০৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তার ক্ষমতার কাছে মন্ত্রী,সচিবও অসহায়: ……………………………………………………………………………… অবৈধ পথে পাঁচ শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খান!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খান। তার ক্ষমতার কাছে নাকি অসহায় সয়ং মন্ত্রী,সচিবও। মন্ত্রণালয়ের কাউকেই তিনি পরোয়া করেন না। প্রতি বছর দুর্যোগকালীন সময়ে এবং জনকল্যাণে এ মন্ত্রণালয় থেকে যে হাজার হাজার কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয় সেগুলোর বরাদ্দ বিতরণ ও অডিট করেন তিনি। আর সেই ক্ষমতাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে আদায় করেন কোটি কোটি টাকা। কেউ তার অবৈধ দাবী না মিটালেই দেন অডিট আপত্তি। যে কারণে মাঠ পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা,কর্মচারি এবং জনপ্রতিনিধিরাও তার কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। শুধু তাইই নয়, সারা দেশের জনপ্রতিনিধিদের ডিও লেটারের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় থেকে হাজার হাজার মেট্রিক টন চাউল,গম ও নগদ অর্থ বরাদ্দ করিয়েও তিনি কোটি কোটি টাকা অবৈধ আয় করেন।
আজ প্রায় একযুগ তিনি আছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে। বিধান না থাকায় তাকে এই মন্ত্রণালয় থেকে অন্য কোন মন্ত্রণালয়ে বা জেলায় বদলীও করা যায় না। ফলে তিনি বনে গেছেন এই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির দানব। অডিট আপত্তির ভয় দেখিয়ে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন করে আজ তিনি কমপক্ষে ৫ শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক। রাজধানী ঢাকার মিরপুরে ১৫ কাঠা জমির ওপর নির্মাণ করেছেন ৪ টি বহুতলা বাড়ী। প্রতিটি বাড়ী ১০ তলা উচ্চতা মানের। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আছে দুখানা প্রাইভেট কার। দুই কন্যার এক কন্যা পড়ে লন্ডনে। আরেক কন্যা রাজধানীর অভিজাত বেসরকারী কলেজে। প্রতি মাসে তিনি অবৈধ আয় করেন ২৫/৩০ লাখ টাকা। খরচ করেন ৩/৪ লাখ টাকা।
আমাদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তার ভোগ বিলাশী জীবনের চালচিত্র। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী (মায়া চৌধুরী) যখন এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তখনই কালোপথে টাকার পাহাড় গড়েন ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খান । সে সময় তার সাথে দেখা করতেও সিরিয়াল নিতে হতো। বর্তমান সময়েও তার সেই গতি অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রী,সচিবকে জিম্মি করে তিনি বীর দর্পে চালিয়ে যাচ্ছেন আখেরি মিশন। যে মিশনের নাম: ফেলো কঁড়ি,মাখো তেল।
ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খানের গ্রামের বাড়ী খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায়। নিতান্তই কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন তিনি। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সুবাদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অডিট বিভাগে সরকারী চাকুরী পাওয়ার পর তার ভাগ্য বদলে যায়। যা বেতন পান তা সংসারে ব্যয় করার কোন প্রয়োজনই পড়ে না। সেগুলো ব্যাংক হিসাবেই পড়ে থাকছে বছরের পর বছর। আর অবৈধ পথে যা আয় করেন তা খরচ করতেই কেটে যায় বছর। দুই কন্যার লেখাপড়া আর স্বামী স্ত্রী দ‘ুজনার খাদ্য খাবার ও চিকিতসায় আর কতইবা ব্যয় হয়। সে হিসেবে তিনি একজন চিন্তাহীন সুখী মানুষ। তার মত সুখ আর সমৃদ্ধি কোন মন্ত্রী, সচিবের আছে কি না সেটাও সন্দেহ।
সামান্য বেতনের সরকারী চাকুরী করে তিনি যে পরিমাণ অর্থ- সম্পদের মালিক হয়েছেন তা কোন মন্ত্রী, এমপি বা সচিব পর্যায়ের এ গ্রেডের কর্মকর্তারাও অর্জন করতে পারেন নি। একেই বলে সোনার কপাল। একেই বলে সৌভাগ্য। তিনি যে দ‘ুটি আই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তার মূল্য কমপক্ষে ৩ লক্ষ টাকা। যে দুটি গাড়ী ব্যবহার করেন তার মুল্য কমপক্ষে কোটি টাকা। যে ফ্ল্যাটে থাকেন সেটির দাম (আসবাবপত্রসহ) কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা। ব্রান্ডের দামি শার্ট, প্যান্ট ছাড়া তিনি কোন অর্ডিনারি পোষাক পরিধান করেন না। তার লাইফ স্টাইল বিশে^র শ্রেষ্ঠ ধনকুবেরদের মতই। অসুখ -বিসুখ হলে বিশ^মানের বেসরকারী অভিজাত হাসপাতাল ছাড়া কোন সরকারী হাসপাতালে তিনি যান না।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০১৭ সালে ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করেন জনৈক ব্যক্তি। ওই অভিযোগে তিনি দাবী করেন যে, মো: নাসির খান অবৈধ পথে ৫ শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের দাবী জানান অভিযোগকারী। তার আবেদনটি দুদকের যাচাই বাছাই কমিটি গ্রহন করে অনুসন্ধান শুরু করে। একজন পরিচালক ও একজন সহকারী পরিচালক অভিযোগটি তদন্ত করতে শুরু করলে তিনি প্রায় কোটি টাকা খরচ করে তদবীরের মাধ্যমে দুদককে থামিয়ে দেন। সেই রহস্য আজো অনুদ্ঘাটন হয়ে আছে। দুদক কেন তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন থেকে বিরত থাকলো সেটাই সকলের কাছে বিরাট প্রশ্ন হয়ে আছে।
কি পরিমাণ অর্থের মালিক হলে ঢাকার মিরপুরে ১৫ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা বিশিষ্ট ৪টি বাড়ী নির্মাণ করা যায় একবার ভেবে দেখুনতো? তিনি কি এই সম্পদের আয়ের সঠিক উতস্য জানাতে পারবেন?
সুত্রগুলো জানায়, ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খান তার কর্মস্থলে একটি কর্মচারি বাহিনী বা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তাদের লালন পালন করছেন। যেমন করেন গ্রামের জোতদাররা। এই কর্মচারিদের তিনি লাঠিয়াল বাহিনীর মত ব্যবহার করেন। বিনিময়ে তাদেরকে সময় সময় আর্থিক সাহায্য দেন। কোন মন্ত্রী,সচিব বা কর্মকর্তা তার ঘুস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগেী হলেই তিনি এই সব চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারিদের লেলিয়ে দেন। তারা কর্মকর্তাদের নানা ভাবে হুমকি ধামকি ও মান অপমান করেন। ফলে আত্মসম্মান রক্ষায় কর্মকর্তারা মো: নাসির খানের বশ্যতা স্বীকার করেই মন্ত্রণালয়ে চাকুরী করতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: কামরুল হাসান এনডিসি‘র সাথে কথা বললে তিনি জানান, নাসির খানের কোন অবৈধ সম্পদ থাকলে সেটা দেখার দায়িত্ব দুদকের। আর ঘুস -দুর্নীতি করলে সেটা দেখার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের । আমাদের কাছে যদি তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ আসে তবে আমরা বিভাগীয় তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খানের ব্যবহ্রত দুটি মোবাইলে এক নাগাড়ে ৫ কর্মদিবস বারবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। এমন কি মুঠো ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি উত্তর দেন নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:১৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
১৮৩ বার পড়া হয়েছে

তার ক্ষমতার কাছে মন্ত্রী,সচিবও অসহায়: ……………………………………………………………………………… অবৈধ পথে পাঁচ শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খান!

আপডেট সময় ১০:১৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রোস্তম মল্লিক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খান। তার ক্ষমতার কাছে নাকি অসহায় সয়ং মন্ত্রী,সচিবও। মন্ত্রণালয়ের কাউকেই তিনি পরোয়া করেন না। প্রতি বছর দুর্যোগকালীন সময়ে এবং জনকল্যাণে এ মন্ত্রণালয় থেকে যে হাজার হাজার কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয় সেগুলোর বরাদ্দ বিতরণ ও অডিট করেন তিনি। আর সেই ক্ষমতাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে আদায় করেন কোটি কোটি টাকা। কেউ তার অবৈধ দাবী না মিটালেই দেন অডিট আপত্তি। যে কারণে মাঠ পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তা,কর্মচারি এবং জনপ্রতিনিধিরাও তার কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। শুধু তাইই নয়, সারা দেশের জনপ্রতিনিধিদের ডিও লেটারের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় থেকে হাজার হাজার মেট্রিক টন চাউল,গম ও নগদ অর্থ বরাদ্দ করিয়েও তিনি কোটি কোটি টাকা অবৈধ আয় করেন।
আজ প্রায় একযুগ তিনি আছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে। বিধান না থাকায় তাকে এই মন্ত্রণালয় থেকে অন্য কোন মন্ত্রণালয়ে বা জেলায় বদলীও করা যায় না। ফলে তিনি বনে গেছেন এই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির দানব। অডিট আপত্তির ভয় দেখিয়ে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন করে আজ তিনি কমপক্ষে ৫ শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক। রাজধানী ঢাকার মিরপুরে ১৫ কাঠা জমির ওপর নির্মাণ করেছেন ৪ টি বহুতলা বাড়ী। প্রতিটি বাড়ী ১০ তলা উচ্চতা মানের। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আছে দুখানা প্রাইভেট কার। দুই কন্যার এক কন্যা পড়ে লন্ডনে। আরেক কন্যা রাজধানীর অভিজাত বেসরকারী কলেজে। প্রতি মাসে তিনি অবৈধ আয় করেন ২৫/৩০ লাখ টাকা। খরচ করেন ৩/৪ লাখ টাকা।
আমাদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তার ভোগ বিলাশী জীবনের চালচিত্র। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী (মায়া চৌধুরী) যখন এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তখনই কালোপথে টাকার পাহাড় গড়েন ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খান । সে সময় তার সাথে দেখা করতেও সিরিয়াল নিতে হতো। বর্তমান সময়েও তার সেই গতি অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রী,সচিবকে জিম্মি করে তিনি বীর দর্পে চালিয়ে যাচ্ছেন আখেরি মিশন। যে মিশনের নাম: ফেলো কঁড়ি,মাখো তেল।
ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খানের গ্রামের বাড়ী খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায়। নিতান্তই কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন তিনি। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সুবাদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অডিট বিভাগে সরকারী চাকুরী পাওয়ার পর তার ভাগ্য বদলে যায়। যা বেতন পান তা সংসারে ব্যয় করার কোন প্রয়োজনই পড়ে না। সেগুলো ব্যাংক হিসাবেই পড়ে থাকছে বছরের পর বছর। আর অবৈধ পথে যা আয় করেন তা খরচ করতেই কেটে যায় বছর। দুই কন্যার লেখাপড়া আর স্বামী স্ত্রী দ‘ুজনার খাদ্য খাবার ও চিকিতসায় আর কতইবা ব্যয় হয়। সে হিসেবে তিনি একজন চিন্তাহীন সুখী মানুষ। তার মত সুখ আর সমৃদ্ধি কোন মন্ত্রী, সচিবের আছে কি না সেটাও সন্দেহ।
সামান্য বেতনের সরকারী চাকুরী করে তিনি যে পরিমাণ অর্থ- সম্পদের মালিক হয়েছেন তা কোন মন্ত্রী, এমপি বা সচিব পর্যায়ের এ গ্রেডের কর্মকর্তারাও অর্জন করতে পারেন নি। একেই বলে সোনার কপাল। একেই বলে সৌভাগ্য। তিনি যে দ‘ুটি আই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তার মূল্য কমপক্ষে ৩ লক্ষ টাকা। যে দুটি গাড়ী ব্যবহার করেন তার মুল্য কমপক্ষে কোটি টাকা। যে ফ্ল্যাটে থাকেন সেটির দাম (আসবাবপত্রসহ) কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা। ব্রান্ডের দামি শার্ট, প্যান্ট ছাড়া তিনি কোন অর্ডিনারি পোষাক পরিধান করেন না। তার লাইফ স্টাইল বিশে^র শ্রেষ্ঠ ধনকুবেরদের মতই। অসুখ -বিসুখ হলে বিশ^মানের বেসরকারী অভিজাত হাসপাতাল ছাড়া কোন সরকারী হাসপাতালে তিনি যান না।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২০১৭ সালে ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করেন জনৈক ব্যক্তি। ওই অভিযোগে তিনি দাবী করেন যে, মো: নাসির খান অবৈধ পথে ৫ শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের দাবী জানান অভিযোগকারী। তার আবেদনটি দুদকের যাচাই বাছাই কমিটি গ্রহন করে অনুসন্ধান শুরু করে। একজন পরিচালক ও একজন সহকারী পরিচালক অভিযোগটি তদন্ত করতে শুরু করলে তিনি প্রায় কোটি টাকা খরচ করে তদবীরের মাধ্যমে দুদককে থামিয়ে দেন। সেই রহস্য আজো অনুদ্ঘাটন হয়ে আছে। দুদক কেন তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন থেকে বিরত থাকলো সেটাই সকলের কাছে বিরাট প্রশ্ন হয়ে আছে।
কি পরিমাণ অর্থের মালিক হলে ঢাকার মিরপুরে ১৫ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা বিশিষ্ট ৪টি বাড়ী নির্মাণ করা যায় একবার ভেবে দেখুনতো? তিনি কি এই সম্পদের আয়ের সঠিক উতস্য জানাতে পারবেন?
সুত্রগুলো জানায়, ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খান তার কর্মস্থলে একটি কর্মচারি বাহিনী বা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তাদের লালন পালন করছেন। যেমন করেন গ্রামের জোতদাররা। এই কর্মচারিদের তিনি লাঠিয়াল বাহিনীর মত ব্যবহার করেন। বিনিময়ে তাদেরকে সময় সময় আর্থিক সাহায্য দেন। কোন মন্ত্রী,সচিব বা কর্মকর্তা তার ঘুস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগেী হলেই তিনি এই সব চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারিদের লেলিয়ে দেন। তারা কর্মকর্তাদের নানা ভাবে হুমকি ধামকি ও মান অপমান করেন। ফলে আত্মসম্মান রক্ষায় কর্মকর্তারা মো: নাসির খানের বশ্যতা স্বীকার করেই মন্ত্রণালয়ে চাকুরী করতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: কামরুল হাসান এনডিসি‘র সাথে কথা বললে তিনি জানান, নাসির খানের কোন অবৈধ সম্পদ থাকলে সেটা দেখার দায়িত্ব দুদকের। আর ঘুস -দুর্নীতি করলে সেটা দেখার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের । আমাদের কাছে যদি তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ আসে তবে আমরা বিভাগীয় তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য ফাইন্যান্স অফিসার সিভিল রিলিফ মো: নাসির খানের ব্যবহ্রত দুটি মোবাইলে এক নাগাড়ে ৫ কর্মদিবস বারবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। এমন কি মুঠো ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি উত্তর দেন নি।