০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে গণপূর্তের প্রকৌশলী লাপাত্তা!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেবার শর্তে প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুুস নিয়ে ৪ মাস যাবত লাপাত্তা রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গণপূর্ত অধিদতরের ই/এম-৮-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। এই অফিসটি ইদানিং অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অগ্রিম ঘুষ নিয়েও ঠিকাদারদের কাজ না দেওয়া ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এই বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ই/এম উপবিভাগ-১৫ (মিরপুর)-এর উপসহকারী প্রকৌশলী লিটন মল্লিক ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার পর ৪ মাস ধরে অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ৫ বার কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
গণপূর্ত অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিটন মল্লিক বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার পর গত ২১ মে থেকে আর অফিস করছেন না। এই প্রকৌশলী ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার কথা বলে গণপূর্ত অধিদফতরের স্বাস্থ্য উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সহকারী মো. ইলিয়াসের কাছ থেকে ২৭ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু জুন মাসে অর্থবছর শেষ হওয়ার পরও কাজ না দেওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চাইলে তা না দিয়ে বিভিন্ন তারিখ দিয়ে একাধিক চেক প্রদান করেন। কিন্তু ব্যাংকে চেক ভাঙাতে গেলে ইলিয়াস জানতে পারেন ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা নেই। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি গুরতির আহত হওয়ার পর গত মঙ্গলবার মারা যান।
উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ২৭ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়টি তার সহকর্মীরা জানার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এই প্রকৌশলী বিভিন্ন ঠিকাদার ও ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার কথা বলে প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। আবদুøল্লাহ আল মামুন নামে একজনের কাছ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা নিলেও কাজ না দেওয়ায় পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে জুলাই মাসে ঠিকাদাররা লিটন মল্লিককে মারধরও করেন। এর আগে তিনি খুলনায় চাকরি করার সময়ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ না দেওয়ায় মারধরের শিকার হন বলে তার সহকর্মীরা জানান।

অন্যদিকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিটন মল্লিক মে মাস থেকে ৪ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে বিভিন্ন কাজের এমবিতে লিটন মল্লিকের স্বাক্ষর ছাড়াই গত জুন মাসে তার দফতরের আওতাধীন ই/এম উপ-বিভাগ ১৫-এর বিভিন্ন কাজের বিল পরিশোধ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী এ আর এম তাওহীদুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফারহানা রহমান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অনিয়ম থেকে রক্ষা পেতে নির্বাহী প্রকৌশলী গত জুলাই মাসে ব্যাকডেটে ই/এম উপ-বিভাগ ১৫, মিরপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিটন মল্লিকের জায়গায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুুল ইসলামকে দায়িত্ব প্রদান দেখিয়ে এমবিতে স্বাক্ষর করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জুলাই মাসে দায়িত্ব প্রদান করা হলেও চিঠিতে ২৮ মে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। আর লিটন মল্লিক গত ২১ মে থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী কোনো উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে এভাবে দায়িত্ব দিয়ে চিঠি ইস্যু করতে পারেন না বলে জানা গেছে। ২৮ মে উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়ে চিঠি ইস্যু করার কথা বলা হলেও এ চিঠির কোনো অনুলিপি ওই সময়ের প্রধান প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানোর কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
গণপূর্তের একাধিক প্রকৌশলী জানান, লিটন মল্লিক গত ২১ মে থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও মে ও জুন মাসের বেতনের অনুমোদন দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

একাধিক প্রকৌশলী জানান, অনলাইনে বেতন হলেও বেতন অনলাইনে সাবমিট করার পর ডিডিওর (নির্বাহী প্রকৌশলী) কাছে যায়। তিনি তা চূড়ান্ত করে এজি অফিসে পাঠান। ওনি চাইলে বেতন আটকে দিতে পারতেন কিন্তু আটকাননি। তা ছাড়া এই নির্বাহী প্রকৌশলীর আওতাধীন এলাকায় সরকারের বিভিন্ন চলমান প্রকল্পগুলোতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিটন মল্লিক নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘুষ দেওয়ার কথা বলেও টাকা নিয়েছেন বলে ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন। তবে এসব ঘটনার দায় এড়াতে লিটন মল্লিককে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণ দর্শানোর জন্য ১ আগস্ট নোটিস জারি করেন নির্বাহী প্রকৌশলী। যার অনুলিপি দেওয়া হয়েছে অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীকে।
একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার এতদিন পর কেন পদক্ষেপ নেওয়া হলো জানতে চাইলে গণপূর্ত ই/এম-৮-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ আর এম তাওহীদুর রহমান বলেন, তার চাকরি চলে যেত তাই মানবিক কারণে প্রথমে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চেষ্টা করা হয়েছিল সে যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তা যেন ফেরত দিয়ে দেন। কিন্তু তা না করায় এবং বারবার কারণ দর্শানোর পরও জবাব না দেওয়ায় বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, তার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো উপ-সহকারী প্রকৌশলী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার কাজের দায়িত্ব নির্বাহী প্রকৌশলী অন্য একজনকে দিতে পারেন বলেও জানান তিনি। মে মাস থেকে অনুপস্থিত থাকার পরও লিটন মল্লিকের মে ও জুন মাসের বেতন তিনি অনুমোদন কেন দিয়েছেন জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বেতন অনলাইনে সাবমিট করা হয়। জুন মাসে সবাই কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে হয়তো খেয়াল করা হয়নি। তাই বেতন পেয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০২:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
২২৩ বার পড়া হয়েছে

দুই কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে গণপূর্তের প্রকৌশলী লাপাত্তা!

আপডেট সময় ০২:১১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রোস্তম মল্লিক

ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেবার শর্তে প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুুস নিয়ে ৪ মাস যাবত লাপাত্তা রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গণপূর্ত অধিদতরের ই/এম-৮-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। এই অফিসটি ইদানিং অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অগ্রিম ঘুষ নিয়েও ঠিকাদারদের কাজ না দেওয়া ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এই বিভাগের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ই/এম উপবিভাগ-১৫ (মিরপুর)-এর উপসহকারী প্রকৌশলী লিটন মল্লিক ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার পর ৪ মাস ধরে অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ৫ বার কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
গণপূর্ত অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিটন মল্লিক বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার পর গত ২১ মে থেকে আর অফিস করছেন না। এই প্রকৌশলী ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার কথা বলে গণপূর্ত অধিদফতরের স্বাস্থ্য উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সহকারী মো. ইলিয়াসের কাছ থেকে ২৭ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু জুন মাসে অর্থবছর শেষ হওয়ার পরও কাজ না দেওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চাইলে তা না দিয়ে বিভিন্ন তারিখ দিয়ে একাধিক চেক প্রদান করেন। কিন্তু ব্যাংকে চেক ভাঙাতে গেলে ইলিয়াস জানতে পারেন ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা নেই। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি গুরতির আহত হওয়ার পর গত মঙ্গলবার মারা যান।
উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ২৭ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়টি তার সহকর্মীরা জানার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এই প্রকৌশলী বিভিন্ন ঠিকাদার ও ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার কথা বলে প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। আবদুøল্লাহ আল মামুন নামে একজনের কাছ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা নিলেও কাজ না দেওয়ায় পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে জুলাই মাসে ঠিকাদাররা লিটন মল্লিককে মারধরও করেন। এর আগে তিনি খুলনায় চাকরি করার সময়ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ না দেওয়ায় মারধরের শিকার হন বলে তার সহকর্মীরা জানান।

অন্যদিকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিটন মল্লিক মে মাস থেকে ৪ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে বিভিন্ন কাজের এমবিতে লিটন মল্লিকের স্বাক্ষর ছাড়াই গত জুন মাসে তার দফতরের আওতাধীন ই/এম উপ-বিভাগ ১৫-এর বিভিন্ন কাজের বিল পরিশোধ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী এ আর এম তাওহীদুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফারহানা রহমান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অনিয়ম থেকে রক্ষা পেতে নির্বাহী প্রকৌশলী গত জুলাই মাসে ব্যাকডেটে ই/এম উপ-বিভাগ ১৫, মিরপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিটন মল্লিকের জায়গায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুুল ইসলামকে দায়িত্ব প্রদান দেখিয়ে এমবিতে স্বাক্ষর করানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জুলাই মাসে দায়িত্ব প্রদান করা হলেও চিঠিতে ২৮ মে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। আর লিটন মল্লিক গত ২১ মে থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী কোনো উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে এভাবে দায়িত্ব দিয়ে চিঠি ইস্যু করতে পারেন না বলে জানা গেছে। ২৮ মে উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়ে চিঠি ইস্যু করার কথা বলা হলেও এ চিঠির কোনো অনুলিপি ওই সময়ের প্রধান প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানোর কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
গণপূর্তের একাধিক প্রকৌশলী জানান, লিটন মল্লিক গত ২১ মে থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও মে ও জুন মাসের বেতনের অনুমোদন দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

একাধিক প্রকৌশলী জানান, অনলাইনে বেতন হলেও বেতন অনলাইনে সাবমিট করার পর ডিডিওর (নির্বাহী প্রকৌশলী) কাছে যায়। তিনি তা চূড়ান্ত করে এজি অফিসে পাঠান। ওনি চাইলে বেতন আটকে দিতে পারতেন কিন্তু আটকাননি। তা ছাড়া এই নির্বাহী প্রকৌশলীর আওতাধীন এলাকায় সরকারের বিভিন্ন চলমান প্রকল্পগুলোতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিটন মল্লিক নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘুষ দেওয়ার কথা বলেও টাকা নিয়েছেন বলে ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন। তবে এসব ঘটনার দায় এড়াতে লিটন মল্লিককে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণ দর্শানোর জন্য ১ আগস্ট নোটিস জারি করেন নির্বাহী প্রকৌশলী। যার অনুলিপি দেওয়া হয়েছে অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীকে।
একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার এতদিন পর কেন পদক্ষেপ নেওয়া হলো জানতে চাইলে গণপূর্ত ই/এম-৮-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এ আর এম তাওহীদুর রহমান বলেন, তার চাকরি চলে যেত তাই মানবিক কারণে প্রথমে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চেষ্টা করা হয়েছিল সে যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তা যেন ফেরত দিয়ে দেন। কিন্তু তা না করায় এবং বারবার কারণ দর্শানোর পরও জবাব না দেওয়ায় বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, তার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো উপ-সহকারী প্রকৌশলী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার কাজের দায়িত্ব নির্বাহী প্রকৌশলী অন্য একজনকে দিতে পারেন বলেও জানান তিনি। মে মাস থেকে অনুপস্থিত থাকার পরও লিটন মল্লিকের মে ও জুন মাসের বেতন তিনি অনুমোদন কেন দিয়েছেন জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বেতন অনলাইনে সাবমিট করা হয়। জুন মাসে সবাই কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে হয়তো খেয়াল করা হয়নি। তাই বেতন পেয়েছেন।