হাইকোর্টে রীট মামলা শুনানীর অপেক্ষায়: চট্রগ্রাম নৌবাণিজ্য দপ্তরে প্রিন্সিপাল অফিসার নিয়োগে মরিয়া মহাপরিচালক!
রোস্তম মল্লিক
একজন যোগ্য প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অযোগ্য ঘোষনা করায় উচ্চ আদালতে দায়ের হওয়া রীট মামলার চুড়ান্ত শুনানী বা রায় না হলেও চট্রগ্রাম নৌবাণিজ্য দপ্তরে প্রিন্সিপাল অফিসার নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর আবু জাফর মো: জালাল উদ্দিন। মহাপরিচালকের এই অতিতৎপরতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানাগেছে, মহাপরিচালক তার নিজ এলাকার ক্যাপ্টেন পদবির একজন কর্মকর্তাকে এই পদে নিয়োগ দিতে চান। আর সে কারণেই তিনি অবিরাম পিএসসি’র চেয়ারম্যান,এটর্নী জেনারেল অফিস ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে দৌঁড়ঝাপ শুরু করছেন।
সুত্রমতে চট্রগ্রাম নৌবাণিজ্য দপ্তরের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম গত ১৯/০২/২০১৯ ইং তারিখে অবসরে গেলে এই পদটি খালি হয়। তারপর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার দিয়েই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বর্তমানে এই পদে আছেন নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মাষ্টার মেরিনার (এমবিবিএ) ক্যাপ্টেন মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি গত ১০/১০/২০১৯ তারিখে এই পদে যোগদান করেন।
এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে, চট্রগ্রাম নৌবাণিজ্য দপ্তরে প্রিন্সিপাল অফিসার নিয়োগ দানের জন্য গত ০৩/১০/২০১৯ ইং তারিখে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। যার স্মারক নং ৫২৬/২০১৯। কিন্ত এরপর বিশ্বময় করোনা মহামারি শুরু হওয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহন করতে পারেনি পিএসসি। সর্বশেষ গত গত ২৬/০১/২০১৯ ইং তারিখে সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যার স্মারক নং ৮০.১০৬.০১১.১৪.১৮.০৩৩.২০১৯/১৮। গত ১০/০২/২০২১ তারিখে পিএসসি সচিবালয়ে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন করার সার্কুলার জারি করা হয়। মোট ৪ জন প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট থেকে আবেদন করেন। তারা হলেন যথাক্রমে-ইঞ্জিনিয়ার মো: মাহমুদুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মো: সাহিদউল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার মো: ফরহাদুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার মো: আতিকুর রহমান, মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য পিএসসিতে আবেদন করেন। এছাড়া নটিক্যাল ডিপার্টমেন্ট থেকে ৫ জন যোগ্য বিবেচিত হন। কিন্ত চাহিদামত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ইঞ্জিনিয়ার মো: মাহমুদুর রহমানকে মৌখিক পরীক্ষায় অযোগ্য ঘোষণা করে পিএসসি। পিএসসির এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে চট্রগ্রাম নৌবাণিজ্য দপ্তরের যোগ্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো: মাহমুদুর রহমান (যার পদ অভিজ্ঞতা ২ বছর ৫ মাস) মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন। যার নং ২১৩৫ /২০২১। রীট পিটিশনে তিনি দাবী করেন যে, চাহিদামত সব যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাকে মৌখিক পরীক্ষায় অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। মহামান্য আদালত রীট পিটিশনটি গ্রহন করে প্রতিপক্ষদের প্রতি রুল জারি করেন। এই রীট আবেদনে পিএসসি চেয়ারম্যান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসাবে প্রতিপক্ষ করা হয়। এ দিকে এই রীটের কারণে গত ১০/০২/২০২১ইং তারিখের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে পিএসসি। যার স্মারক নং ৮০.১০৬.০১১.১১.১৮.০৩৩.২০২১/৩১ তারিখ:৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ইং।
অন্যদিকে যে কোন উপায়ে এই পদে নিয়োগ দানের জন্য নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর আবু জাফর মো: জালাল উদ্দিন নাছোড়বান্দা হয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসির চেয়ারম্যান বরাবরে একটি তাগিদপত্র ইসু করিয়েছেন। ওই পত্রে বলা হয়েছে যে, উপর্যুক্ত বিষয় ও সুত্রের প্রেক্ষিতে জানান যাচ্ছে যে,আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটির অনুবিভাগের মতামতের প্রেক্ষিতে নৌ-পরবহন মন্ত্রণালয়ের অধিন নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের আওতাধীন নৌবাণিজ্য দপ্তর চট্রগ্রাম এর প্রিন্সিপাল অফিসার পদে স্থগিতকৃত মৌখিক পরীক্ষা জরুরী ভিত্তিতে গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এইন পত্রের স্মারক নং ১৮.০১৯.০০.০০.০০৭.২০২১/১২১ তারিখ: ২৯/০৯/২০২১ইং।
সুত্রগুলো আরো জানায়, চট্রগ্রাম নৌবাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার পদটি অত্যন্ত লোভনীয় একটি পদ। এ পদে নিয়োগ পেতে কোটি টাকা পর্যন্ত লেন দেন হয়ে থাকে। যে কারণে যে কোন উপায়ে এই পদে নিয়োগ পেতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন প্রার্থী। তবে মহামান্য হাই কোর্টের রীট মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই পদে নিয়োগ দানের কোন সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন রীট আবেদনকারীর আইনজীবি মিজানুর রহমান মিজান।
















