অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলার তথ্য গোপন করে আবেদন : চাকুরীতে ফিরতে প্রকৌশলী নাজমুলের হাইভোল্টেজ তদবীর!
বিশেষ প্রতিবেদক:
দুদক কর্তৃক দায়েরকৃত বিচারাধীন অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলার তথ্য গোপন করে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হক তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন। নৌপারবহন মন্ত্রণালয়ে এই আবেদনপত্র জমা দিয়েই তিনি সতীর্থদের কাছে ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আবার স্বপদে যোগদান করতে যাচ্ছেন। এ সংক্রান্ত তার আবেদনের ফাইলটি নাকি উচ্চ মহলের সুপারিশসহ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের টেবিল হয়ে নৌ প্রতিমন্ত্রীর টেবিলে স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হকের এমন কথায় নৌ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা হতবাক হয়েছেন। তাদের প্রশ্ন দুদক কর্তৃক দায়েরকৃত ২ টি মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তিনি কিভাবে ভাবে চাকুরীতে যোগদান করবেন। এ সংক্রান্ত আইন বা বিধি কোথায়? তিনি কি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন? নাকি মামলা ২ টি উচ্চ আদালতে স্থগিত করা হয়েছে? এমন কোন রায় বা আদেশের সার্টিফাইট কপি কি তিনি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন? তা যদি জমা দিয়ে না থাকেন তাহলে কিসের ভিত্তিতে তার আবেদনের ফাইলটি মন্ত্রণালয়ে প্রসেস হলো? কিভাবে সচিবের টেবিলে গেল? আর কোন বিধি বিধান বলে সচিব মহোদয় ফাইলটি প্রতি মন্ত্রীর নিকট পাঠালেন?
এ প্রসংগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবি বলেন, সরকারী চাকুরী সার্ভিস রুলস মোতাবেক কোন সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারি যদি কোন ফৌজদারী মামলায় আসামী হয়ে আটক হন, জেল হাজত ভোগ করেন, দন্ডিত হন বা মামলায় বিচারাধীন থাকেন তবে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হবেন এবং যতদিন না ওই মামলা থেকে নির্দোশ প্রমাণিত না হন বা আদালতের রায়ে খালাস বা অব্যাহতি না পান ততোদিন তিনি চাকুরীতে ফিরতে বা যোগদান করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এস এম নাজমুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দুদকের দায়েরকৃত ২ টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে যার নং শাহবাগ থানার মামলা নং ১৬৯৬/ ২(৫) তাং ১৩/০৪/২০১৮। এটি দুদকের একটি ফাঁদ মামলা। সেগুন বাগিচার একটি চাইনিজ রেস্তুরায় বসে নৌযান কোম্পনীর প্রতিনিধির কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহনের সময় তিনি দুদক টিমের হাতে গ্রেফতার হন। অপর মামলাটি হলো, ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত দুদকের মামলা। মামলা নং ২(২) ২০২০। মেট্রো স্পেশাল কেস নং ৩১/২০২০। দুদক জি আর নং-১৬/২০২০। এর মধ্যে ফাঁদ মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহন চলছে। তাহলে এস এম নাজমুল হক কোন বিধি বিধানের ভিত্তিতে স্বপদে ফেরার বা সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে চাকুরীতে যোগদানের সুযোগ চেয়েছেন? তার জন্য কি সরকার আলাদা কোন আইন পাশ করেছে? ২ টি মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এস এম নাজমুল হক যদি উচ্চ মহলের তদবীরে প্রতি মন্ত্রীর সন্মতি বা স্বাক্ষর পেয়ে যান তবে জনপ্রশাসনের অতীতের সকল রেকর্ড ভংগ হবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। উল্লেখ্য যে দুটি ফোজদারী মামলা আদালতে বিচারাধিন থাকা অবস্থায় প্রকৌশলী নাজমুল হক গত ৩১/০৮/২০২০ ইং তারিখে নৌ-প্রতিমন্ত্রীর বরাবরে তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মতামত গ্রহন পুর্ব্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের লিখিত আবেদন জানান।
এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন
সর্বশেষ জানাগেছে, প্রকৌশলী এস এম নাজমুল হকের আবেদনটি বিবেচনার যোগ্য কি না বা এ বিষয়ে আইনের কি ব্যাখ্যা আছে তা জানার জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা দ্বারা এক সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১ মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
















