মাগুরায় চাচার ষড়যন্ত্রে বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেনা একমাত্র সন্তান!
মাগুরা জেলা প্রতিনিধি
মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায় নাকোল ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামের এক
শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ভাতার দাবীদার নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি
হয়েছে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র মেয়ে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ
করেছেন । বাকি সদস্যরা অডিও ভিডিওতে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের ৮
নম্বর ওয়ার্ডের রায়নগর গ্রামের বাসিন্দা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল
হোসেন মোল্ল্যা । তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে
সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। সে সময় মৃত শহীদ আবুল হোসেন মোল্ল্যা
ছিলেন বিবাহিত । তাঁর একমাত্র মেয়ে রোকেয়া বেগম। আর কোনো
ওয়ারিশ না থাকলেও মৃত শহীদ আবুল হোসেন মোল্ল্যার সহোদর ভাই
আনিচুর রহমান (৫৫) পিতা মৃত ইছাহাক মোল্ল্যা পরিচয়ে দীর্ঘদিন
ধরে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।
এ ব্যাপারে,মৃত শহীদ আবুল হোসেন মোল্ল্যা মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আলেয়া
খাতুন বলেন,রোকেয়া বেগম আমাদের এক মাত্র মেয়ে। তার জন্মদাতা
পিতার নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মোল্ল্যা। আমার স্বামী
১৯৭১ সালে যুদ্ধে শহীদ হওয়ার সময়ে আমার গর্ভে ছিলো আমাদের
রোকেয়া। আমার স্বামীর অর্থ সম্পদ থেকে আমাকে ও আমার মেয়ে কে
বঞ্চিত করায় পরবর্তীতে দারিদ্র্য দূরীকরণে আমার বাবার বাড়ি চলে
আসতে বাধ্য হই । তখন পর্যন্ত আমি আমার স্বামীর রাষ্ট্রিয় সম্মানি
ভাতা পেতাম । তিনি বলেন, পরবর্তীতে আমার পিতা মাতা আমার মেয়ের
ভরনপোষণ চালাতে দূর্বল হলে আমাকে আবার বিবাহ দেন।এবং এখন যে
স্বামীর অধিন বৃদ্ধা বয়সে আমি আছি। তিনি আমার রোকেয়াকে
মেনে নিয়েই আমাকে বিবাহ করেন।পরবর্তীতে আমারা আর কোনো
সন্তান নেইনি রোকেয়ার কথা ভেবে । তিনি এ সকল সুবিধা থেকে
বঞ্চিত কেনো হলেন,তার জন্য দেশ নেএী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে
বিচার দাবী করেন।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের এ সকল ভাতা দি”েছন,
কিš‘ কিছু অসৎ ব্যাক্তির কারনে আমান কন্যা তার পিতৃ ভাতা থেকে
বঞ্চিত।
অপর দিকে গত ২জুন ২০২০ শহীদ আবুল হোসেন মোল্ল্যার সহোদর ভাই
মোঃ আনিচুর রহমান (৫৫) বলেন, আমার ভাই এর মৃত্যর পর ভাবি দ্বিতীয়
বিবাহ করেন,আর রোকেয়া আমার ভায়ের মেয়ে নয়, রোকেয়া পরের পক্ষের
মেয়ে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মোল্ল্যার ভাতার টাকা স্ত্রী
আলেয়া বেগম পেতেন। তার দ্বিতীয় বিবাহ করাই আমি পাই। আনিচুর
রহমানের বাকি ওয়ারিশরা কেনো বঞ্চিত ? আপনার আরো ভাই বোন
আছেন ! তাহারা পেলেন না আপনি একা পেলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে
তিনি আর মুখ খুলতে রাজি নন।
এ সময়ে নাকোল ইউনিয়ন পরিষদ ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ আরব
আলী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমাউনুর রশিদ মুহিত আমার
অনুমতি ছাড়াই ওয়ারেশ কায়েম সনদপত্র প্রদান করেন । আমি এ সকল
বিষয় কিছু জানি না বলে এড়িয়ে যান। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ
আরব আলী মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবুল হোসেন মোল্ল্যার মৃত বোন
মোছাঃ সকিনা বেগম এর ছেলে। ভাতা উত্তোলনকারী মোঃ আনিচুর
রহমান এর ভাগনে। এ বিষয়ে নাকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
হুমাউনুর রশিদ মুহিতকে অবহিত করার চেস্টা করলে তার সাথে
যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
অপর দিকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার এক মাত্র মেয়ে রোকেয়া ভাতা, তার পৈত্রিক
অধিকার আছে বলে দাবী করেন। তিনি আরও বলেন, আমি আমার মায়ের
কাছথেকে শুনেছি আমার আব্বা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হবার পর চাচারা
আমার মাকে তাড়িয়ে দেন। কোন অর্থসম্পদ আমাদেরকে দেয়া হয়নি।
কেনো দেয়া হবেনা তা আমি আমার চাচাদের কাছে জানতে চাইলে
তারা বলেন, তোমার আব্বার কোন অর্থসম্পদ ছিলো না। যে গুলো
আছে তোমার দাদা আমাদের নামে লিখে দিয়েছেন।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মৃত আবুল হোসেন মোল্ল্যার ভাতার বিষয় জানতে
চাইলে। গত ৩ই জুন ২০২০, মুঠোফোনের এক সাক্ষাৎকারে মাগুরা জেলা
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমান বলেন,শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল
হোসেন মোল্ল্যার স্ত্রী আলেয়া বেগম দ্বিতীয় বিবাহ করলে তার বদলে
ভাইকে দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, রোকেয়া বেগম এর জন্ম নিবন্ধনে
১৯৭৫ সাল থাকায় তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না। এ দিকে শহীদ আবুল
হোসেন মোল্ল্যার মেয়ে নিজের জন্ম নিবন্ধন সনদ ১৯৭১ সালেই তিনি
দেখান । শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আলেয়া বেগম সাংবাদিকদের এক অডিও
ভিডিও সাক্ষাৎকারে দাবী করেন যে, রোকেয়া বেগম শহীদ আবুল
হোসেন মোল্ল্যারই মেয়ে । আমি তাকে আমার পেটে ধারণ করেছি এতে
কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই । প্রশ্ন হলো তাহলে, মহান মুক্তিযুদ্ধা
শহীদ আবুল হোসেন মোল্ল্যার ওয়ারিশ দাবিদার মধ্যে ভাতা পাবেন কে?
ভাই, স্ত্রী, না মেয়ে। মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা প্রদান বাস্তবায়ন
কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার যে সিদ্ধান্ত নেবেন
সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ
ইয়াসিন কবির দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের অফিসে
লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই বিষয়টি দেখবো। মুক্তিযোদ্ধা মারা
গেলে বিধি মোতাবেক তাঁর স্ত্রী ভাতা পাবেন, স্ত্রী না থাকলে বাবা-মা
ভাতা পাবেন, বাবা-মা না থাকলে সন্তানরা ভাতা পাবেন।

















