০৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
“বিটিভির প্রকৌশল বিভাগ গুপ্তধনক্ষেত্র:বিটিভি’র প্রকৌশলী মনিরুল পুরস্কার হিসেবে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন প্রধান প্রকৌশলী পদে!
শত কোটি টাকার অভিযোগের পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তার উত্থান ঘিরে বিস্ময়।
মনিরুল ইসলাম ইস্যুতে বিটিভিতে প্রশাসনের দ্বৈত মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন?”
বিটিভিতে দুর্নীতির লাল সংকেত!
দুদকের প্রমাণের পরও প্রধান প্রকৌশলী করার গোপন তৎপরতা
অনুসন্ধানে উঠে এলো লোমহর্ষক চিত্র!]
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ঘিরে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছেন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (চলতি দায়িত্ব) মো. মনিরুল ইসলাম—যিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত এবং যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সর্বশেষ অনুসন্ধানে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা শুধু উদ্বেগজনক নয়—বরং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার ব্যবস্থার জন্য ভয়ংকর ও লোমহর্ষক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসব অভিযোগ ও অনুসন্ধানের মাঝেই তাঁকে বিটিভির প্রধান প্রকৌশলী পদে বসানোর প্রস্তুতি দৃশ্যমান হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) মনিরুলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে—সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে যোগসাজশে মো. মনিরুল ইসলাম বিটিভির ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার টেন্ডার প্রক্রিয়া ও বদলি ব্যবস্থাপনা প্রভাবিত করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এনএসআইয়ের এই প্রতিবেদনকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি উঠলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যেই মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দুদকের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধানে অকাট্য ও প্রামাণ্য তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যদিও আইনগত প্রক্রিয়ার স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশযোগ্য নয়, তবে বিষয়টির গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—যিনি দুদকের অনুসন্ধানে আছেন এবং যার বিরুদ্ধে একাধিক সংস্থার প্রতিবেদন রয়েছে, তাঁকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার সর্বোচ্চ কারিগরি পদে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
এই বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। সচিবের এই নীরবতা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিটিভির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই অঘোষিতভাবে একটি ‘গুপ্তধনক্ষেত্র’ হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই বিভাগকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে ইতোমধ্যেই প্রায় ডজনখানেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দুদকের তদন্তের আওতায় এসেছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তদন্তেও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ায় অনেক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন উপকেন্দ্রে ওএসডি করা হয়েছে, কেউ কেউ সাময়িক বরখাস্তের মুখোমুখি হয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন—যেখানে শাস্তির নজির তৈরি হয়েছে, সেখানে কীভাবে একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তা পদোন্নতির পথে এগিয়ে যান?
এই প্রশ্ন এখন শুধু সাধারণ মানুষের নয়; বাংলাদেশ টেলিভিশনের অভ্যন্তরেও মনিরুল ইসলাম ইস্যুতে তীব্র অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে । অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিক ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় এখনই নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই সংকট আরও গভীর হবে—এমন আশঙ্কাই ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে।
ট্যাগস :










