মাগুরায় পৌর নির্বাচন : ত্যাগী রানাকে ঠেকাতে ভোগিরা একাট্রা
মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসকদল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মধ্যে দ’ুটি ধারার সৃষ্টি হয়েছে। একটি ধারায় রয়েছেন দলের ত্যাগী ও আদর্শীক নেতা -কর্মীরা অন্য ধারায় রয়েছেন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ক্ষমতা ভোগিরা। এ দ’ুটি ধারার মধ্যে ইতিমধ্যেই দ্বন্দ্ব- সংঘাত দেখা দিয়েছে। মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ত্যাগী ধারার জনপ্রিয় নেতা মো: রানা আমীর ওসমান রানার গাড়ীর ওপর হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে ভোগি ধারার একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় শহরে উত্তেজনা দেখা দিলেও রানার হস্তক্ষেপে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি । তবে ত্যাগী ধারার নেতা -কর্মীরা ভোগি ধারার নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন। অন্যদিকে পৌর এলাকার ভোটারদের মধ্যে রানার জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
আসন্ন মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনে নিজেকে মেয়র প্রার্থী ঘোষনা দিয়ে প্রায় ৩ আস আগ থেকেই গণ সংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন ত্যাগী ধারার আওয়ামী লীগ নেতা মো: রানা আমীর ওসমান রানা। তার সাথে রয়েছে ৯০ দশকের রাজপথ কাঁপানো ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী নেতা -কর্মীরা। এছাড়া মাগুরার সিভিল সোসাইটি, সুশীল সমাজ ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ তাকে সমর্থন দিয়েছেন। রানার রাজনৈতিক অফিসে প্রতিদিন পৌরবাসীর ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন এই ত্যাগী নেতা। তিনি নির্বাচনের আগেই জনতার মেয়র হয়েগেছেন বলেও অনেকে আবেঘন মন্তব্য করেছেন।
এ দিকে ত্যাগী নেতা রানার এই জনপ্রিয়তা ও শতভাগ নাগরিক সমর্থন দেখে ভোগি ধারার মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের চোখের ঘুম হারাম হয়েগেছে। তারা এখন রানা ঠেকাও জোট গঠন করে মাঠে নেমে পড়েছেন। কিভাবে রানার জনপ্রিয়তা হ্রাস করা যায়, কিভাবে রানাকে জেলা কমিটি কর্তৃক কোনঠাসা করে তার নামটি কেন্দ্রে না পাঠানো যায়, সে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েগেছে।
উল্লেখ্য যে, গত জেলা পরিষদ নির্বাচনেও ভোগি ধারার ষড়যন্ত্রে রানাকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হতে দেওয়া হয়নি। অথচ মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সুস্থ্যধারার রাজনৈতিক চর্চা করে রানা সকল জেলা নেতার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তার জনপ্রিয়তাও সীমাহীন।
মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, রানাকে ঠেকাতে বিরোধী শিবিরের নেতারা সব একাট্রা হয়ে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তারা চাইছেন মেয়র প্রার্থী হিসাবে রানার নাম কেন্দ্রে না পাঠাতে। আর সেজন্য তারা সর্বাত্তোক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ত্যাগী ধারার নেতা -কর্মীরা এখবর জানতে পেরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রিয় নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ডের কাছে তারা খোলা চিঠি পাঠিয়ে রানার জনমত যাচাইয়ের আবেদন জানিয়েছেন। রানাকে ছাড়া অন্য কোন প্রার্থী দিলে তার ভরাডুবি হবে বলেও মন্তব্য করেছেন। ভোগি কোন প্রার্থীকে তারা কোন ভাবেই মেনে নেবেন না বলে সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
সূত্র মতে,মাগুরা পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীতা ঘোষনা করে মোট ৭ জন নেতা আগাম প্রচারণা ও গনসংযোগ চালাচ্ছেন। তারা হলেন, জেলা কমিটির ত্রান ও সমাজ সেবা সম্পাদক ও মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা আমীর ওসমান রানা, জেলা নেতা মুন্সী রেজাউল ইসলাম, ্এ্যাডভোকেট শাখারুল ইসলাম শাকিল, সোহেল পারভেজ দীপ, মো: কামাল হোসেন, সাবেক মেয়র তপন কুমার রায় ও বর্তমান মেয়র খুরশিদ হায়দার টুটুল।
এ দিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড ঘোষনা দিয়েছে যে, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় এমপিরা কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।জেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এবং কেšিদ্রয় সেলের জনমত যাচাই রিপোর্ট এবং প্রার্থীর অতীত রাজনৈতিক কর্মকান্ড মূল্যায়ণ করে তবেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।
















