০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুন: টেন্ডার আহবানের দাবী: বিসিআইসিতে ২ শত ৫৪ কোটি টাকা মুল্যের টেন্ডারের প্রাক্কলিত মূল্য ফাঁস!

প্রতিনিধির নাম:

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সারের মজুদ নিশ্চিত করে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তার মাধ্যমে দেশে খাদ্য উৎপাদনে সম্পূর্ণতা অর্জন করতে ৩৪ বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রথম দফায় ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বেড়ে দাড়ায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কপোরেশনের (বিসিআইসি)।প্রকল্পটির সর্বশেষ ব্যয় বেড়ে দাড়িয়ে ২ হাজার ৩৪৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কপোরেশনের (বিসিআইসি) ৩৪ বাফার গোডাউন প্রকল্পের দরপত্র উন্মুক্ত হবে রবিবার। সংস্থাটির পরিচালক (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জাকির হোসেন আকন্দ ও ৩৪ বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মনজুরুল হক দরপত্রের প্রাক্কলিত মূল্য আগাম জানিয়ে দিয়ে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগের জন্য পরিকল্পনা সাজিয়েছেন বলে জানায় একটি সূত্র।

রাজশাহী বাফার গোডাউনে আরডিপি মূল্য ৭২ কোটি ৪০ লক্ষ ৭৬ হাজার, প্রাক্কলিত মূল্য ৮০ কোটি। গাইবান্ধা বাফার গোডাউনে আরডিপি মূল্য ৫২ কোটি ২০ লক্ষ ৭১ হাজার, প্রাক্কলিত মূল্য ৫৪ কোটি ৫০ লক্ষ। ভোলা বাফার গোডাউনে আরডিপি মূল্য ৫৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ৮২ হাজার, প্রাক্কলিত মূল্য ৫৮ কোটি ২২ লক্ষ এবং বরগুনা বাফার গোডাউনে আরডিপি মূল্য ৫৫ কোটি ৫৮ লক্ষ ৩৭ হাজার, প্রাক্কলিত মূল্য ৬২ কোটি টাকা।

এই কারসাজির সাথে সংস্থাটির চেয়ারম্যান জড়িত কি না সেটাও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান হিসেবে প্রাক্কলিত মূল্য একমাত্র চেয়ারম্যানের জানার কথা। কিন্তু এ মূল্য কিভাবে আগাম প্রকাশ হলো সে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা দরকার বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বিসিআইসি’র একাধিক কর্মকর্তা বলেন এ চক্রের সাথে বিসিআইসি’র চেয়ারম্যানের পিএস গাজী শাহিনুল ইসলাম জড়িত রয়েছেন। বেশিরভাগ প্রাক্কলিত মূল্য তিনি সীলগালা না করে উন্মুক্ত করে রাখেন এবং টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছে তথ্য বিক্রি করেন। ৩৪ বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্রে কারসাজি করার জন্য পরিচালক (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দ ও বিসিআইসি’র প্রায় ৫৮৬ কোটি টাকার সার কেলেঙ্কারির মূল কুশীলব বিভাগীয় প্রধান, পিআইডি (মূল পদবী ব্যস্থাপনা পরিচালক) মো. শহিদুল ইসলাম শনিবার বন্ধের দিনেও অফিস করেছেন।

রাষ্ট্রের ৫৮৬ কোটি টাকার ক্ষতি করে মো. শহিদুল ইসলাম এখন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পদোন্নতি নেয়ার স্বপ্নে বিভোর। জানা যায়, বিসিআইসি’র প্রায় ৫৮৬ কোটি টাকার সার কেলেঙ্কারির তদন্ত কমিটিতে বিসিআইসি ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে একজন ব্যক্তি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি হলেন পরিচালক (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দ।

ড. মোঃ জাকির হোসেন আখন্দ ম্যানেজ হয়ে কৌশলে মূল আসামী মো. শহিদুল ইসলাম-কে বাঁচিয়ে দেন। তখন থেকেই মো. শহিদুল ইসলাম ও ড. মোঃ জাকির হোসেন আখন্দের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের নির্দেশে বিসিআইসি’র প্রায় ৫৮৬ কোটি টাকার সার কেলেঙ্কারির মূল কুশীলব মো. শহিদুল ইসলাম-কে ক্রয় বিভাগ থেকে জিপিএফপিএলসি তে এবং মো. মঞ্জুর রেজা-কে বিপণন বিভাগ থেকে সরিয়ে এমআইএস বিভাগে বদলী করা হয়।

সারের পিক সিজনের দোহায় দিয়ে মো. মঞ্জুর রেজা পুনরায় বিপণন বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পিক সিজন কয়েকটি শেষ হলেও তার পদ পদবীর কিছুই পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে কালের পরিক্রমায় বিসিআইসি’র প্রায় ৫৮৬ কোটি টাকার সার কেলেঙ্কারির মূল কুশীলব মো. শহিদুল ইসলাম ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দের আশীর্বাদে শীর্ষ কর্মকর্তাদের একজন হওয়ার তালিকায় রয়েছেন। বিসিআইসি’র ভাল এবং সৎ কর্মকর্তারা বরাবরই কোনঠাসা কিন্তু মূল কুশিলবেরা থেকে গেছে ধরা ছোয়ার বাহিরে।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪
৭৭৯ বার পড়া হয়েছে

পুন: টেন্ডার আহবানের দাবী: বিসিআইসিতে ২ শত ৫৪ কোটি টাকা মুল্যের টেন্ডারের প্রাক্কলিত মূল্য ফাঁস!

আপডেট সময় ১০:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সারের মজুদ নিশ্চিত করে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহায়তার মাধ্যমে দেশে খাদ্য উৎপাদনে সম্পূর্ণতা অর্জন করতে ৩৪ বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রথম দফায় ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বেড়ে দাড়ায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কপোরেশনের (বিসিআইসি)।প্রকল্পটির সর্বশেষ ব্যয় বেড়ে দাড়িয়ে ২ হাজার ৩৪৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কপোরেশনের (বিসিআইসি) ৩৪ বাফার গোডাউন প্রকল্পের দরপত্র উন্মুক্ত হবে রবিবার। সংস্থাটির পরিচালক (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জাকির হোসেন আকন্দ ও ৩৪ বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মনজুরুল হক দরপত্রের প্রাক্কলিত মূল্য আগাম জানিয়ে দিয়ে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগের জন্য পরিকল্পনা সাজিয়েছেন বলে জানায় একটি সূত্র।

রাজশাহী বাফার গোডাউনে আরডিপি মূল্য ৭২ কোটি ৪০ লক্ষ ৭৬ হাজার, প্রাক্কলিত মূল্য ৮০ কোটি। গাইবান্ধা বাফার গোডাউনে আরডিপি মূল্য ৫২ কোটি ২০ লক্ষ ৭১ হাজার, প্রাক্কলিত মূল্য ৫৪ কোটি ৫০ লক্ষ। ভোলা বাফার গোডাউনে আরডিপি মূল্য ৫৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ৮২ হাজার, প্রাক্কলিত মূল্য ৫৮ কোটি ২২ লক্ষ এবং বরগুনা বাফার গোডাউনে আরডিপি মূল্য ৫৫ কোটি ৫৮ লক্ষ ৩৭ হাজার, প্রাক্কলিত মূল্য ৬২ কোটি টাকা।

এই কারসাজির সাথে সংস্থাটির চেয়ারম্যান জড়িত কি না সেটাও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান হিসেবে প্রাক্কলিত মূল্য একমাত্র চেয়ারম্যানের জানার কথা। কিন্তু এ মূল্য কিভাবে আগাম প্রকাশ হলো সে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা দরকার বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বিসিআইসি’র একাধিক কর্মকর্তা বলেন এ চক্রের সাথে বিসিআইসি’র চেয়ারম্যানের পিএস গাজী শাহিনুল ইসলাম জড়িত রয়েছেন। বেশিরভাগ প্রাক্কলিত মূল্য তিনি সীলগালা না করে উন্মুক্ত করে রাখেন এবং টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছে তথ্য বিক্রি করেন। ৩৪ বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্রে কারসাজি করার জন্য পরিচালক (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দ ও বিসিআইসি’র প্রায় ৫৮৬ কোটি টাকার সার কেলেঙ্কারির মূল কুশীলব বিভাগীয় প্রধান, পিআইডি (মূল পদবী ব্যস্থাপনা পরিচালক) মো. শহিদুল ইসলাম শনিবার বন্ধের দিনেও অফিস করেছেন।

রাষ্ট্রের ৫৮৬ কোটি টাকার ক্ষতি করে মো. শহিদুল ইসলাম এখন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পদোন্নতি নেয়ার স্বপ্নে বিভোর। জানা যায়, বিসিআইসি’র প্রায় ৫৮৬ কোটি টাকার সার কেলেঙ্কারির তদন্ত কমিটিতে বিসিআইসি ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে একজন ব্যক্তি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি হলেন পরিচালক (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দ।

ড. মোঃ জাকির হোসেন আখন্দ ম্যানেজ হয়ে কৌশলে মূল আসামী মো. শহিদুল ইসলাম-কে বাঁচিয়ে দেন। তখন থেকেই মো. শহিদুল ইসলাম ও ড. মোঃ জাকির হোসেন আখন্দের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের নির্দেশে বিসিআইসি’র প্রায় ৫৮৬ কোটি টাকার সার কেলেঙ্কারির মূল কুশীলব মো. শহিদুল ইসলাম-কে ক্রয় বিভাগ থেকে জিপিএফপিএলসি তে এবং মো. মঞ্জুর রেজা-কে বিপণন বিভাগ থেকে সরিয়ে এমআইএস বিভাগে বদলী করা হয়।

সারের পিক সিজনের দোহায় দিয়ে মো. মঞ্জুর রেজা পুনরায় বিপণন বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পিক সিজন কয়েকটি শেষ হলেও তার পদ পদবীর কিছুই পরিবর্তন হয়নি। অন্যদিকে কালের পরিক্রমায় বিসিআইসি’র প্রায় ৫৮৬ কোটি টাকার সার কেলেঙ্কারির মূল কুশীলব মো. শহিদুল ইসলাম ড. মো. জাকির হোসেন আখন্দের আশীর্বাদে শীর্ষ কর্মকর্তাদের একজন হওয়ার তালিকায় রয়েছেন। বিসিআইসি’র ভাল এবং সৎ কর্মকর্তারা বরাবরই কোনঠাসা কিন্তু মূল কুশিলবেরা থেকে গেছে ধরা ছোয়ার বাহিরে।