০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনিয়ম-দুর্নীতির রেকর্ড: কর্মচারি প্রধান জাকির হোসেনের গ্রাসে বিসিআইসি!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি সংস্থা। ১০ থেকে ১২ টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে ধুকে ধুকে চলছে এই সরকারী সংস্থাটি। আর্থিক বিবরণী থেকে জানা যায়, বছরের পর বছর লোকসানী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর হয়েছে বিসিআইসি। বিসিআইসি’র মূল কাজ সার উৎপাদনসহ সমগ্র বাংলাদেশে সার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ। উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান নানা কারণে আমদানিমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে একজন চেয়ারম্যান ও পাঁচ জন পরিচালক নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত। সার বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিসিআইসি সুনামের সাথে প্রায় দুই যুগ ধরে পালন করে আসছে।
বিসিআইসি’র অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের প্রধান পদ কর্মচারী প্রধান। নিয়োগ,তদন্ত,পদোন্নতি ইত্যাদিসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় কর্মচারী বিভাগ থেকে পরিচালিত হয়। বিসিআইসি’র সকল স্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই পদটির কাছেই সব প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পদটি খুবই স্পর্শকাতর। বিসিআইসি’র সার্বিক সফলতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল এই পদে আসীন ব্যক্তির উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। সুতরাং এই পদে মানুষ প্রত্যাশা করে নম্র, ভদ্র, সৎ, কর্মঠ, নিষ্ঠাবান,আইনে বিশেষ জ্ঞান রাখে এমন কর্মকর্তাকে। কর্মী ব্যবস্থাপনার এই পদটির সফলতার উপর নির্ভর করে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের সফলতা। এই পদে আসীন ব্যক্তির ন্যায় বিচার, চৌকষ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আস্থার জায়গা তৈরি করে। অপরদিকে অন্তসারশূণ্য ব্যক্তিত্ব যেমন এই পদটিকে কলঙ্কিত করে তেমনি বিসিআইসি’র সামগ্রিক পরিস্থিকে অন্তসারশূণ্য করে তোলে। কর্মচারী প্রধানের পদটি যেখানে রক্ষকের ভূমিকায় না থেকে ভক্ষকের ভূমিকায় থাকে তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হতাশা ব্যক্ত করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। তেমনি আজকের প্রতিবেদনে অসীম ক্ষমতাধর কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কর্মকান্ড তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

চাকুরী স্থায়ীকরণের চিঠি আজও পৌঁছায়নি:
বিসিআইসি’র চাকুরী স্থায়ীকরণের পত্রের বিষয়ে বিসিআইসি ও বিসিআইসি নিয়ন্ত্রণাধীন কারখানাসমূহের অন্তত দুইশত জন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, শুনেছি আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ হয়েছে কিন্তু কি কারণে স্থায়ীকরণ পত্র আমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে না সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশকিছু অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অবসরের সময় অনেকের ব্যক্তিগত ফাইল থেকে স্থায়ীকরণের চিঠি গায়েব হয়ে যায়। ইচ্ছাকৃত আমাদের হয়রানি করা হয়। অর্থের লেনদেনে আবার সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। যেহেতু স্থায়ীকরণের চিঠি কর্মকর্তাদের বা বিসিআইসি ওয়েবসাইটে দেওয়া হয় না সুতরাং এ বিষয়ে সন্দেহাতীভাবে প্রমাণিত হয় যে প্রশাসন বিভাগের নিশ্চয়ই কোন একটা কারসাজি রয়েছে। রয়েছে সিন্ডিকেট। মোহাম্মদ জাকির হোসেন ডিজিএম (প্রশাসন) থেকেই বিসিআইসি’র কর্মচারী বিভাগে রয়েছে। প্রায় ৮ বছরের অধিক সময়ের কর্মকালীন এই কর্মকর্তার নির্দেশেই স্থায়ীকরণের চিঠি কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছায়নি বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। এছাড়া নিয়োগ শাখায় থাকার সময় তার বিরুদ্ধে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ হলে তাকে সরিয়ে জিএম প্রশাসনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বিসিআইসিতে ৩ বছর পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভাগ পরিবর্তনের নিয়ম থাকলেও মোহাম্মদ জাকির হোসেন তা আজও বাস্তবায়ন করেনি। এ নিয়ম বাস্তবায়িত হলে মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সিন্ডিকেট ভেঙে যেতে পারে সে ভয়ে কর্মচারী বিভাগের কর্মকর্তা বদলী হয়না। কর্মচারী বিভাগে চাকুরীরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকুরীর রেকর্ড পর্যালোচনা করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

নিজের পদোন্নতি কমিটির সদস্য নিজেই:
২০২২ সালের ৮ আগস্ট বিসিআইসি ১৯৩৫(২০২২/৩১) তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিসিআইসিতে কর্মরত সকল স্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চাকরির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত বিধি-বিধানের আলোকে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার পদোন্নতির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেওয়া হয় কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে। বিসিআইসি বোর্ডের এমন নির্দেশনা থাকলেও মোহাম্মদ জাকির হোসেন বিসিআইসি বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্ত বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন করে কোনরকম গোজামিলে অর্ধ জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে গ্রেড-২ পদে নিজের পদোন্নতি আগে নিশ্চিত করেন। কর্মচারী প্রধান পদবীতে বিসিআইসি’র ইতিহাসে কোন কর্মকর্তার পদোন্নতি না হলেও মোহাম্মদ জাকির হোসেন কর্মচারী প্রধান পদবীতে পদোন্নতি নিয়েছেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপারটি হলো মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পদোন্নতি কমিটির সদস্য-সচিব তিনি নিজেই। বিসিআইসি’র জ্যেষ্ঠতা নিয়ে মামলা করা বাদী পক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান আমরা এসব বিষয় আদালতের নজরে নিয়ে আসব। পূর্ণাঙ্গ জ্যেষ্ঠতা তালিকা না করে পদোন্নতি প্রদানের বিষয়টি বৈধ নয়। আদালত এ পদোন্নতি বাতিল করতে পারেন। আমরা বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা ভীষণ বঞ্চিত। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেন এর বিরুদ্ধে ফোজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পদ ও বদলী:
অভিযোগ রয়েছে মোহাম্মদ জাকির হোসেন নিজের পদকে নিরাপদ রাখতে সিনিয়র সহকর্মীদের তদন্তের জালে জড়িয়ে পদোন্নতি বঞ্চিত করেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত বিধি-বিধানের ভিত্তিতে বিসিআইসি’র জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিষয়ে মামলা হয়েছে। মামলার ফলে সকল প্রকার পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছে। এ মামলার পেছনে মোহাম্মদ জাকির হোসেনের ইন্ধন রয়েছে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়। কর্মচারী প্রধান পদে কোন বদলী হয়না, পদটি অবিনশ্বর বলে মোহাম্মদ জাকির হোসেন বিভিন্ন জায়গায় মন্তব্য করেন। অবসরের আগ পর্যন্ত কর্মচারী প্রধান পদ থেকে তাকে কেউ সরাতে পারবেন না বলে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার প্রকল্পের পিডির আশীর্বাদপুষ্ট মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কঠোর আত্মবিশ্বাস রয়েছে

প্রবিধান অবজ্ঞা,আবেদন নিষ্পত্তিতে স্বেচ্ছাচারিতা:
বিসিআইসি কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালা ১৯৮৮ এর ৩৫(২) এ উল্লেখ রয়েছে যে,প্রত্যেক কর্মকর্তা বছরে তার ব্যক্তিগত নথি একবার দেখতে পারবে। কিন্তু এ বিষয়ে কোন কর্মকর্তা আবেদন করলে মোহাম্মদ জাকির হোসেন তাকে নথি দেখতে না দিয়ে বদলীর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করে। এ ধরণের আবেদনের কোন অস্তিত্ব জাকির হোসেন রাখে না। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে করা বিভিন্ন আবেদন ১৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও মোহাম্মদ জাকির হোসেন ক্ষমতা বলে আবেদন গ্রহণ করেন না। আবার কোন আবেদন গ্রহণ করলেও মাসের পর মাস ফেলে রাখেন। মোহাম্মদ জাকির হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতার ফলেই বিসিআইসিতে নেই কোন সুশাসন। পত্র গ্রহণ রেজিস্টার পরীক্ষা করে সঠিক তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে বলে জানা যায়।

তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনে দেরি:
বিভিন্ন তদন্তে যখন মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সিন্ডিকেটের বা পছন্দের লোক জড়িয়ে যায় তখন সেই প্রতিবেদন আর উপস্থাপন হয়না। কালের বিবর্তনে কর্তৃপক্ষও বিষয়টি ভুলে যান। এভাবে মোহাম্মদ জাকির হোসেন তার পছন্দের লোকদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।

তথ্য গোপন করে পদোন্নতি প্রদান:
বিসিআইসি’র বর্তমান চীফ অডিটর ও চীফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) মোঃ গোলাম ফারুক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলার আসামি। তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন।দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যখন দুর্নীতি মামলা দায়ের করে তখন মোঃ গোলাম ফারুক এর পদবী ছিল উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম)। বর্তমান (সিওপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন মোঃ গোলাম ফারুক এর ঘনিষ্ট হওয়ায় পদোন্নতি কমিটির কাছে ও বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের কাছে মামলার তথ্য গোপন করে। ফলে মোঃ গোলাম ফারুক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (গ্রেড-২) পদে পদোন্নতি বিবেচনার সময় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে মোঃ গোলাম ফারুক এর পদোন্নতি বিবেচনা করা হয়নি। যেখানে মোঃ গোলাম ফারুকের সাময়িক বরখাস্ত থাকার কথা সেখানে মোহাম্মদ জাকির হোসেন তথ্য গোপন করে তাকে পদোন্নতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয় মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সুপারিশে একজন দুর্নীতি মামলার জামিন প্রাপ্ত আসামী বিসিআইসি’র বর্তমান চীফ অডিটর ও চীফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও)। বিসিআইসি’র বর্তমান চীফ অডিটর ও চীফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) মোঃ গোলাম ফারুক এ জন্যই (সিওপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কাছে দায়বদ্ধ। বিসিআইসি’র কর্মচারী প্রধানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্যারামিটার কোন পর্যায়ের সেটা উপলব্ধির বিষয়।

জাকির হোসেনের ইচ্ছায় তদন্ত প্রতিবেদন:
প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার, পিইঞ্জ. এমটিএস বিভাগ, বিসিআইসি সম্প্রতি তাঁর ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি প্রাপ্য হয়েছে। প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার পদোন্নতি পেলে পরিচালক (কারিগরি ও প্রকৌশল) হিসেবে একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি হবে।প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার যেন কোন ক্রমেই ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত না হন সে জন্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন কৌশলে তার আস্থাভাজন মোঃ গোলাম ফারুক সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কোন সম্পৃক্ততা না থাকলেও মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নির্দেশে প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদারকে প্রাথমিক ভাবে দায়ী করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা যায়। কোন ক্রমেই প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার পদোন্নতি পেয়ে পরিচালক না হতে পারেন। মোঃ গোলাম ফারুক তার নিজ পদোন্নতি, প্রাপ্ত পুরস্কার ও বরখাস্ত না হওয়ার জন্য কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কাছে দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতার সুযোগ নিয়ে মোহাম্মদ জাকির হোসেন মোঃ গোলাম ফারুককে ব্যবহার করে আসছে। যেখানেই কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বার্থ সেখানেই চীফ অডিটর ও চীফ ফাইন্যান্স অফিসার মোঃ গোলাম ফারুক তদন্ত কমিটি’র সদস্য। যে কর্মকর্তা নিজেই দুদকের ফৌজদারি মামলার আসামী তাকে দিয়ে সত্য ও নিরেপেক্ষ তদন্ত হতে পারে না।

টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তারা হতাশ:
কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেন মূলত টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ভাবে কোন ঠাসা করে রাখেন। পদে পদে টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়। প্রকৌশল নির্ভর বিসিআইসিকে প্রকৌশলীদের কোন মূল্যায়ন নেই।টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তারা ঠিকমত পদোন্নতি পান না। যেখানে সব গ্রেডের কর্মকর্তাদের এক সাথে পদোন্নতি বিবেচনা করার নিয়ম থাকলেও খেয়াল খুশি মত পদোন্নতি প্রদান করা হয়।

বদলী বাণিজ্য:
গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তিনটি দপ্তরাদেশ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার প্রকল্পে ৬৭ জন পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন কারখানা থেকে পদায়ন করা হয়। এই বদলীতে মোহাম্মদ জাকির হোসেন তার পছন্দমত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উৎকোচের মাধ্যমে বদলী করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদেশে প্রশিক্ষণ ও বিশেষ সুবিধার আশায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলী হয়েছেন বলে জানা যায়। বদলীকৃতদের মধ্যে কোন নারী না থাকায় নারী ক্ষমতায়নেও বাধা তৈরি করেছেন তিনি। নারীরা এই কারখানায় কাজ করতে কি সক্ষম নয়? সার কারখানা এমন কোন বিজ্ঞান নয় যে, যেখানে নারীরা কাজ করতে পারবে না। অথচ দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, শিল্প সচিব একজন নারী। বিষয়টি তদন্তে দেখা যায় কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নারী বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে কোন নারীকে এই কারখানায় পদায়ন করা হয়নি যা এসডিজি বাস্তবায়নে বাধাস্বরূপ। এভাবে শুদ্ধাচার ও সুশাসন কায়েম হতে পারে না।

আপীল বিভাগে মামলা বিচারাধীন:
বিজ্ঞ মূখ্য মহানগর হাকিম আদালত-১৬, ঢাকা এর ফৌজদারি মামলা নং ৪১৪/২০১৮ এর বিবাদীগণের মধ্যে মোহাম্মদ জাকির হোসেন একজন আসামী। ফৌজদারি মামলার চার্জ গঠন হলে আসামী পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ক্রিমিনাল মিস ৪০২৫৮/২০১৮ দায়ের করলে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এর হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক তা নিষ্পত্তি হয়ে ২০২১ সালের ০২ মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এর হাইকোর্ট বিভাগ উল্লেখ করে যে, “ইবভড়ৎব ঢ়ধৎঃরহম রিঃয ঃযব পধংব, বি রিংয ঃড় ড়নংবৎাব ঃযধঃ রভ ঃযবৎব রং ধহু ধষষবমধঃরড়হ ড়ভ ঃধশরহম নৎরনব নু ধহু ড়ভ ঃযব ঢ়বঃরঃরড়হবৎং, রঃ সধু নব ফবধষঃ রিঃয বরঃযবৎ নু ঃযব পড়হপবৎহবফ অঁঃযড়ৎরঃু, হধসবষু ইঈওঈ ড়ৎ নু ঃযব অহঃর-ঈড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ ঈড়সসরংংরড়হ, রহ ধপপড়ৎফধহপব রিঃয ষধ”ি। রায়ের বিরুদ্ধে বাদী একই বছরের ০৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট এর আপিল বিভাগে ৪১৭/২০২১ নং আপিল দাখিল করে এখনো চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে বাদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান মামলাটি আবার নিম্ন আদালতে ফেরত এসে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ধারণার উপর শোকজ, তদন্ত:
কোনরূপ প্রমাণ ছাড়াই মোহাম্মদ জাকির হোসেন অপছন্দনীয় কর্মকর্তাদের শায়েস্তা করতে ও ক্ষমতার প্রতাপ প্রদর্শন করতে খেয়াল খুশিমত শোকজ ও তদন্ত কমিটি করে ভীতি তৈরি করে। ইসলাম ধর্মে রয়েছে, অনুমান আর মিথ্যা একই। তাই অনুমান বা সন্দেহ পোষণ ইসলামে হারাম।মোহাম্মদ জাকির হোসেনের ভিত্তিহীন অপবাদ কৌশলে অনেক চৌকষ কর্মকর্তাই বিসিআইসিতে কোনঠাসা। মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কর্মকান্ড সম্পর্কে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ যদি অভয় দিয়ে গণশুনানীর আয়োজন করতে পারে তাহলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়ে এই প্রতিবেদন সার্থক হবে বলে প্রতিবেদন বিশ্বাস করে। বিসিআইসি রক্ষা পাবে এক দানবীয় ক্ষমতার অপব্যবহারকারীর হাত থেকে।

নিয়োগের ইতিহাস:
বিসিআইসিতে পরিবারতন্ত্রের কাছে বার বার হেরেছে মেধাবীরা। মোহাম্মদ জাকির হোসেন এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। মোহাম্মদ জাকির হোসেন সরাসরি উপ-ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত। অভিযোগ রয়েছে তার অভিজ্ঞতার সনদও জাল। শুধুমাত্র তৎকালীন কর্মচারী প্রধানের চাচাতো ভাই হওয়ার কারণে পরিবারতন্ত্র যন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তার চাকুরী হয়েছে। যে কর্মচারীর নিজের নিয়োগই প্রশ্নবিদ্ধ সেই কর্মচারী আজ কর্মচারী প্রধান।

পেনশন প্রদানে গড়িমসি:
বিসিআইসি থেকে অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন প্রদানে গড়িমসি করার অভিযোগ আছে কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। কোন সমস্যা না থাকলেও শুধুমাত্র মনগড়া তৈরিকৃত পেনশন ফরম পূরণ করেনি অজুহাতে প্রায় ০৮ জন কর্মকর্তার পেনশন ঝুঁলিয়ে রেখেছে মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
বর্তমান কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেন এর চেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম। মোহাম্মদ সেলিম এর অসুস্থতা অজুহাত দেখিয়ে ঢাকা লেদার কোম্পানি (ডিএলসি) নামে একটি বন্ধ কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পদায়ন করে রেখেছে। বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুর রহমান বিষয়গুলো অবহিত আছে। অজানা কারণে চেয়ারম্যান কোন ব্যবস্থা নেন না। অথচ বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান নিজেকে সৎ ও আল্লাওয়ালা লোক হিসেবে প্রমাণে ব্যস্ত। সামগ্রিক ঘটনা জেনেও বাকরুদ্ধের ভূমিকা পালন চেয়ারম্যানের স্বার্থের সংশ্লিষ্টতাকে ইঙ্গিত করার বিষয়টি নেহায়েত অমূলক নয়।
মোহাম্মদ জাকির হোসেন ক্ষমতার এক অধিপতির নাম, চেয়ারম্যানসহ তার ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের আশীর্বাদপুষ্ট মোহাম্মদ জাকির হোসেনের এসব অন্যায় অবিচার অনিয়ম দেখার কি কেউ নেই? কর্তৃপক্ষের ভূমিকা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০২৩
৩০৪ বার পড়া হয়েছে

অনিয়ম-দুর্নীতির রেকর্ড: কর্মচারি প্রধান জাকির হোসেনের গ্রাসে বিসিআইসি!

আপডেট সময় ১০:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০২৩

রোস্তম মল্লিক

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি সংস্থা। ১০ থেকে ১২ টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে ধুকে ধুকে চলছে এই সরকারী সংস্থাটি। আর্থিক বিবরণী থেকে জানা যায়, বছরের পর বছর লোকসানী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর হয়েছে বিসিআইসি। বিসিআইসি’র মূল কাজ সার উৎপাদনসহ সমগ্র বাংলাদেশে সার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ। উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান নানা কারণে আমদানিমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে একজন চেয়ারম্যান ও পাঁচ জন পরিচালক নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত। সার বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিসিআইসি সুনামের সাথে প্রায় দুই যুগ ধরে পালন করে আসছে।
বিসিআইসি’র অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের প্রধান পদ কর্মচারী প্রধান। নিয়োগ,তদন্ত,পদোন্নতি ইত্যাদিসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় কর্মচারী বিভাগ থেকে পরিচালিত হয়। বিসিআইসি’র সকল স্তরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই পদটির কাছেই সব প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পদটি খুবই স্পর্শকাতর। বিসিআইসি’র সার্বিক সফলতা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল এই পদে আসীন ব্যক্তির উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। সুতরাং এই পদে মানুষ প্রত্যাশা করে নম্র, ভদ্র, সৎ, কর্মঠ, নিষ্ঠাবান,আইনে বিশেষ জ্ঞান রাখে এমন কর্মকর্তাকে। কর্মী ব্যবস্থাপনার এই পদটির সফলতার উপর নির্ভর করে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের সফলতা। এই পদে আসীন ব্যক্তির ন্যায় বিচার, চৌকষ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আস্থার জায়গা তৈরি করে। অপরদিকে অন্তসারশূণ্য ব্যক্তিত্ব যেমন এই পদটিকে কলঙ্কিত করে তেমনি বিসিআইসি’র সামগ্রিক পরিস্থিকে অন্তসারশূণ্য করে তোলে। কর্মচারী প্রধানের পদটি যেখানে রক্ষকের ভূমিকায় না থেকে ভক্ষকের ভূমিকায় থাকে তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হতাশা ব্যক্ত করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। তেমনি আজকের প্রতিবেদনে অসীম ক্ষমতাধর কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কর্মকান্ড তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

চাকুরী স্থায়ীকরণের চিঠি আজও পৌঁছায়নি:
বিসিআইসি’র চাকুরী স্থায়ীকরণের পত্রের বিষয়ে বিসিআইসি ও বিসিআইসি নিয়ন্ত্রণাধীন কারখানাসমূহের অন্তত দুইশত জন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, শুনেছি আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ হয়েছে কিন্তু কি কারণে স্থায়ীকরণ পত্র আমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে না সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশকিছু অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অবসরের সময় অনেকের ব্যক্তিগত ফাইল থেকে স্থায়ীকরণের চিঠি গায়েব হয়ে যায়। ইচ্ছাকৃত আমাদের হয়রানি করা হয়। অর্থের লেনদেনে আবার সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। যেহেতু স্থায়ীকরণের চিঠি কর্মকর্তাদের বা বিসিআইসি ওয়েবসাইটে দেওয়া হয় না সুতরাং এ বিষয়ে সন্দেহাতীভাবে প্রমাণিত হয় যে প্রশাসন বিভাগের নিশ্চয়ই কোন একটা কারসাজি রয়েছে। রয়েছে সিন্ডিকেট। মোহাম্মদ জাকির হোসেন ডিজিএম (প্রশাসন) থেকেই বিসিআইসি’র কর্মচারী বিভাগে রয়েছে। প্রায় ৮ বছরের অধিক সময়ের কর্মকালীন এই কর্মকর্তার নির্দেশেই স্থায়ীকরণের চিঠি কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছায়নি বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। এছাড়া নিয়োগ শাখায় থাকার সময় তার বিরুদ্ধে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ হলে তাকে সরিয়ে জিএম প্রশাসনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বিসিআইসিতে ৩ বছর পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভাগ পরিবর্তনের নিয়ম থাকলেও মোহাম্মদ জাকির হোসেন তা আজও বাস্তবায়ন করেনি। এ নিয়ম বাস্তবায়িত হলে মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সিন্ডিকেট ভেঙে যেতে পারে সে ভয়ে কর্মচারী বিভাগের কর্মকর্তা বদলী হয়না। কর্মচারী বিভাগে চাকুরীরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকুরীর রেকর্ড পর্যালোচনা করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

নিজের পদোন্নতি কমিটির সদস্য নিজেই:
২০২২ সালের ৮ আগস্ট বিসিআইসি ১৯৩৫(২০২২/৩১) তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিসিআইসিতে কর্মরত সকল স্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চাকরির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত বিধি-বিধানের আলোকে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার পদোন্নতির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেওয়া হয় কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে। বিসিআইসি বোর্ডের এমন নির্দেশনা থাকলেও মোহাম্মদ জাকির হোসেন বিসিআইসি বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্ত বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন করে কোনরকম গোজামিলে অর্ধ জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করে গ্রেড-২ পদে নিজের পদোন্নতি আগে নিশ্চিত করেন। কর্মচারী প্রধান পদবীতে বিসিআইসি’র ইতিহাসে কোন কর্মকর্তার পদোন্নতি না হলেও মোহাম্মদ জাকির হোসেন কর্মচারী প্রধান পদবীতে পদোন্নতি নিয়েছেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপারটি হলো মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পদোন্নতি কমিটির সদস্য-সচিব তিনি নিজেই। বিসিআইসি’র জ্যেষ্ঠতা নিয়ে মামলা করা বাদী পক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান আমরা এসব বিষয় আদালতের নজরে নিয়ে আসব। পূর্ণাঙ্গ জ্যেষ্ঠতা তালিকা না করে পদোন্নতি প্রদানের বিষয়টি বৈধ নয়। আদালত এ পদোন্নতি বাতিল করতে পারেন। আমরা বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা ভীষণ বঞ্চিত। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেন এর বিরুদ্ধে ফোজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পদ ও বদলী:
অভিযোগ রয়েছে মোহাম্মদ জাকির হোসেন নিজের পদকে নিরাপদ রাখতে সিনিয়র সহকর্মীদের তদন্তের জালে জড়িয়ে পদোন্নতি বঞ্চিত করেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত বিধি-বিধানের ভিত্তিতে বিসিআইসি’র জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিষয়ে মামলা হয়েছে। মামলার ফলে সকল প্রকার পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছে। এ মামলার পেছনে মোহাম্মদ জাকির হোসেনের ইন্ধন রয়েছে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়। কর্মচারী প্রধান পদে কোন বদলী হয়না, পদটি অবিনশ্বর বলে মোহাম্মদ জাকির হোসেন বিভিন্ন জায়গায় মন্তব্য করেন। অবসরের আগ পর্যন্ত কর্মচারী প্রধান পদ থেকে তাকে কেউ সরাতে পারবেন না বলে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার প্রকল্পের পিডির আশীর্বাদপুষ্ট মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কঠোর আত্মবিশ্বাস রয়েছে

প্রবিধান অবজ্ঞা,আবেদন নিষ্পত্তিতে স্বেচ্ছাচারিতা:
বিসিআইসি কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালা ১৯৮৮ এর ৩৫(২) এ উল্লেখ রয়েছে যে,প্রত্যেক কর্মকর্তা বছরে তার ব্যক্তিগত নথি একবার দেখতে পারবে। কিন্তু এ বিষয়ে কোন কর্মকর্তা আবেদন করলে মোহাম্মদ জাকির হোসেন তাকে নথি দেখতে না দিয়ে বদলীর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করে। এ ধরণের আবেদনের কোন অস্তিত্ব জাকির হোসেন রাখে না। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে করা বিভিন্ন আবেদন ১৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও মোহাম্মদ জাকির হোসেন ক্ষমতা বলে আবেদন গ্রহণ করেন না। আবার কোন আবেদন গ্রহণ করলেও মাসের পর মাস ফেলে রাখেন। মোহাম্মদ জাকির হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতার ফলেই বিসিআইসিতে নেই কোন সুশাসন। পত্র গ্রহণ রেজিস্টার পরীক্ষা করে সঠিক তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে বলে জানা যায়।

তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনে দেরি:
বিভিন্ন তদন্তে যখন মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সিন্ডিকেটের বা পছন্দের লোক জড়িয়ে যায় তখন সেই প্রতিবেদন আর উপস্থাপন হয়না। কালের বিবর্তনে কর্তৃপক্ষও বিষয়টি ভুলে যান। এভাবে মোহাম্মদ জাকির হোসেন তার পছন্দের লোকদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।

তথ্য গোপন করে পদোন্নতি প্রদান:
বিসিআইসি’র বর্তমান চীফ অডিটর ও চীফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) মোঃ গোলাম ফারুক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলার আসামি। তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন।দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যখন দুর্নীতি মামলা দায়ের করে তখন মোঃ গোলাম ফারুক এর পদবী ছিল উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম)। বর্তমান (সিওপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন মোঃ গোলাম ফারুক এর ঘনিষ্ট হওয়ায় পদোন্নতি কমিটির কাছে ও বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের কাছে মামলার তথ্য গোপন করে। ফলে মোঃ গোলাম ফারুক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। কিন্তু ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (গ্রেড-২) পদে পদোন্নতি বিবেচনার সময় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে মোঃ গোলাম ফারুক এর পদোন্নতি বিবেচনা করা হয়নি। যেখানে মোঃ গোলাম ফারুকের সাময়িক বরখাস্ত থাকার কথা সেখানে মোহাম্মদ জাকির হোসেন তথ্য গোপন করে তাকে পদোন্নতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয় মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সুপারিশে একজন দুর্নীতি মামলার জামিন প্রাপ্ত আসামী বিসিআইসি’র বর্তমান চীফ অডিটর ও চীফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও)। বিসিআইসি’র বর্তমান চীফ অডিটর ও চীফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) মোঃ গোলাম ফারুক এ জন্যই (সিওপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কাছে দায়বদ্ধ। বিসিআইসি’র কর্মচারী প্রধানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্যারামিটার কোন পর্যায়ের সেটা উপলব্ধির বিষয়।

জাকির হোসেনের ইচ্ছায় তদন্ত প্রতিবেদন:
প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার, পিইঞ্জ. এমটিএস বিভাগ, বিসিআইসি সম্প্রতি তাঁর ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি প্রাপ্য হয়েছে। প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার পদোন্নতি পেলে পরিচালক (কারিগরি ও প্রকৌশল) হিসেবে একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি হবে।প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার যেন কোন ক্রমেই ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত না হন সে জন্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন কৌশলে তার আস্থাভাজন মোঃ গোলাম ফারুক সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কোন সম্পৃক্ততা না থাকলেও মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নির্দেশে প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদারকে প্রাথমিক ভাবে দায়ী করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা যায়। কোন ক্রমেই প্রকৌশলী সুদীপ মজুমদার পদোন্নতি পেয়ে পরিচালক না হতে পারেন। মোঃ গোলাম ফারুক তার নিজ পদোন্নতি, প্রাপ্ত পুরস্কার ও বরখাস্ত না হওয়ার জন্য কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কাছে দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতার সুযোগ নিয়ে মোহাম্মদ জাকির হোসেন মোঃ গোলাম ফারুককে ব্যবহার করে আসছে। যেখানেই কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বার্থ সেখানেই চীফ অডিটর ও চীফ ফাইন্যান্স অফিসার মোঃ গোলাম ফারুক তদন্ত কমিটি’র সদস্য। যে কর্মকর্তা নিজেই দুদকের ফৌজদারি মামলার আসামী তাকে দিয়ে সত্য ও নিরেপেক্ষ তদন্ত হতে পারে না।

টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তারা হতাশ:
কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেন মূলত টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ভাবে কোন ঠাসা করে রাখেন। পদে পদে টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়। প্রকৌশল নির্ভর বিসিআইসিকে প্রকৌশলীদের কোন মূল্যায়ন নেই।টেকনিক্যাল ক্যাডারের কর্মকর্তারা ঠিকমত পদোন্নতি পান না। যেখানে সব গ্রেডের কর্মকর্তাদের এক সাথে পদোন্নতি বিবেচনা করার নিয়ম থাকলেও খেয়াল খুশি মত পদোন্নতি প্রদান করা হয়।

বদলী বাণিজ্য:
গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তিনটি দপ্তরাদেশ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার প্রকল্পে ৬৭ জন পুরুষ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন কারখানা থেকে পদায়ন করা হয়। এই বদলীতে মোহাম্মদ জাকির হোসেন তার পছন্দমত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উৎকোচের মাধ্যমে বদলী করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদেশে প্রশিক্ষণ ও বিশেষ সুবিধার আশায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলী হয়েছেন বলে জানা যায়। বদলীকৃতদের মধ্যে কোন নারী না থাকায় নারী ক্ষমতায়নেও বাধা তৈরি করেছেন তিনি। নারীরা এই কারখানায় কাজ করতে কি সক্ষম নয়? সার কারখানা এমন কোন বিজ্ঞান নয় যে, যেখানে নারীরা কাজ করতে পারবে না। অথচ দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, শিল্প সচিব একজন নারী। বিষয়টি তদন্তে দেখা যায় কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নারী বিদ্বেষী মনোভাবের কারণে কোন নারীকে এই কারখানায় পদায়ন করা হয়নি যা এসডিজি বাস্তবায়নে বাধাস্বরূপ। এভাবে শুদ্ধাচার ও সুশাসন কায়েম হতে পারে না।

আপীল বিভাগে মামলা বিচারাধীন:
বিজ্ঞ মূখ্য মহানগর হাকিম আদালত-১৬, ঢাকা এর ফৌজদারি মামলা নং ৪১৪/২০১৮ এর বিবাদীগণের মধ্যে মোহাম্মদ জাকির হোসেন একজন আসামী। ফৌজদারি মামলার চার্জ গঠন হলে আসামী পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ক্রিমিনাল মিস ৪০২৫৮/২০১৮ দায়ের করলে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এর হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক তা নিষ্পত্তি হয়ে ২০২১ সালের ০২ মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এর হাইকোর্ট বিভাগ উল্লেখ করে যে, “ইবভড়ৎব ঢ়ধৎঃরহম রিঃয ঃযব পধংব, বি রিংয ঃড় ড়নংবৎাব ঃযধঃ রভ ঃযবৎব রং ধহু ধষষবমধঃরড়হ ড়ভ ঃধশরহম নৎরনব নু ধহু ড়ভ ঃযব ঢ়বঃরঃরড়হবৎং, রঃ সধু নব ফবধষঃ রিঃয বরঃযবৎ নু ঃযব পড়হপবৎহবফ অঁঃযড়ৎরঃু, হধসবষু ইঈওঈ ড়ৎ নু ঃযব অহঃর-ঈড়ৎৎঁঢ়ঃরড়হ ঈড়সসরংংরড়হ, রহ ধপপড়ৎফধহপব রিঃয ষধ”ি। রায়ের বিরুদ্ধে বাদী একই বছরের ০৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট এর আপিল বিভাগে ৪১৭/২০২১ নং আপিল দাখিল করে এখনো চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে বাদীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান মামলাটি আবার নিম্ন আদালতে ফেরত এসে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ধারণার উপর শোকজ, তদন্ত:
কোনরূপ প্রমাণ ছাড়াই মোহাম্মদ জাকির হোসেন অপছন্দনীয় কর্মকর্তাদের শায়েস্তা করতে ও ক্ষমতার প্রতাপ প্রদর্শন করতে খেয়াল খুশিমত শোকজ ও তদন্ত কমিটি করে ভীতি তৈরি করে। ইসলাম ধর্মে রয়েছে, অনুমান আর মিথ্যা একই। তাই অনুমান বা সন্দেহ পোষণ ইসলামে হারাম।মোহাম্মদ জাকির হোসেনের ভিত্তিহীন অপবাদ কৌশলে অনেক চৌকষ কর্মকর্তাই বিসিআইসিতে কোনঠাসা। মোহাম্মদ জাকির হোসেনের কর্মকান্ড সম্পর্কে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ যদি অভয় দিয়ে গণশুনানীর আয়োজন করতে পারে তাহলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়ে এই প্রতিবেদন সার্থক হবে বলে প্রতিবেদন বিশ্বাস করে। বিসিআইসি রক্ষা পাবে এক দানবীয় ক্ষমতার অপব্যবহারকারীর হাত থেকে।

নিয়োগের ইতিহাস:
বিসিআইসিতে পরিবারতন্ত্রের কাছে বার বার হেরেছে মেধাবীরা। মোহাম্মদ জাকির হোসেন এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। মোহাম্মদ জাকির হোসেন সরাসরি উপ-ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত। অভিযোগ রয়েছে তার অভিজ্ঞতার সনদও জাল। শুধুমাত্র তৎকালীন কর্মচারী প্রধানের চাচাতো ভাই হওয়ার কারণে পরিবারতন্ত্র যন্ত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তার চাকুরী হয়েছে। যে কর্মচারীর নিজের নিয়োগই প্রশ্নবিদ্ধ সেই কর্মচারী আজ কর্মচারী প্রধান।

পেনশন প্রদানে গড়িমসি:
বিসিআইসি থেকে অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন প্রদানে গড়িমসি করার অভিযোগ আছে কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। কোন সমস্যা না থাকলেও শুধুমাত্র মনগড়া তৈরিকৃত পেনশন ফরম পূরণ করেনি অজুহাতে প্রায় ০৮ জন কর্মকর্তার পেনশন ঝুঁলিয়ে রেখেছে মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
বর্তমান কর্মচারী প্রধান মোহাম্মদ জাকির হোসেন এর চেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম। মোহাম্মদ সেলিম এর অসুস্থতা অজুহাত দেখিয়ে ঢাকা লেদার কোম্পানি (ডিএলসি) নামে একটি বন্ধ কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পদায়ন করে রেখেছে। বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুর রহমান বিষয়গুলো অবহিত আছে। অজানা কারণে চেয়ারম্যান কোন ব্যবস্থা নেন না। অথচ বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান নিজেকে সৎ ও আল্লাওয়ালা লোক হিসেবে প্রমাণে ব্যস্ত। সামগ্রিক ঘটনা জেনেও বাকরুদ্ধের ভূমিকা পালন চেয়ারম্যানের স্বার্থের সংশ্লিষ্টতাকে ইঙ্গিত করার বিষয়টি নেহায়েত অমূলক নয়।
মোহাম্মদ জাকির হোসেন ক্ষমতার এক অধিপতির নাম, চেয়ারম্যানসহ তার ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের আশীর্বাদপুষ্ট মোহাম্মদ জাকির হোসেনের এসব অন্যায় অবিচার অনিয়ম দেখার কি কেউ নেই? কর্তৃপক্ষের ভূমিকা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।