চট্রগ্রামে ঠিকাদারের অবহেলায় বহুতলা ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু: ক্ষতিপুরন দাবী!
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের হালিশহর থানার পুলিশ লাইন এলাকায় নির্মাণাধীন নারী ব্যারাকের ছয়তলা থেকে পড়ে মো. ইব্রাহিম (৩৬) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম ভোলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা এবং চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের অধীনে নির্মাণাধীন ভবনের ছয়তলায় কাজ করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনে কোনো ধরনের সেফটি ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল না। কাজ করার সময় মাচা ভেঙে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন ইব্রাহিম। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রমিক সহকর্মী ও নিহতের স্বজনরা অভিযোগ তুলেছেন, প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার এবং চট্টগ্রাম জেলা ঠিকাদার সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ টিটু নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করাচ্ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। একইসঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিহতের পরিবারকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ময়নাতদন্ত বন্ধসহ আইনি প্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখতে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, তারা কোনো চাপের মুখে নত হতে চান না, তারা চান ন্যায়বিচার। তাদের মতে, এই মৃত্যু শুধু দুর্ঘটনা নয়, এটি অবহেলার ফল। শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীন পরিবেশে কাজ করানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো এবং তাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে মালিক বা ঠিকাদার দায় এড়াতে পারেন না। এ ছাড়া বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২০১, ৩৮৪ ও ৩৮৫ ধারায় প্রমাণ গোপন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক সমঝোতার চেষ্টাও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এ ঘটনায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হান (গণপূর্ত ডিভিশন-২, রহমতগঞ্জ)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অভিযোগ রয়েছে, তার সঙ্গে ঠিকাদার আবদুল্লাহ টিটুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রকল্পটি ঠিকাদার টিটুর মালিকানাধীন শাহ জাব্বার নামের প্রতিষ্ঠানের অধীনে চলছিল।
মানবাধিকার সংগঠন এবং নিহতের পরিবার এই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা নয়, বরং এক ধরনের প্রতিষ্ঠিত অবহেলার ফল বলেই মনে করছে। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
















