০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্যায়, অবিচার ক্রমশ মানুষ করে যাচ্ছে

প্রতিনিধির নাম:

কেরলের সাইলেন্স ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক থেকে একটা হাতি এসেছিল খাদ্যের সন্ধানে কেরলের একটা গ্রামে। গ্রামবাসীরা হাতিটিকে একটা আনারস খেতে দেয়। এই অবলা প্রাণীটি সেই আনারস খেয়েও ফেলে। খাওয়ার পরেই বুঝতে পারে সৃষ্টির সেরা জীবকে বিশ্বাস করে সে কি ভুল করেছে। আনারসটির ভিতরে বাজি, বারুদ দিয়ে ভর্তি করা ছিল। তাই আনারসটি খাওয়ার সাথে সাথেই অসহ্য জ্বলনে রক্তাক্ত হয়ে উঠে তার সারা শরীর। বারুদ গুলো বিস্ফোরিত হতে থাকে তার শুঁড়সহ সারা শরীরে।

ফরেস্ট অফিসার মোহন যখন সংবাদ মাধ্যমকে বলেনঃ-

“ডাক্তার যখন হাতিটির ময়নাতদন্ত করেন তখন তিনি জানান,—- ১৫ বছর বয়সী হাতিটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। ”
কাঁপা গলায় আরও জানান,” যে হাতিটির মধ্যে একটা সিক্স সেন্স কাজ করেছিল। সে জানতো তার মৃত্যু আসন্ন। শুঁড় সহ গোটা শরীর রক্তময়, যন্ত্রণায় জ্বলছিল সারা দেহ। এই অবস্থায় সে তার সন্তানের কথা ভেবে চলে যায় নদীর মাঝে জলের মধ্যে যাতে সেই রক্তাক্ত জায়গায় পোকা-মাকড় না বসে। যতক্ষণ প্রাণ ছিল সে চেষ্টা করেছিল যাতে তার সন্তানের কষ্ট একটু হলেও যেন কম হয়।
আর শেষ অবধি সে ওই মাঝ নদীতেই প্রাণ ত্যাগ করে। ”

হাতিটি অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে সারা গ্রাম ঘুরে ছুটাছুটি করেছে, কোথাও খাবার পায়নি। মানুষ তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেও সে মানুষের কোন ক্ষতি করেনি। গ্রামের কারো কোন ক্ষতি করেনি। মাঝনদীতে গিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। কোন চেষ্টা করেও তাকে সেখান থেকে সরানো যায়নি।

আচ্ছা এরপরেও মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব কি করে হয়?? মানুষ এই পৃথিবী ডিজার্ভ করেনা। যে অন্যায়, যে অবিচার ক্রমশ মানুষ করে যাচ্ছে তার শাস্তি অবশ্যই পাবে। প্রকৃতি কারো ঋণ রাখে না। সৃষ্টিকর্তা সব সুদে আসলে ফিরত দিয়ে দিবে। আজ যে পৃথিবীর এই অবস্থা সেটার জন্যও মানুষই দায়ী। মানুষের বিনাশ অনিবার্য।
মানুষের চেয়ে দ্বিতীয় ভয়ঙ্কর প্রাণী আর পৃথিবীতে নেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২০
১৫৬ বার পড়া হয়েছে

অন্যায়, অবিচার ক্রমশ মানুষ করে যাচ্ছে

আপডেট সময় ০৯:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২০

কেরলের সাইলেন্স ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক থেকে একটা হাতি এসেছিল খাদ্যের সন্ধানে কেরলের একটা গ্রামে। গ্রামবাসীরা হাতিটিকে একটা আনারস খেতে দেয়। এই অবলা প্রাণীটি সেই আনারস খেয়েও ফেলে। খাওয়ার পরেই বুঝতে পারে সৃষ্টির সেরা জীবকে বিশ্বাস করে সে কি ভুল করেছে। আনারসটির ভিতরে বাজি, বারুদ দিয়ে ভর্তি করা ছিল। তাই আনারসটি খাওয়ার সাথে সাথেই অসহ্য জ্বলনে রক্তাক্ত হয়ে উঠে তার সারা শরীর। বারুদ গুলো বিস্ফোরিত হতে থাকে তার শুঁড়সহ সারা শরীরে।

ফরেস্ট অফিসার মোহন যখন সংবাদ মাধ্যমকে বলেনঃ-

“ডাক্তার যখন হাতিটির ময়নাতদন্ত করেন তখন তিনি জানান,—- ১৫ বছর বয়সী হাতিটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। ”
কাঁপা গলায় আরও জানান,” যে হাতিটির মধ্যে একটা সিক্স সেন্স কাজ করেছিল। সে জানতো তার মৃত্যু আসন্ন। শুঁড় সহ গোটা শরীর রক্তময়, যন্ত্রণায় জ্বলছিল সারা দেহ। এই অবস্থায় সে তার সন্তানের কথা ভেবে চলে যায় নদীর মাঝে জলের মধ্যে যাতে সেই রক্তাক্ত জায়গায় পোকা-মাকড় না বসে। যতক্ষণ প্রাণ ছিল সে চেষ্টা করেছিল যাতে তার সন্তানের কষ্ট একটু হলেও যেন কম হয়।
আর শেষ অবধি সে ওই মাঝ নদীতেই প্রাণ ত্যাগ করে। ”

হাতিটি অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে সারা গ্রাম ঘুরে ছুটাছুটি করেছে, কোথাও খাবার পায়নি। মানুষ তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেও সে মানুষের কোন ক্ষতি করেনি। গ্রামের কারো কোন ক্ষতি করেনি। মাঝনদীতে গিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। কোন চেষ্টা করেও তাকে সেখান থেকে সরানো যায়নি।

আচ্ছা এরপরেও মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব কি করে হয়?? মানুষ এই পৃথিবী ডিজার্ভ করেনা। যে অন্যায়, যে অবিচার ক্রমশ মানুষ করে যাচ্ছে তার শাস্তি অবশ্যই পাবে। প্রকৃতি কারো ঋণ রাখে না। সৃষ্টিকর্তা সব সুদে আসলে ফিরত দিয়ে দিবে। আজ যে পৃথিবীর এই অবস্থা সেটার জন্যও মানুষই দায়ী। মানুষের বিনাশ অনিবার্য।
মানুষের চেয়ে দ্বিতীয় ভয়ঙ্কর প্রাণী আর পৃথিবীতে নেই।