ্ছে কিন্তু এগুলো বিস্তারিতভাবে পরিকল্পিত নয় বলেই সম্পূর্ণ সাফল্য আসছে না। গণপরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রেন ও বাসে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বহুলাংশে সফল হলেও নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আগামী দিনে জীবিকার তাগিদে এবং নন-কোভিড রোগীদের সুবিধার জন্য লকডাউন আরও শিথিল করতে হবে। কিন্তু তার আগে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে এবং কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বহাল রাখা যাবে তার বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনই প্রণয়ন করা জরুরি। তা না হলে জনসংখ্যাবহুল ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে করোনা মহামারী জনগণের জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। আমরা মনে করি এই পর্যায়ে সরকারের উচিত হবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ভবিষ্যতের জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা করা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৮:২০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০
১৯১ বার পড়া হয়েছে

নাগরিক সমাজে ক্রমেই উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে

আপডেট সময় ০৮:২০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০

বাংলাদেশ এখন করোনা যুদ্ধের শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃতের হার বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিককালে করোনা পরীক্ষার সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকার পরে চট্টগ্রামে করোনার হটস্পট। এখানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার প্রায় ঢাকার মতোই। কিন্তু দেশের বাণিজ্যিক নগরী ও দ্বিতীয় প্রধান নগরে করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র আছে মাত্র তিনটি, তাদের সামর্থ্যও অপ্রতুল। তারও চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হলো চিকিৎসাব্যবস্থা। করোনার জন্য নির্দেশিত সরকারি হাসপাতাল মাত্র দুটি। এখানে শয্যার সংখ্যা সীমিত কিন্তু রোগীর সংখ্যা ব্যাপক। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৮টি শয্যার বিপরীতে রোগী রয়েছেন ২৫০ জন। একজন চিকিৎসকের লিখিত ভাষ্য অনুযায়ী করোনা ওয়ার্ডে মেঝেতে এত রোগী যে, চিকিৎসকের পক্ষে হাঁটাচলাও অসম্ভব। তদুপরি চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রীর অপ্রতুলতা প্রকট। এ নিয়ে চিকিৎসক সমাজে ক্ষোভ রয়েছে। আর নাগরিক সমাজে ক্রমেই উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

সরকার এই পর্যায়ে করোনা রোগী নিরিখে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ব্যাপক হারে সংক্রমিত এলাকাগুলোর ম্যাপিং করার উদ্যোগ নিয়েছে। লাল, হলুদ ও সবুজ এই তিন ভাগে এলাকাগুলো চিহ্নিত হবে। সর্বোচ্চ সংক্রমিত এলাকা লাল জোন, অল্প সংক্রমিত এলাকা হলুদ জোন এবং সংক্রমণমুক্ত এলাকাগুলো সবুজ জোন। কোনো এলাকায় ৪০-এর বেশি রোগী থাকলে সেটি হবে লাল জোন। সে এলাকাটি লকডাউন করা হবে। কিন্তু সরকারি পরিকল্পনায় লকডাউন অবস্থায় নাগরিকরা কীভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ও ক্রয় সম্পন্ন করবেন তা স্পষ্ট নয়। বিশেষত, দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল রিকশাচালক, শ্রমজীবী, হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা দিনের বাজার দিনে করে অভ্যস্ত তারা কীভাবে লকডাউনে থাকবে তা স্পষ্ট নয়। বিদেশে বয়স্ক মানুষ ও দুস্থদের জন্য সরকারি ব্যবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ওষুধপত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাতে লকডাউন সফল হয় এবং সংক্রমণ কমে আসে। তারা এখন লকডাউন সীমিতভাবে উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আমাদের সরকার অনেক রকম উদ্যোগ নিচ্ছে কিন্তু এগুলো বিস্তারিতভাবে পরিকল্পিত নয় বলেই সম্পূর্ণ সাফল্য আসছে না। গণপরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রেন ও বাসে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বহুলাংশে সফল হলেও নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আগামী দিনে জীবিকার তাগিদে এবং নন-কোভিড রোগীদের সুবিধার জন্য লকডাউন আরও শিথিল করতে হবে। কিন্তু তার আগে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে এবং কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বহাল রাখা যাবে তার বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনই প্রণয়ন করা জরুরি। তা না হলে জনসংখ্যাবহুল ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে করোনা মহামারী জনগণের জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। আমরা মনে করি এই পর্যায়ে সরকারের উচিত হবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে ভবিষ্যতের জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা করা।