ভূয়া বিল ভাউচারে সরকারী টাকা আত্মসাৎ: মাগুরা স্বাস্থ্য বিভাগের আরেক ‘আফজাল মো: অলিয়ার রহমান!
মাগুরা প্রতিনিধি
সরকারী স্বাস্থ্য সেবা খাতের বরাদ্দকৃত অর্থ ভুয়া বিল ভাউচারে আত্মসাৎ করে মাগুরা স্বাস্থ্য বিভাগের একজন তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারি কোটি -কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক হয়েছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়াগেছে। মহাভাগ্যবান এই কর্মচারির নাম মো: অলিয়ার রহমান। তিনি মাগুরা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী পদে কর্মরত আছেন। ২০১০ সালে তিনি এই পদে যোগদান করে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই ১০ বছর একই পদে রয়েছেন। অন্যান্য কর্মচারিদের বদলী হলেও তার কোন বদলী হয়না। মাগুরা সিভিল সার্জন অফিসতে ম্যানেজ করে তিনি বছরের পর বছর একই অফিসে রয়েগেছেন। সুদীর্ঘ এই সময়ে তিনি মাগুরা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বরাদ্দকৃত নানা খাতের টাকা আত্মস্ৎ করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ফলে তাকে সবাই মাগুরার আফজাল বলে সম্বোধন করে থাকে। তার অনিয়ম-দুর্নীতির সামান্য পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো।
সরকারী খাতের অর্থ আত্মসাৎ
কোড ঃ ৩২১১০২ খাত : পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা: ভাড়াটিয়া বিল্ডিং এর হুয়াইট ওয়াশ না করে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকার তুলে নিয়েছেন। কোড ঃ ৩২৪৩১০১ খাতঃ পেট্রল,ওয়েল ও লুব্রিকেটঃ ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছেন । কোডঃ ৩২৪৪১০১ খাতঃ ভ্রমন ব্যয়ঃ এজির ও অডিট এর ভয় দেখিয়ে২০% কেটে নেন । কোড ঃ ৩২৫৫১০৫ খাতঃ অন্যান্য মনিহারি ঃ ২০১০ইং থেকে ২০২০ইং সাল পর্যন্ত ভুয়া বিল করে লক্ষ টাকা তুলে নেন। কোড ঃ ৩২৫৮১০৩ খাতঃ কম্পিউটার: ইচ্ছামত বিল করে নেন মোটা অংকের টাকা। কোড ঃ ৪১১২৩১৪ আসবাবপত্র ঃ টঐ্ঋচঙ এর চেয়ার ক্রয় করেন এবং লিও সাইন বোর্ড লাগিয়ে প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেন। অর্থ বৎসর ২০১০-২০১১ইং হইতে ২০১৯-২০২০ইং পর্যন্ত কমপক্ষে দশ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন । করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে লক্ষ লক্ষ টাকা চুরি করেছেন।যেহেতু ভাড়াটিয়া বাড়ীতে তাই পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য কাজ না করেই টাকা তুলে নেন ।
একাই পাঁচ পদে অলিয়ার রহমান!
গত ০৫/০৪/২০১০ইং তারিখে তিনি প্রধান সহকারী হিসাবে অত্র কমপ্লেক্সে যোগদান করারপর তিনি ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব গ্রহন করে ও অফিস সহকারী মোছাঃ শাহিদা খাতুনকে তাড়াইয়া দিয়ে সে দায়িত্ব তিনি গ্রহন করেন। এ ছাড়াও পরিসংখ্যানের দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন। এ ছাড়াও স্যানিটারী ইন্সপেক্টর এর খাদ্যের দায়িত্বে তিনি থাকেন। অর্থাৎ তিনি একাই ৫(পাঁচ) টি পদে বহাল তবিয়তে আছেন। যার ফলে সরকারী টাকা ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করিতে সহজ হয় । তিনি ডিজি অফিসের আফজাল হোসনের মতই একজন বিত্তশালী কর্মচারি। তার গ্রামের বাড়ি নড়াইলে পাঁচ তলা ৪ (চার) ইউনিটের বিলাশ বহুল বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে ।
অলিয়ার রহমান পিতাঃ মৃত ইসসাইল মোল্যা, প্রধান সহকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,সদর,মাগুরা ১৩তম গ্রেড,০৫-০৪-১০ইং বর্তমান পদে যোগদান করেন । তার জন্ম তারিখ ০৫/০৯/১৯৬৬ইং, সদর, নড়াইল। তিনি ১০ম গ্রেড নিজে তৈরী করে ৮০০০-১৬৫৪০ মাগুরা সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ সাধারন নির্বাচন-২০১৬ তে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হওয়ার জন্য নামের তালিকা প্রেরন করেন। তিনি সরকারী চাকুরীতে ০১-০৩-১৯৯৩ইং তারিখে নিমান সহকারী কাম মুদ্রাঃ হিসাবে সিভিল সার্জন অফিসে যোগদান করেন ।
রাজননৈতিক সম্পৃক্ততা
তার পিতা মো: ইসমাইল মোল্যা মুসলিম লীগ করতেন। তার বড় ভায়রা মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন বিএনপি নেতা। তারা একই বাড়িতে থাকেন।
সরকারী চাকুরী বিধি পরিপন্থি কার্যবলী
তিনি মোঃ গোলাম হোসেন এসএসিএমও জগদল ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র সদর, মাগুরাকে ছাড়পত্র প্রদান করেন। কোন কর্মচারি কিভাবে ইস্যু স্মারক নং প্রদান পূর্বক ঐজগ হইতে উক্ত বদলী আদেশপ্রাপ্ত কর্মচারীকে রিলিজ করেছেন । ছাড়পত্রে অলিয়ার রহমান নিজে স্বাক্ষর করেন।
তিনি ইস্যু রেজি: অসৎ উদ্দেশ্যে মেমো নম্বর ফাকা রাখেন। অলিয়ার রহমান পরিসংখ্যানবিদ এর দীর্ঘ দিনের ট্রেনিং কম্পিউটারের প্রশিক্ষনে ঢাকা যাইতে নিয়জিত ছিলেন। তিনি বহিঃ বাংলাদেশ ছুঁটি পাস না করাইয়া গত ২৩/০৯/২০১৮ইং তারিখে ভারত থেকে মাগুরায় আসেন।
তিনি ০৫/০৪/২০১০ইং তরিখ হইতে অদ্যাবধি প্রাই ১০ বৎসরের অধিক কাল একই ষ্টেশনে চাকুরী করার দরুন অর্থ আত্মসাৎ করার সমস্ত ব্যবস্থা তার জানা । আরও প্রধান সহকারী,ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী,পরিসংখ্যান সহকারী,ষ্টোর সহকারী পদই তিনি জোর করে নিয়েছেন।
অলিয়ার রহমান সমস্ত ট্রেনিং এর সেক্রেটারীর দায়িত্ব নিজে নিয়ে নেয় । এবং নাস্তার ও মালামালের দায়িত্বওে নিজের হাতে নেয়।ভিটামিন এ পাস, ক্যাম্পেইন, এনসিডি ট্রেনিং,হামরুবেলা ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের টাকা ভাগাভাগী করে নিয়েছেন।
অলিয়ার রহমান পোটারদের মাসিক বেতন ৬২০০/- টাকা থেকে কেটে ৫২০০/- টাকা প্রদান করেন।
কমিউনিটি ক্লিনিক সমুহের জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করে অলিয়ার রহমান টাকা কেটে রাখেন (ক) দৈনিক অনিয়মিত শ্রমিকের মজুরী বাবদ ১২ মাসের জন্য ৮৬৪০।= টাকার মধ্যে ৫৬০০।= টাকা প্রতি সিসিতে দেয়া হয় । (খ)ঔষধ পরিবহন ব্যায় বাবদ ১২মাসের জন্য ৪০০০ টাকার মধ্যে ১৬০০ টাকা প্রদান করেন । (গ) সিল এন্ড ষ্ট্যাম্প ও অন্যান্য মালামালের টাকা আত্মসাৎ করেন।
নির্যাতন ও মাস্তানি
অলিয়ার রহমান এর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যারা তারা হলেন সহকারী সার্জন-ডাঃ অনুকা কুন্ডু, ডাঃ যুখি সরকার,ডাঃ উম্মে আয়েশা, ডাঃ সোফাইয়া সুলতানা, ডাঃ মৌসুমী কুন্ডু। সিনিয়র ষ্টাফ নার্সঃ চন্দ্রা অধিকারী, সাবিনা ইয়াছমিন ও হ্যাপী বাড়ৈই । মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্টঃ- জেসমিন সুলতানা,মোঃ আঃ সালাম,অচিন্ত সাহা, স্বাস্থ্য সহকারী ফিরোজা বেগম, জেসমিন পারভিন,জুলেখা পারভিন, শিখা রানী পাল, নমিতা প্রভা বিশ্বাস, মাহাবুব আলম, সিএইচসিপি নিলিমা বাড়ৈই,কাজী খাইরুন নাহার, আতিকুল আলম, মোঃ তুজ্জাম্মেল হক, লিটন বিশ্বাস, মোঃ ওমর ফারুক, রোজিনা খাতুন, বন্ধনা রানী বিশ্বাস, মিহির সরকার,সুবর্ণা রায়, সোহেল রানা, শাম্মী আক্তার, কুদরত ইলাহি হায়দার (সাসপেন্ড) ও রকিব মোল্যা (সাসপেন্ড) আরও অনেকে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মো: অলিয়ার রহমান বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি যে কোন তদন্তের মুখোমুথি হতে প্রস্তুত আছি।
অপসারণ ও তদন্ত দাবী
প্রধান সহকারী মে: অলিয়ার রহমানের এসব অফিিসয়াল দুর্নীতি তদন্ত ও তাকে এই পদ থেকে অপসারলের জোর দাবী তুলেছেন সচেতন মাগুরাবাসী।
















