খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন মাশরেকি মুস্তারি। কিন্তু শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে না এসে তৎকালীন উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর ‘লিয়াজোঁ অফিস’ ঢাকায় যোগ দেন। সেখানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের নামে প্রায় এক বছর অবস্থান করেন। এ অবস্থায় শিক্ষক সংকটে লোকপ্রশাসন বিভাগে সেশনজট প্রকোপ আকার ধারণ করলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে বিভাগে এসে ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের দুই-তিনটি ক্লাস নিয়ে আবারও ঢাকায় এসে অবস্থান নেন মুস্তারি।
বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলছেন, পিএইচডি করার কথা বলে প্রভাষক মাশরেকি মুস্তারি জাপানে রয়েছেন। তবে এটি সত্য নাকি মিথ্যা তা আমাদের জানা নেই। বিভাগে শিক্ষক সংকট আছে। এর মধ্যে যদি কোনও শিক্ষক অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে আমাদের কোর্সগুলো শেষ করতে বাকি শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হয়। ছুটি না নিয়ে বছরের পর বছর ওই শিক্ষকের বিদেশে থাকা আমাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।
লোকপ্রশাসন বিভাগটি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আওতাধীন। এই অনুষদের ডিন ড. মোরশেদ উল আলম। তার কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘প্রথমত এটি একটি প্রশাসনিক বিষয়। দ্বিতীয়ত এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমি এখানে নতুন ডিন হয়েছি। ইতোপূর্বে যিনি এই দায়িত্বে ছিলেন হয়তো তাকে জানানো হয়েছে। তাও আমি সঠিক জানি না। লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে যদি এই বিষয়ে আমাকে জানানো হয়, তাহলে পরবর্তীতে আমি তা প্রশাসনকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেবো।’
ছুটি ছাড়াই চার বছরের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত কোন শিক্ষক নৈতিকভাবে শিক্ষকতা করার যোগ্য কিনা এমন প্রশ্নের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এখন তদন্তাধীন আছে। আমরা চাই বিষয়টির দ্রুত সমাধান হোক। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’
একই কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আলমগীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক বিষয়, সেহেতু তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো আমরা।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
















